|

হোমিওপ্যাথিতে আরোগ্য নীতি

হোমিওপ্যাথিতে আরোগ্য নীতি শুধু রোগ সারানো নয়, বরং শরীর, মন ও আত্মার প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া। জানুন কীভাবে এই নীতি সুস্থ জীবনের দরজা খুলে দেয়।

 

হোমিওপ্যাথিতে আরোগ্য নীতি [অনুচ্ছেদ: ২৬ –৩৪]২৬ ব্যাখ্যা

 

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শাস্ত্রে : [অনুচ্ছেদ: ২৬ –৩৪]২৬ ব্যাখ্যা। হোমিওপ্যাথিতে আরোগ্য ক্রিয়া। অনুচ্ছেদ: ২৬ মানবদেহে একই সাথে যদি দুটি সদৃশ প্র্রাকৃতিক রোগ অবস্থান করে তাহলে তাদের মধ্যে কম শক্তিশালী রোগটি(উৎপত্তির দিক থেকে ঔষধ ও রোগের উৎস ভিন্ন হতে হবে) বেশী শক্তিশালী রোগটি কর্তৃক স্থায়ীভাবে বিতাড়িত হয়।

হোমিওপ্যাথিতে আরোগ্য নীতি
হোমিওপ্যাথিতে আরোগ্য নীতি

‘This depends on the following Homoeopathic lwa of nature which was sometimes, indeed, vaguely, surmised but not hitherto fully recgni“ed, and to which is due every real cure that has ever taken place: A weaker dynamic affection is permanently extinguished in the living organism by a stronger one, if the latter (whilst differing in kind) is very similar to the former in its manifestations).’

অর্থাৎ ইহা নিম্নোক্ত প্রকৃতির নিয়মের উপর নির্ভর করে যা প্রকৃতপক্ষে কখনও কখনও অস্পষ্টভাবে অনুমিত হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত পরিপূর্ণভাবে স্বীকৃত হয়নি এবং পৃথিবীতে এ পর্যন্ত যত আরোগ্য সংঘটিত হয়েছে তা এই সদৃশ নিয়মের কারণেই হয়েছে।

জীবন্ত দেহে অধিকতর কম শক্তিশালী একটি রোগ অধিকতর বেশী শক্তিশালী একটি রোগ দ্বারা স্থায়ীভাবে বিতাড়িত হয় যদি লক্ষণের দিক থেকে শেষেরটি (যখন উৎপত্তির দিক থেকে ভিন্ন) আগেরটির সাথে অত্যন্ত সদৃশ হয়।

এই অনুচ্ছেদে হ্যানিম্যান বলছেন যে, মানসিক এবং শারীরিক উভয় প্রকার রোগই এভাবে সদৃশ নীতিতে আরোগ্য হয়। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন যে, অধিকতর শক্তিশালী সদৃশধর্মী সমাগত দিবসের ঔজ্জ্বল্য চোখের স্নাযুর উপর ক্রিয়া করে বলেই যেমন উজ্জ্বল বৃহস্পতি গ্রহটি অতি প্রত্যুষে দর্শকের দৃষ্টিহতে অদৃশ্য হয়ে যায়, যে নস্য ব্যক্তির ঘ্রানেন্দ্রিয়কে অভিভূত করতে পারে সেই নস্যের দ্বারাই যেমন তাকে সুস্থ্য করে তোলা যায়।

Read More:শারীরিক অবয়ব সোরা মায়াজমের

বাঁশরীর কর্ণ বিদারী সুর ও দামামার তীব্র শব্দের সংমিশ্রণের দ্বারাই যেমন নির্যাতিত প্রতিপক্ষের করুণ আর্তনাদকে চাপা দেয়া হয়, দূর হতে শ্রুত শত্রুর ভীতিপ্রদ কামানের যেমন বৃহৎ রণদামামার উচ্চ নিনাদ দ্বারা নির্বাপিত করা হয়।

অপরের অধিকতর বিপদের কাহিনী শ্রবণ যেমন নিজের মনের শোক ও দুঃখকে মুছে দেয়, মাত্রাতিরিক্ত আনন্দের ক্ষতিকর কুফলকে যেমন কফি পানের দ্বারা দূরী ভূত করা হয়।

জার্মান জাতি পাশ্চাত্য বিজেতাগণ কর্তৃক কঠোর হতে কঠোরতর ভাবে পদ্দলিত হয়ে যেমন দাসত্বের শৃঙ্খলা থেকে স্বাধীনতা লাভ করেছে। রোগও তেমনি অধিকতর শক্তিশালী সদৃশ রোগ দ্বারাই বিতাড়িত হয়ে থাকে। আরও পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়,

 

১. ‘A weaker dynamic affection.’হোমিওপ্যাথিতে আরোগ্য নীতি 

 

হ্যানিম্যান এখানে: বলতে রোগীর লক্ষণসমষ্টিকে বুঝিয়েছেন এবং ‘stronger one.বলতে বুঝিয়েছেন ঔষধের লক্ষণসমষ্টিকে। হোমিওপ্যাথি মতে রোগীর লক্ষণসমষ্টিই হচ্ছে তার রোগ এবং কোন ঔষধের লক্ষণ সমষ্টি বলতে সেই ঔষধটিকেই বুঝায়।

মনে করুন, আপনার এজন রোগীর কেইস রেকর্ড তৈরী করে দেখলেন যে, যে লক্ষণসমষ্টি পাওয়া গেল তা ক্যালকেরিয়া কার্বের লক্ষণসমষ্টি।

সুতরাং ‘A weaker dynamic affection is permanently extinguished by a stronger one.’ কথাটি দিয়ে তিনি বুঝিয়েছেন যে,ঔষধের শক্তি রোগীর রোগের শক্তি অপেক্ষা অধিক হতে হবে।Read More:মায়াজম এবং ডায়াথিসিস শব্দ দুটির মধ্যে পার্থক্য কি? 

আরও সহজ করে বললে বলা যায়, রোগীর রোগকে (অর্থাৎ  রোাগীর লক্ষণসমষ্টিকে) তার চেয়েও শক্তিশালী অপর একটি অনুরূপ কৃত্রিম রোগ (অর্থাৎ ঔষধ বা ঔষধের লক্ষণসমষ্টি) দ্বারা বিতাড়িত করতে হয়।

এটা সম্ভব একারণে যে, রোগ, ঔষধ ও জীবনীশক্তি প্রত্যেকেই এক একটি শক্তি। এখন রোগী যদি আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, আমার কি রোগ হয়েছে ?

এ প্রশ্নের উত্তরে আপনি সহজেই বলতে পারেন, ‘আপনার যে রোগ হয়েছে তার নাম ক্যালকেরিয়া কার্ব’ অর্থাৎ রোগীর জন্য নির্বাচিত ঔষধটি হচ্ছে ক্যালকেরিয়াকার্ব।

 

২. ‘If the latter is very similar to the former in its manifestations’হোমিওপ্যাথিতে আরোগ্য নীতি

কথাটি দিয়ে তিনি বুঝিয়েছেন যে, রোগীর রোগের লক্ষণসমষ্টি এবং ঔষধের লক্ষণসমষ্টি অত্যন্ত সদৃশ হতে হবে। এটা খুব স্বতসিদ্ধ কথা যে, রোগীর রোগের লক্ষণসমষ্টি ঔষধের লক্ষণসমষ্টির সাথে অত্যন্ত সদৃশ নাহলে ঔষধ আশানুরূপ ফল দেয়না।

 

৩. ‘Whilst differing in kind.’

 

কথাটি দিয়ে তিনি বুঝিয়েছেন যে, রোগের উৎস (অর্থাৎ রোগের কারণ) এবং ঔষধের উৎসও ভিন্ন হতে হবে। অন্য কথায়,ঔষধের শক্তির ও রোগের শক্তির মূল ভিন্ন হতে হবে।

এভাবে রোগশক্তি এবং ঔষধশক্তির কারণ যদি ভিন্ন হয় কিন্তু তাদের বাহ্যিক বিকাশ (অর্থাৎ লক্ষণসমষ্টি) একই প্রকৃতির হয় তাহলে সেটিই হবে প্রকৃত হোমিওপ্যাথি।Read More:হোমিওপ্যাথি রোগীলিপি তৈরী সঠিক ও কার্যকর পদ্ধতি

এর কারণ হচ্ছে রোগের এবং ঔষধের শক্তির উৎস যদি ভিন্ন হয় কেবল মাত্র তাহলেই ঔষধ লক্ষণসমষ্টির ভিত্তিতে প্রয়োগ করা সম্ভব হয়। কিন্ত রোগের উৎস ও ঔষধের উৎস যদি একই হয় তাহলে ঔষধ রোগের নামে প্রয়োগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

যেমন: কার্সিনোসিন, টিউবারকুলিনাম, মেডোরিনাম, সিফিলিনাম ইত্যাদি ঔষধ যখন লক্ষণ সমষ্টির ভিত্তিতে প্রয়োগ হয় তখন তা অবশ্যই হোমিওপ্যাথির নিয়মেই প্রয়োগ হয়।

কিন্তু ক্যানসার হলেই কার্সিনোসিন, কাশি হলেই টিউবারকুলিনাম, গনোরিয়া হলেই মেডোরিনাম, সিফিলিস হলেই সিফিলিনাম প্রয়োগ মানেই হচ্ছে ক্লিনিক্যাল রোগের নামে ঔষধ প্রয়োগ যা প্রকৃত হোমিওপ্যাথি নয়, বরং তা আইসোপ্যাথি

অনুচ্ছেদ: ৩৪

এই অনুচ্ছেদে হ্যানিম্যান যা বলেছেন তার সারমর্ম হচ্ছে:

  •  প্রকৃত আরোগ্যকর ঔষধ এবং রোগের প্রকৃত কারণ উভয়েই অদৃশ্য।
  • আরোগ্যের জন্য ঔষধের ও রোগের উৎপত্তির উৎস ভিন্ন হতে হবে। [ব্যাখ্যার জন্য অনুচ্ছেদ: ৫০ ও ৫১ দ্রষ্টব্য]
  •  ঔষধের ও রোগের শক্তি কর্তৃক উৎপাদিত লক্ষণসমূহ (অর্থাৎ একদিকে যেমন ঔষধের লক্ষণসমষ্টি অন্যদিকে তেমনি রোগীর লক্ষণসমষ্টি) অত্যন্ত সদৃশ হতে হবে।
  •  ঔষধের শক্তি রোগের শক্তি অপেক্ষা উচ্চতর হওয়া আবশ্যক। অন্য কথায়, ঔষধের লক্ষণসমষ্টির শক্তি রোগীর লক্ষণসমষ্টির শক্তি অপেক্ষা অধিকতর বেশী হতে হবে।

বি: দ্র: এই অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা করতে হলে অনুচ্ছেদ ৫০ ও ৫১ এবং ৫৬ নম্বর অনুচ্ছেদের ৬৩ নম্বর পাদটিকার সাহায্য নিতে হবে।

Best homeopathy doctor near me

Homeo pharmacy near me

সিটি হোমিও হল

রূপায়ন মিলেনিয়াম স্কয়ার,দোকান নং-116
( গ্রাউন্ড ফ্লোর) উত্তর বাড্ডা, ঢাকা 1212,বাংলাদেশ।
01736181642

 

আপনি পড়তে পারেন

homeopathic medicine for weight loss

junk food and healthy food paragraph

Insomnia/অনিদ্রা সমস্যার জন্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

আর্থ্রাইটিস রোগের হোমিও ঔষধ ও চিকিৎসা

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে এই ৭ দিনের ডায়েট চার্ট

পুরুষের শক্তি বৃদ্ধিতে হোমিওপ্যাথি: টেস্টোস্টেরন হরমোন বাড়ানোর প্রাকৃতিক উপায়

https://bismillahhomeocare.com

Similar Posts