সাইকোসিস মায়াজম

সাইকোসিস মায়াজম- এর রোগী দেখার কৌশল- আসুন জেনেনেই সাইকোসিস গনোরিয়া নয়। গনোরিয়া হল একটি তীব্র সংক্রমণ, যা গনোক্কাস দ্বারা সৃষ্ট এবং ইউরেথ্রাইটিস হতে প্রায় পাঁচ থেকে দশ দিন সময় লাগে। যদি এটি সম্পূর্ণ নিরাময় হয় তবে সাইকোসিস কখনই বিকাশ করে না।

গনোরিয়া দমন করা হলেই, সাইকোসিস (মিয়াসম) প্রতিষ্ঠিত হয়। যারা গনোরিয়া অর্জন করে তারা সবাই সাইকোসিস মায়াজমের দিকে অগ্রসর হয় না কিন্তু একবার এটি প্রতিষ্ঠিত হলে, এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রেরণ করা হবে। ডক্টর এন. ঘটক বলেছেন, “এটি মানুষের বাইরে একটি পশু তৈরি করে”চোর, ছিনতাইকারী, খুনি ইত্যাদি সবই সিকোসিসের পণ্য।

সাইকোসিস মায়াজম
সাইকোসিস মায়াজম

সাইকোসিস মায়াজম এর রোগী চেনা।

সাইকোসিস: সাইকোসিসের রোগীর দিকে তাকালে প্রথমেই অপনার নজরে পড়বে মৃত ব্যক্তির ন্যায় তার মলিন, নীলাভ, পাংশু, শোথগ্রস্ত এবং রক্তশূন্য ফ্যাকাশে চেহারা ও নিস্তেজ কন্ঠস্বর। তার এই মলিন ও রক্তশূন্য ফ্যাকাশে চেহারার কারণ হচ্ছে সাইকোসিস।

Read More: SKIN CYSTS এর রোগী

ফসফরাস হোমিওপ্যাথি মেডিসিন

সর্ব প্রথম রোগী দেহের লোহিত কণিকাগুলিকে আক্রমণ করে এবং এর ফলে একটি নিরক্তভাব ও শরীরস্থ বিভিন্ন পথে যে কোন রূপ স্রাবের একটি সহজ প্রবণতার আবির্ভাব হয়। এ আক্রমণ হতে দেহের যাবতীয় শিরা, উপশিরা, মাংসপেশী এবং বিভিন্ন কোষাদি কোনটিই রেহাই পায় না।

রোগীর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে গোপন জায়গাগুলিতে যেমনঃ জননাঙ্গে আঁচিল এবং শরীরের যে কোন জায়গায় যে কোন ধরনের টিউমার,মাংস মাংস বৃদ্ধি ইত্যাদি সবই সাইকোসিসের চিহ্ন। আবার দাদ প্রভৃতি চর্মরোগ লক্ষণও প্রায়ই সাইকোটিক।

রোগীর সাথে সামান্য আলাপ চারিতায়ই বুঝতে পারনে যে, রোগী অত্যন্ত গোপনপ্রিয় এবং সন্দেহ প্রবণ। পাছে অন্য কেউ তার রোগের বিষয় কিংবা তার সাংসারিক বিষয় জানতে পারে এই ভয়ে সাইকোটিক রোগী র্সদাই প্রকৃত ভাব গোপন করার চেষ্টা করে।

জীনের সর্বক্ষেত্রে সে এতই গোপনপ্রিয় যে, নিজের স্ত্রীকে পর্যন্ত বিশ্বাস করতে পারেনা। পায়ের গোড়ালীতে ব্যথা বা গোড়ালীর স্পর্শ কাতরতা সাইকোসিসের একটি বৈশিষ্ট্য জনক লক্ষণ যে লক্ষণটি মেডোরিনাম নামক ঔষধটিতেও বৈশিষ্ট্যজনক ভাবেই আছে। ঝড় বৃষ্টি বা কেবলই ঝড় আসার পূর্বে তার অতি ঘনঘন প্রস্রাবের বেগ হতে থাকে।

রোগী অত্যন্ত খিটখিটে ও ক্রোধী এবং এই ক্রোধ আবার ঝড় বাতাসও ঋতুর পরির্তনে বৃদ্ধি পায়। আবহাওয়াগত পরিবর্তন ও উঠানামার কারণে যেমন ব্যারোমিটারের পারদের ঘনত্বেরও উঠানামা হয়।

ঠিক তেমনি আবহাওয়াগত পরিবর্তনের সাথে সাথে সাইকোটিক রোগীর মন মেজাজ ও রোগ লক্ষণেরও উঠানামা করে বিধায় অনেক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সাইকেটিক রোগীকে জীবন্ত ব্যারোমিটার হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন।

 

সাইকোসিস মায়াজম
সাইকোসিস মায়াজম

 

গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলেই দেখা যায় যে, ঝড় বাতাস ও ঋতুর পরিবর্তনে সাইকোটিক রোগীর দেহ ও মনে নানা প্রকার পরিবর্তন ঘটে। তার খিটখিটে ও ক্রোধী মেজাজটি আরো বেশ খিটখিটে হয়ে উঠে। এ অবস্থায় তার এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াতে ইচ্ছে হয় এবং ঘুরে বেড়ালে তার রোগ লক্ষণ সমূহের উপশম হয়।

সাইকোসিস মায়াজম এর  প্রধান লক্ষণ কি?

সাইকোসিস মায়াজম এ রোগীর রোগলক্ষণ যাই হোকনা কেন অস্থিরতা এর একটি প্রধান লক্ষণ।কাজেই সর্বাবস্থায়ই মনে রাখতে হবে যে, সাইকোসিসের যাবতীয় রোগলক্ষণ সঞ্চালনে বা ঘোরা ফিরা করলে উপশমিত হয়।

অপরিচিত ব্যক্তির নিকট গমন করলে বা যানবাহনে চড়লে টিউবারকুলার রোগীর মাথা ব্যথা হয়। বিনা কারণে বা সামান্য কারণেই রোগীর ঠান্ডা লাগে। যেখানেই কোন প্রকার সদি বা স্রাব (নাকের সর্দি, কানের সর্দি, চোখের সর্দি, জরায়ুর সর্দি ইত্যাদি)

বাত এবং অর্শ আছে সেখানে সাইকোসিস। সাইকোটিক শিশুদের মধ্যে সাইকোসিসের চিহ্নগুলি (Signs) হচ্ছে শিশুকলেরা (Infantile cholera), দুষ্ট জাতীয় পেটের রোগ, অতি অম্লগন্ধযুক্ত উদরাময়, আক্ষেপ, দন্তোদ্গমের সময় যাবতীয় কষ্ট ইত্যাদি।

রাত্রে নিদ্রার সময় মাথাটি বেশ ঘামে এবং ঘন ঘন সর্দি হয়। স্ত্রীলোকদের জননেন্দ্রিয়, ডিম্বাধার প্রভৃতিতে যেখানে অশ্যই স্রাবের সহিত কষ্ট ও বেদনা বর্তমান থাকে সেখানে সাইকোসিস অবশ্যই আছে।

সাইকোসিসের নিম্নোক্ত লক্ষণগুলি যেগুলিকে হোমিওপ্যাথি মতে রোগের চিহ্ন (Signs) বা বস্তুগত লক্ষণ (Objective symptoms) অথবা রোগের ফল এবং অ্যালোপ্যাথি মতে রোগ বলা হয় সেগুলি যখন রোগীর মধ্যে পাওয়া যাবে তখন আমরা বুঝব যে, রোগীর মধ্যে সাইকোসিস আছে কারণ সাইকোসিস ছাড়া এ চিহ্নগুলি রোগীর মধ্যে আসতে পারেনা।

সেই চিহ্নগুলি হচ্ছে শরীরস্থ যাবতীয় ছিদ্রপথ যেমন: নাক, কান, জরায়ু ইত্যাদি হতে যন্ত্রণাদায়ক কোন প্রকার অস্বাভাবিক স্রাব, প্রস্রাব  সংক্রান্ত বিশৃঙ্খলা ও যাতনা, কাসি ও যন্ত্রণাদায়ক স্বরভঙ্গ, হৎপিন্ডের দুর্বলতাজনিত শ্বাসকষ্ট, শুষ্ক জাতীয় হাঁপানি, মেরুমজ্জার যন্ত্রণাযুক্ত স্থায়ী প্রদাহ, হৃৎপিন্ডের যাতনা ও  স্নায়বিক দূর্বলতা।

মস্তিষ্কের আবরক ঝিল্লীর প্রদাহ বা মেনিঞ্জাইটিস, বসন্ত, সূতিকা জ্বর, অহেতুক লিঙ্গোচ্ছাস, স্নায়ুশূল, অধিকাংশ বাত, ফুলকপির আকার বিশিষ্ট আঁচিল, টিউমার বা অধিকাংশ মারাত্মক জাতীয় টিউমার বা মাংস বৃদ্ধি, অন্ডকোষ প্রদাহ, হাইড্রোসিল, মূত্রকোষে ও মূত্রথলিতে পাথর জমা, গর্ভাবস্থায় বা প্রসবকালীন মূর্ছা ও খিচুনী, প্রসবের পর ভ্যাদাল ব্যথা, গর্ভস্রাব, যন্ত্রণাদায়ক ঋতু পীড়া, সর্দি, হুপিং কাসি, উদরশূল, হার্পিস ও ছোট ছোট পূজশূণ্য ব্রণ ইত্যাদি।

Resources:

1.https://www.sciencedirect.com/

2. https://dirstop.com/

Similar Posts