|

শিশুদের জ্বর সর্দি কাশি? ডাক্তারের কাছে ছোটার আগে ঘরেই রাখুন এই ৩টি ম্যাজিক হোমিওপ্যাথি ঔষধ

শিশুদের জ্বর সর্দি কাশি? ডাক্তারের কাছে ছোটার আগে ঘরেই রাখুন এই ৩টি ম্যাজিক হোমিওপ্যাথি ঔষধ: প্রত্যেক পরিবারে ছোট শিশু থাকা মানেই আনন্দের ফোয়ারা। কিন্তু সেই আনন্দের সাথেই জড়িয়ে থাকে কিছু দুশ্চিন্তা। তার মধ্যে অন্যতম হলো শিশুদের ঘন ঘন জ্বর, সর্দি, কাশির মতো সাধারণ অসুস্থতা। নবজাতক থেকে শুরু করে পাঁচ বছরের শিশু – সবারই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় আবহাওয়া একটু বদলালেই এই সমস্যাগুলো দেখা দেয়।

অভিভাবকদের জন্য এটি এক বিরাট ঝামেলার কারণ। বাচ্চার অসুস্থতার জন্য নিজেদের কাজে মন দেওয়া যায় না, রাতের ঘুম নষ্ট হয়, আর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো শিশুকে ঔষধ খাওয়ানো। এই সব সমস্যার সহজ সমাধান হতে পারে হোমিওপ্যাথি।

এগুলো নিরাপদ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত এবং শত শত পরিবারে ব্যবহার হয়ে আসছে বহু বছর ধরে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই “ম্যাজিক” হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার গোপন কথা।

শিশুদের জ্বর সর্দি কাশি? ডাক্তারের কাছে ছোটার আগে ঘরেই রাখুন এই ৩টি ম্যাজিক হোমিওপ্যাথি ঔষধ
শিশুদের জ্বর সর্দি কাশি? ডাক্তারের কাছে ছোটার আগে ঘরেই রাখুন এই ৩টি ম্যাজিক হোমিওপ্যাথি ঔষধ

শিশুদের ঔষধ খাওয়ানোর যন্ত্রণা এবং কেন হোমিওপ্যাথি সেরা?

যারা শিশুদের অ্যালোপ্যাথি ঔষধ খাইয়েছেন, তারা জানেন এটি কতটা কঠিন। তেতো সিরাপ বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো রীতিমতো এক যুদ্ধ। জোর করে খাওয়াতে গেলে শিশু হয় মুখ ঘুরিয়ে নেয়, নয়তো বমি করে ফেলে। এতে ঔষধের কার্যকারিতা যেমন নষ্ট হয়, তেমনই শিশু আরও বেশি বিরক্ত হয়ে ওঠে।Read more:থাইরয়েড হোমিওপ্যাথি

ঠিক এর উল্টো চিত্র দেখা যায় হোমিওপ্যাথির ক্ষেত্রে। মিষ্টি স্বাদের ছোট ছোট গ্লোবিউলস বাচ্চারা আনন্দের সাথে খায়। অনেক সময় তো তারা আরও খাওয়ার জন্য বায়নাও করে! ঔষধ খাওয়ানোর এই ঝামেলাহীন অভিজ্ঞতার কারণেই শিশুদের চিকিৎসার জন্য হোমিওপ্যাথি এক আশীর্বাদ।

রোগের লক্ষণগুলো কিভাবে চিনবেন?

বড়রা অসুস্থ হলে মুখে বলতে পারে, কিন্তু শিশুরা তা পারে না। তাই তাদের অসুস্থতা লক্ষণ দেখে বুঝতে হয়।

শিশুদের জ্বর সর্দি কাশি?? ডাক্তারের কাছে ছোটার আগে ঘরেই রাখুন এই ৩টি ম্যাজিক হোমিওপ্যাথি ঔষধ
শিশুদের জ্বর সর্দি কাশি?? ডাক্তারের কাছে ছোটার আগে ঘরেই রাখুন এই ৩টি ম্যাজিক হোমিওপ্যাথি ঔষধ

জ্বর:

শিশুর শরীর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরম লাগলে বুঝবেন জ্বর এসেছে। মা যখন শিশুকে কোলে নেন, তখন সহজেই এই পরিবর্তন বুঝতে পারেন। জ্বরের কারণে শিশু নিস্তেজ হয়ে পড়ে, ঘ্যানঘ্যান করে বা একটানা কাঁদতে থাকে।

ঘরে একটি থার্মোমিটার রাখা ভালো। শিশুদের ক্ষেত্রে ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি জ্বর বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ এতে কনভালশন বা খিঁচুনির ঝুঁকি থাকে।Read more:শিশুদের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা

সর্দি:

শিশুর নাক দিয়ে পাতলা জল ঝরতে থাকলে বা নাক ভিজে থাকলে বুঝবেন সর্দি লেগেছে। অল্পবয়সী শিশুরা হয়তো হাঁচি দেয় না, কিন্তু অস্বস্তির কারণে কান্নাকাটি করে।

কাশি:

জ্বর ও সর্দি কয়েকদিন থাকার পর বুকে কফ জমে কাশি শুরু হতে পারে। এটি ফুসফুসে জমে থাকা সর্দি বের করে দেওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এই পর্যায়ে সঠিক চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

 

শিশুদের জ্বর, সর্দি কাশির কার্যকরী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা

অসুস্থতার শুরুতে সঠিক পদক্ষেপ নিলে শিশুকে দ্রুত সুস্থ করে তোলা সম্ভব। নিচে তিনটি ধাপ অনুযায়ী তিনটি কার্যকরী ঔষধের কথা বলা হলো।

কখন ব্যবহার করবেন: অসুস্থতার একেবারে শুরুতে, যখন শিশুর গা গরম হতে শুরু করেছে, অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বা নাক দিয়ে পাতলা জলের মতো সর্দি ঝরছে। হঠাৎ ঠান্ডা লেগে অসুস্থ হলে এটি সবচেয়ে ভালো কাজ দেয়।

 

অ্যাকোনাইট ন্যাপেলাস ২০০ (Aconite Napellus 200)

মাত্রা: এক ফোঁটা করে দিনে দু’বার (সকালে ও বিকেলে)।

ফলাফল: এই ঔষধটি জ্বর বাড়তে দেয় না এবং প্রাথমিক সর্দি দ্রুত কমিয়ে দেয়।

কখন ব্যবহার করবেন: যদি প্রাথমিক অবস্থায় অ্যাকোনাইট দেওয়ার সুযোগ না হয় এবং জ্বর-সর্দির পর শিশুর শুকনো, খসখসে কাশি শুরু হয়, তখন এই ঔষধটি প্রয়োজন।Read more:acid nitric homeopathic medicine

শিশুদের জ্বর সর্দি কাশি? ডাক্তারের কাছে ছোটার আগে ঘরেই রাখুন এই ৩টি ম্যাজিক হোমিওপ্যাথি ঔষধ
শিশুদের জ্বর সর্দি কাশি? ডাক্তারের কাছে ছোটার আগে ঘরেই রাখুন এই ৩টি ম্যাজিক হোমিওপ্যাথি ঔষধ

ব্রায়োনিয়া অ্যালবা ৩০ (Bryonia Alba 30)

মাত্রা: এক ফোঁটা করে প্রতি তিন ঘণ্টা অন্তর দিন।

ফলাফল: এক থেকে দুই দিন নিয়মিত খাওয়ালে কাশি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে এবং শিশু আরাম পায়।

কখন ব্যবহার করবেন: যখন কাশি বুকে বসে যায়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, কাশির সাথে ঘড়ঘড় শব্দ হয় এবং শিশু যন্ত্রণায় ছটফট করে, তখন এই ঔষধটি কাজে আসতে পারে।

 

হিপার সালফার ২০০ (Hepar Sulph 200)

মাত্রা: এক ফোঁটা করে দিনে দু’বার।

একটি জরুরি সতর্কতা

প্রথম দুটি পর্যায়ের (অ্যাকোনাইট ও ব্রায়োনিয়া) ঔষধ আপনি বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারেন। তবে তৃতীয় পর্যায়ে (হিপার সালফার) রোগ পৌঁছে গেলে বা শিশুর অবস্থা গুরুতর মনে হলে কখনোই নিজে চিকিৎসা করার ঝুঁকি নেবেন না।

এই অবস্থায় আর এক মুহূর্ত দেরি না করে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক বা অ্যালোপ্যাথিক ডাক্তারের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, শিশুর স্বাস্থ্যের চেয়ে মূল্যবান আর কিছুই নয়। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই আপনার শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।

 

উপসংহার

‘শিশুদের জ্বর-সর্দি-কাশি? ডাক্তারের কাছে ছোটার আগে ঘরেই রাখুন এই ৩টি ম্যাজিক হোমিওপ্যাথি ঔষধ’ নিয়ে আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস ছোট্ট লিখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন। পরবর্তীতে আপনাদের মতামতের উপর ভিত্তি করে লিখব ইনশাল্লাহ। ধৈর্য ধরে এতক্ষণ আমার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

Nearest homeopathic doctor

Near me homeopathic doctor

সিটি হোমিও হল

রূপায়ন মিলেনিয়াম স্কয়ার,দোকান নং-116
( গ্রাউন্ড ফ্লোর) উত্তর বাড্ডা, ঢাকা 1212,বাংলাদেশ।
01736181642

Resources:https://eisamay.com/

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *