গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য সচেতনতা যা প্রয়োজন তা জেনে নিন

গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য সচেতনতা যা প্রয়োজন তা জেনে নিন  – নারীদের অন্যান্য সময়ের তুলনায় গর্ভবতী মায়ের অতিরিক্ত সচেতনতা ও যত্নের প্রয়োজন হয়। গর্ভবতী মায়ের নারীর স্বাস্থ্য সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়এসময় নারীর শরীরে অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তাই এই পরিবর্তনগুলো মানিয়ে নিয়ে নিজেকে তৈরি করা একান্ত প্রয়োজন। গর্ভধারণের পরে নারীর স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর ফলে গর্ভকালীন জটিলতাগুলি হ্রাস পায় এবং মা এবং শিশু উভয়েরই সুস্থতা বৃদ্ধি পায়

কি কি সচেতনতা অবলম্বন করলে গর্ভধারণের পরে একটা সুস্থ বাচ্চাকে জন্ম দিতে পারেন এবং মা ও  বাচ্চা উভয়েই সুস্থ থাকবে আমি আমার এ ব্লগে তা তুলে ধরবো। চলুন আলোচনা শুরু করা যাক।  

চলুন আজকে আমরা জানবো কি কি টপিক গুলো আলোচনা করব –  

  • গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ কি?
  • গর্ভবতী মায়ের খাবার : যা প্রয়োজন তা জেনে নিন
  • গর্ভবতী মায়ের যেসব খাবারগুলি খাওয়া যাবে
  •  গর্ভবতী মায়ের যেসব খাবারগুলি খাওয়া যাবে না
  • গর্ভবতী মায়ের ঘুম
  • গর্ভবতী মায়ের গোসল
  • গর্ভবতী মায়ের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
  • গর্ভবতী মায়ের পোশাক-পরিচ্ছদ
  • গর্ভবতী মায়ের ভ্রমণ
  • গর্ভবতী মায়েদের জন্য ব্যায়াম
  • গর্ভাবস্থায় যেসব ব্যায়াম করা যেতে পারে
  • গর্ভবতী মায়েদের যেসব কারণে ব্যায়াম করা নিষেধ
  • গর্ভবতী মায়ের যেসব ঝুঁকি এড়িয়ে চলা উচিত 
  • গর্ভবতী মায়ের সচেতনতা
  • উপসংহার

 

গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ কি 

প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য সচেতনতা যা প্রয়োজন তা জেনে নিন এব্লগে গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ কি? সাধারণত মাসিক বন্ধ হওয়াই গর্ভবতী হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ। ইহা ছাড়াও গর্ভবতী হওয়ার কিছু শারীরিক লক্ষণ আমাদের শরীরে ফুটে ওঠে। আসুন দেখে নেওয়া যাক সে লক্ষণগুলো কি কি?

  • যে নারীর স্বাভাবিক এবং নিয়মিত ঋতুস্রাব হয়, বিবাহ অথবা বিবাহ বর্হিঃভূত যৌনমিলনের ফলে ঋতুস্রাব বন্ধ হলে।
  • মর্নিং সিকনেসকে গর্ভবতী হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে মনে করা হয়।
  • অ্যাস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনোর মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফলে অধিকাংশ গর্ভবতী মাদের সকালে বমি বা বমি বমি ভাব এবং মাথা ঘুরানো হয়ে থাকে। এটা অনেক সময় এক মাসের আগে থেকেই শুরু হয়, থাকে তিন মাস পর্যন্ত। 
  • স্তন ফুলে যায়,স্তনে চাপ দিলে ব্যথা অনুভব হয় এবং স্তন ভারী হয়ে যায়।    
  • কোন কোন মহিলার গর্ভধারণের পরে প্রথম তিনমাসে প্রচুর পরিমাণে সাদা স্রাব যায়। হরমোনের পরিবর্তন এবং জরায়ুতে অত্যাধিক রক্ত পরিসঞ্চালনের জন্য এই স্রাব হয়ে থাকে। এরসাথে মাসিকের ব্যথার মত পেটে ব্যথা হয়ে থাকে। 
  • গর্ভবতী হওয়ার কারণে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। একাধারে ১৮ দিনের বেশি তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চলতে থাকে । 
  • হালকা মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।
  • খাবারে অরুচি অথবা কোন খাবারের প্রতি অতিরিক্ত চাহিদা থাকতে পারে। 
  • ঘনঘন প্রস্রাবের বেগ হয়, এটা প্রথম তিন মাস এবং শেষের তিন মাসে থাকে বেশি।
  • ঘনঘন  প্রস্রাব এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থাকতে পারে জরায়ু বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এটি হয়ে থাকেচিকিৎসার পরিভাষায় একে, প্রেশার সিম্পটোম্পস বলে- পায়ের দিকের রক্তনালীতে চাপপড়ার ফলে পায়ে শোথ দেখা দিতে পারে, যা প্রসব এর পরে স্বাভাবিক হয়ে যায়
  • মন মেজাজ উঠানামা করা, সে কি চায় তা সে নিজেই জানে না। 

আপনি যদি একটি সুস্থ বাচ্চা এবং নরমাল ডেলিভারি হতে চান তাহলে আপনাকে কয়েকটি বিষয়ের প্রতি বিশেষভাবে নজর দিতে হবে, যেমন- পরিমিত আহার, সুনিদ্রা, প্রতিদিন নিয়মিত গোসল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা, পরিষ্কার পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করা, নিয়মিত সকাল-বিকাল-রাতে কিছু সময় হাঁটা এবং হালকা ব্যায়াম করা। গর্ভধারণের পরে গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর জন্য এখানে কিছু অতিরিক্ত টিপস দেওয়া হল:

গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য সচেতনতা যা প্রয়োজন তা জেনে নিন
গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য সচেতনতা যা প্রয়োজন তা জেনে নিন

 

গর্ভবতী মায়ের যেসব খাবারগুলি খাওয়া যাবে

প্রথমে আসি খাবারের প্রতি নজর দেওয়া। গর্ভবতী মায়ের সুষম খাবারের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। এমন খাবার নির্বাচন করতে হবে যেখানে দেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন এবং পরিপুষ্টতা ঘটাবে। গর্ভকালীন অবস্থায় বাচ্চা ও তার নিজের জন্য প্রতিদিন অতিরিক্ত ৩০০ ক্যালোরি খাবারের প্রয়োজন হয়। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো। অবশ্যই খাবার তালিকায় থাকবে টাটকা মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, উচ্চ মাত্রার ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, সি-ফুড, টাটকা শাকসব্জি ও পুষ্টিকর ফলমূল।

  • গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকায় প্রোটিনসমৃদ্ধ আঁশ জাতীয় খাবার রাখা।  
  • জিংকসমৃদ্ধ খাবার যেমন-ডিম, দুধ, বিভিন্ন প্রকারের ডাল, ছোলা, বিভিন্ন প্রকারের বাদাম যেমন-চিনা বাদাম, কাঠ বাদাম, কাজু বাদাম, শিমের বিচি, পরিমাণমত মুরগি ও গরুর মাংস ইত্যাদি রাখা। গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিন ১১ মিলিগ্রাম জিংকের প্রয়োজন হয়। 
  • ফলিক এসিডসমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে৷ যেমন আখরোট, পেস্তা বাদাম, ডিম, ছোলা, মুগ, সূর্যমুখী বীজ, চিয়া সিড, শতমূলী, কমলালেবু, ব্রকলি ইত্যাদি।  
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলিক এসিডসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণে প্রথম কয়েক সপ্তাহে ভ্রূণের জন্মগত ত্রুটি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
  • গর্ভবতী অবস্থায় যদি কোনো প্রসূতি মা কমপক্ষে বারো আউন্স সি-ফুড গ্রহণ করে থাকেন, তাদের শিশুরা উচ্চতর জ্ঞানী, প্রখর স্মৃতিশক্তিধারী, মেধাবী ও দক্ষতা সম্পন্ন হয়।
  • স্বাস্থ্যকর খাদ্য খাওয়া অর্থাৎ ভিটামিন-এ, ভিটামিন-ডি এবং প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার গ্রহণ করা। উচ্চ মাত্রার ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ মাছ গর্ভবতী মা ও তার অনাগত সন্তানের জন্য বেশী উপকারী।
  • ফলমূলের মধ্যে রঙ্গিন ফলমূল প্রসূতি মায়ের জন্য বেশি ভালো। এতে বাচ্চা ফর্সা, সুস্থ ও সুন্দর হয়। যেমন-কলা, আপেল, তরমুজ, স্ট্রবেরি, চেরি,কমলা ইত্যাদি।   
  • শাকসবজি অবশ্যই টাটকা ও ফরমালিনমুক্ত হতে হবে। বাজার থেকে শাকসব্জি ও ফলমূল কিনে আনার পর সেগুলি ফরমালিনমুক্ত করে খেতে হবে। ফরমালিনমুক্ত কিভাবে করব? আধাঘণ্টা পর্যন্ত লবণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলেই ফরমালিন মুক্ত হবে। 
  • গর্ভকালীন সময়ে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে।
  • বিভিন্ন প্রকার বাদাম যেমন-চিনা বাদাম, কাঠ বাদাম, কাজুবাদাম, শিমের বিচি, মুরগির মাংস খেতে হবে।

Read More:বুকে কফ জমে শ্বাসকষ্ট হোমিওপ্যাথি ঔষধ

গর্ভবতী মায়ের যেসব খাবারগুলি খাওয়া যাবে না      

  • গর্ভবতী মায়ের খাওয়া যাবে না অতিরিক্ত গরম বা ঠাণ্ডা খাবার,যা স্বাস্থ্যকর নয় এমন খাবার, পচা বাসি  খাবার।
  • অতিরিক্ত তেল-ঝালযুক্ত খাবার, নোনা মাছ, শুটকি মাছ ।
  • ফাস্টফুড জাতীয় খাবার বন্ধ করে দিতে হবে ।
  • কাঁচা বা আধা-কাঁচা মাছ, মাংস ও ডিম খেলে বিপদের সম্মুখীন হতে পারেন।  
  • অতিরিক্ত লবণ খাওয়া যাবে না। অতিরিক্ত লবণে শরীরে পানি ধরে রাখে যার জন্য পা ফুলে যায়।
  • ফলমূলের মধ্যে আনারস, নারকেল, কামরাঙা, কাঁচা পেঁপে, অতিরিক্ত আঙুর খাওয়ানিষেধ। কারণ পেটে প্রচুর গ্যাস এবং গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 
  •  চা বা কফি পান করা যাবে না। তবে এনএইচএস (National Health Service) থেকে পরামর্শ মতে, দিনে ২০০ মিলিগ্রামের মতো কফি পান করা যেতে পারে। 
  • এনএইচএস-এর মতে আপনি দিনে এক কাপ কফি নিশ্চিন্তে পান করতে পারেন এবং এতে করে আপনার গর্ভের সন্তানের কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। 
  • ধূমপান এবং মদ্যপান যদি অভ্যাস থাকে তা অবশ্যই বর্জন করতে হবে।
  • গর্ভকালীন সময়ে ভিটামিন-এ সাপ্লিমেন্ট নেওয়া উচিৎ নয়। 

গর্ভবতী মায়ের ঘুম

গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া বাঞ্ছনীয়।তাদের দিনের বেলা কম ঘুমানোই ভালো। ঘুমের পরিবর্তে বিশ্রাম নেওয়া যেতে পারে। দিনের বেলা কমপক্ষে ২-ঘণ্টা ঘুম বা বিশ্রাম এবং রাতে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

  • ঘুমানো বা বিশ্রামের সময় বাম-কাতে শোয়া ভালো। ডান কাতে ঘুমালে শিরায় চাপ পড়ে বেশি।
  • লক্ষ্য রাখবেন শোয়ার ঘরটা যেন আরামদায়ক এবং পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকে। 
  • এসিতে থাকার অভ্যাস ত্যাগ করুন। ঢিলেঢালা পোশাক এবং সুতির কাপড় ব্যবহার করুন ।বিছানার চাদর যেন সুতির হয়। 
  • যখনই বিশ্রাম নিবেন বা শুবেন মাথায় বালিশ না দিয়ে পায়ের নিচে উঁচু করে দু’টি বালিশ দিবেন। এভাবে ব্লাড সার্কুলেশন ভালো হয়, গর্ভপাতের আশঙ্কা থাকে না এবং শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে না।   

গর্ভবতী মায়ের গোসল

গোসল করা গর্ভবতী মায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গোসল শরীর থেকে ময়লা এবং ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে এবং গোসল গর্ভবতী মাকে আরও সতেজ এবং শান্ত বোধ করতে অর্থাৎ অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

  • এসময় প্রতিদিন সাবান দিয়ে ভালোভাবে গোসল করতে হবে। তবে অতিরিক্ত সাবান ব্যবহার করা যাবে না। তাতে  ত্বক শুষ্ক হয়ে যাবে।
  • গরমের দিনে শরীরটাকে ঠান্ডা রাখার জন্য প্রয়োজনে দুইবার গোসল করা যাবে।বিশেষ করে গরমের দিনে রাত্রে শোয়ার সময় গোসল করা, তাতে ভালো ঘুম হবে।
  • শীতের দিনে হালকা গরম পানিতে গোসল করা যাবে, তবে পানিতে ৫/৬ মিনিটের বেশি থাকা যাবে না, তাতে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা নিউরাল ডিসঅর্ডার ও ঠান্ডা জাতীয় বিভিন্ন অসুখ দেখা দিতে পারে।
  • মাথায় গরম পানি ব্যবহার করা যাবে না তাতে চুল রুক্ষ হয়ে যাবে।

গর্ভবতী মায়ের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা

গর্ভবতী মায়েদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা একান্ত কর্তব্য। কারণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে মনটা ভালো থাকে, আনন্দে থাকে। আর গর্ভাবস্থায় হাসিখুশি-আনন্দে থাকা খুবই প্রয়োজন। এ সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সুতির কাপড় পরা, হাতের নখ কেটে ছোট রাখা, মাথার চুল ভালো করে আঁচড়িয়ে বেনী করে রাখা এবং বিশেষ করে দাঁত ভালো করে পরিষ্কার রাখা। প্রতিবার খাওয়ার পরে ভালো করে কুলি করা,দাঁতে কিছু আটকে থাকলে তখনই ডেন্টাল ফ্লস দিয়ে তা বের করে ফেলা। নিপল এবং অবাঞ্চিত লোম পরিষ্কার রাখা। নিপলে তেল দিয়ে প্রতিদিন মেসেজ করা। 

গর্ভবতী মায়ের পোশাক-পরিচ্ছদ

গর্ভবতী মায়েদের এ সময় সুতির তৈরি আরামদায়ক, সহজে পরিধানযোগ্য ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা দরকার। ব্রেস্টের সেফ ঠিক রাখার জন্য সঠিক মাপের ব্রা পরা, সঠিক মাপের এবং নরম জুতো পরা। এক্ষেত্রে হিল বা হাই হিল জুতা একেবারেই পরা যাবে না। 

গর্ভবতী মায়ের ভ্রমণ

ভালো হয় গর্ভকালীন প্রথম তিন মাস ও শেষ তিন মাস দীর্ঘ ভ্রমণে না যাওয়া। উঁচু-নিচু পথ কিংবা ঝাঁকির আশঙ্কা আছে এমন যানবাহনে ভ্রমণ করলে গর্ভপাতের সম্ভাবনা বেশি থাকে। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেটা হল সকালে ও বিকেলে কিছু সময়ের জন্য স্বাস্থ্যকর ও মনোরম পরিবেশে বেড়ানো, এতে শরীর সুস্থ থাকে ও মন প্রফুল্ল থাকে। তাই ফুলের বাগান, লেকের পাড়, পার্ক অথবা যেখানে সবুজের সমারোহ, পাখির কলতানে মুখর হয়ে ওঠে এমন পরিবেশে কিছুক্ষণ সময় পার করা।

গর্ভবতী মায়েদের জন্য ব্যায়াম

ব্যায়াম হল শারীরিক ক্রিয়াকলাপ যা মানুষের হৃদস্পন্দন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসকে সুস্থ রাখে। এটি পেশী এবং হাড়কে শক্তিশালী করে এবংওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ব্যায়াম মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। এটি স্ট্রেস, উদ্বেগ এবং হতাশা কমাতে সাহায্য করে। যে ব্যায়াম আপনার নিকট সহনীয় মনে হয় অর্থাৎ উপভোগ্য মনে হয় এবং যা আপনি নিয়মিত করতে পারেন সেটাই উপকারী। তবে ব্যায়াম করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে যে যে ব্যায়ামগুলি করতে বলবেন সেগুলি করবেন।

গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য সচেতনতা যা প্রয়োজন তা জেনে নিন

গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য সচেতনতা যা প্রয়োজন তা জেনে নিন

 

  • সুস্থ্য সবল বাচ্চা জন্মদানের জন্য হালকা ব্যায়াম করা প্রয়োজন। এ সময় দেহের আকার আয়তন পরিবর্তনের সাথে সাথে ছোটখাটো সমস্যা দেখা দেয় যা ব্যায়ামের মাধ্যমে দূর করা যায়। 
  • ব্যায়ামের দ্বারা মস্তিষ্কে এন্ডরফিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয় যা মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। 
  • ব্যায়াম আমাদের দেহে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং হার্ট ও পেশীকে মজবুত ও শক্তিশালী করে।
  • গর্ভাবস্থায় নিয়মিত ব্যায়াম করলে নরমালে বাচ্চা প্রসব হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 
  • এমন ব্যায়াম করা, যা শরীরকে প্রসবের জন্য প্রস্তুত করে। স্বাভাবিক প্রসবে সাহায্য করে এবং প্রসবের সময় লেবার পেইন কমায়।
  • গর্ভবতী মহিলাদের হালকা-পাতলা ব্যায়াম একান্ত প্রয়োজন। যেমন-হালকা পাতলা কাজগুলো করা, দৈনিক ৩০মিনিট হাঁট।, সাঁতার, সাইক্লিং ও হালকা ধরনের ব্যায়াম করা যেতে পারে। 
  •  ব্যায়ামের মাধ্যমে সন্তানের মস্তিস্ক অনেক উন্নত হয় এবং স্মৃতিশক্তি প্রখর হয়। স্মার্ট সন্তান হিসেবে পরবর্তীতে বেড়ে উঠে।

গর্ভাবস্থায় যেসব ব্যায়াম করা যেতে পারে

গর্ভাবস্থার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী কিছু যোগব্যায়াম রয়েছে যা শরীরের ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করে।

  •  গর্ভকালীন সময়েই হাঁটাহাঁটি করা সবচেয়ে নিরাপদ ব্যায়াম। দিনে অন্তত আধা ঘণ্টা হাঁটতে পারেন।
  •   নিয়ম করে দিনে ১৫ মিনিট জগিংও করতে পারেন।
  •   দ্রুত হাঁটার দরকার নেই, বেশি হয়রান লাগলে ধীরে হাঁটুন।
  •  গর্ভাবস্থায় সাঁতার কাটা খুবই নিরাপদ ও উত্তম ব্যায়াম।

গর্ভবতী মায়েদের যেসব কারণে ব্যায়াম করা নিষেধ

  • যেসকল গর্ভবতী মহিলার উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে।
  • রক্তশূন্যতাও অপুষ্টিজনিত সমস্যায় আছেন।
  • যাদের হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের রোগ রয়েছে।
  • গর্ভাবস্থায় রক্তক্ষরণ হয়।
  •  ফুল নিচের দিকে থাকে বা প্লাসেন্টা প্রিভিয়া যাদের রয়েছে।
  • আগে গর্ভপাত হওয়ার ইতিহাস আছে।

 গর্ভবতী মায়ের যেসব ঝুঁকি এড়িয়ে চলা উচিত 

গর্ভবতী মায়েদের নিম্নোক্ত নিয়মগুলি মেনে না চললে মা ও বাচ্চা উভয়ের জীবন নাশের হুমকি রয়েছে। চলুন জেনে নেয়া যাক সেসব ঝুঁকিগুলো কী কী?  

  • গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ থাকলে গর্ভবতী মায়ের ও অনাগত সন্তানের জীবন ঝুঁকিতে থাকতে পারে তাই অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। 
  • যেকোনো ধরনের উদ্বেগ, উত্তেজনা এবং আতঙ্ক ত্যাগ করতে হবে, তা না হলে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।
  • গ্যাস, বদ হজম এবং কনস্টিপেশনমুক্ত থাকা প্রয়োজন কারণ এগুলো হলে সন্তানের বিভিন্ন রোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। যেমন-রিকেটস্।
  • সূর্যের আলো, বাতাস প্রবেশ করে এমন গৃহে বসবাস করা।
  • ভিজা ও স্যাঁতসেঁতে জায়গা এড়িয়ে চলা।
  • বাসায় বিড়াল রাখা একেবারেই নিষেধ কারণ বিড়াল থেকে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের আক্রমণ হতে পারে। যেমন-ডিপথেরিয়া।

গর্ভবতী মায়ের সচেতনতা

গর্ভধারণের পরে নারীর স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর জন্য আপনি যত বেশি পদক্ষেপ নেবেন, ততই আপনার গর্ভধারণ এবং প্রসব সুখকর হবে। আন্তর্জাতিকভাবে মাতৃমৃত্যু হার কমাতে ২৮ মে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালিত হয়। একাধিক গবেষণা ও তথ্যানুযায়ী, প্রতি বছর আমাদের দেশে ৪ হাজার ৭২০ জন গর্ভবতী মায়ের মৃত্যু হয়। সে হিসেবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩ জন মারা যায়। এবার জেনে নেওয়া যাক, গর্ভধারণের পরে আমরা কী কী সচেতনতা অবলম্বন করতে পারি।

গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য সচেতনতা যা প্রয়োজন তা জেনে নিন
গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য সচেতনতা যা প্রয়োজন তা জেনে নিন

 

  • গর্ভবতী মায়ের প্রথম তিন মাসের এবং শেষের তিন মাসের সতর্কতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
  •  বেশি বমি হলে সকালে উঠে লেবু পানি খাওয়া।আর মাথা বেশি ঘোরালে শুয়ে পড়ুন। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলে ঠিক হয়ে যাবে।
  • সকালে খালি পেটে না থেকে শুকনো জাতীয় খাবার খাওয়া। যেমন চিড়া, মুড়ি, টোস্ট, বিস্কুট ইত্যাদি। 
  • কোনরকম ব্লাড দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া বা ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা। 
  • দৌড়ঝাঁপ করা যাবে না, তাড়াহুড়ো করে কোন কাজ করা নিষেধ। 
  • বাথরুমে পিছল খেয়ে বা মাথা ঘুরে যেন পড়ে না যায় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। 
  • আপনার পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে গর্ভধারণের বিষয়ে কথা বলুন এবং তাদের পরামর্শ নিন।
  • গর্ভধারণের বিষয়ে বই এবং নিবন্ধ পড়ুন।সাথে ধর্মীয় বই পড়তে পারেন। 
  • গর্ভধারণের বিষয়ে ওয়েবসাইটগুলিতে ঘুরে নতুন কিছু লেখা পড়ুন।
  • সোশ্যাল মিডিয়াতে একটা গ্রুপ খুলে গর্ভধারণের বিষয়ে আলোচনার গ্রুপে যোগ দিন।
  • আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন এবং আপনার স্বাস্থ্যের বিষয়ে জানান ।
  • স্বাস্থ্যকর দেহের ওজন বজায় রাখা। উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবারে গর্ভবতী মহিলাদের অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে।  
  • চা ও কফি পান থেকে বিরত থাকা কারণ অতিরিক্ত চা ও কফি পানে গর্ভপাতের সম্ভাবনা থাকে এবং রাত্রে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।  
  • ডাক্তারের পরামর্শ  অনুযায়ী নিয়মিত ব্যায়াম করা।
  • পর্যাপ্ত ঘুমানো।  
  • ধূমপান এবং মদ্যপান বন্ধ করা, ধূমপান এবং মদ্যপানে গর্ভপাতের সম্ভাবনার ঝুঁকি থাকে।    
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা। 
  • গর্ভবতী মায়ের গর্ভকালীন স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া। 

নরমালে ডেলিভারি হওয়ার জন্য, চেষ্টা করবেন হোমিওপ্যাথি ডাক্তারদের শরণাপন্ন হওয়ার। গর্ভধারণের পর থেকে ডেলিভারি হওয়া পর্যন্ত হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেলে মা ও শিশু সুস্থ থাকবে ইনশাআল্লাহ। 

Read More:শিশু চিকিৎসা হোমিওপ্যাথিতে

উপসংহার

গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য সচেতনতা’ বিষয়ক আমার আর্টিকেলটি ভালভাবে পড়ে বুঝুন এবং যা প্রয়োজন তা জেনে নিন। আমাদের দেশের নারীরা আত্মসচেতন। আমি আশা করি তারা আর্টিকেলটি পড়ে বিষয়টি সম্বন্ধে ভাল ধারণা লাভ করেছেন। আমি আসলে চেষ্টা করেছি সহজে আপনাদেরকে বুঝাতে যে, উপরোক্ত নিয়মগুলো মেনে চললে বাংলাদেশে গর্ভবতী মায়েদের মৃত্যুর হার অনেকাংশেই কমে যাবে এবং সুস্থ বাচ্চা প্রসব করবে ইনশাল্লাহ। 

আমার এই ব্লগ যদি আপনাদের কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানান অথবা যে টপিক সম্পর্কে জানতে চান অনুগ্রহপূর্বক আমাকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন সোশ্যাল মিডিয়াতে অথবা আমার পেজে। আমি চেষ্টা করব আপনাদের মনের মত করে উত্তর দেওয়ার জন্য। নিয়মিত আরো বিভিন্ন বিষয়ে আর্টিকেলগুলো পেতে হলে অবশ্যই আমার ওয়েবসাইটে ভিজিট করবেন। ধৈর্য ধরে এতক্ষণ আমার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। 

Resources:

  1. https://sites.google.com/
  2. https://www.minds.com/

Similar Posts