অ্যালঝাইমার রোগ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা

অ্যালঝাইমার রোগ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা – আলঝেইমার এবং ডিমেনশিয়ার বয়স্কদের স্মৃতিলোপ রোগটি সারা বিশ্বে বয়স্কদের মধ্যে মারাত্মক আতঙ্কিত হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই রোগটি বয়স্কদের মধ্যে এমন ভাবে দেখা দিয়েছে যে, মনের ভাব প্রকাশ করতে গিয়ে সঠিক শব্দ খুঁজে না পাওয়া, একই প্রশ্ন বারবার জিজ্ঞেস করে কিংবা একই কথা বহুবার বলে।

দেখা গিয়েছে বহুক্ষেত্রে রোগী এই অবস্থায় কোন জায়গায় বেড়াতে গিয়ে সম্পূর্ণ স্মৃতিভ্রংশ বা স্মৃতিলোপ হয়ে গিয়ে আর বাড়ী ফেরে নি। এমনও দেখা গেছে যে ব্যাংকের লকার এর পাসওয়ার্ড ভুলে গেছে আর ব্যাংকে রাখা গহনা বা টাকা পয়সা আর উঠাতে পারেনি। আবার তার সর্বস্ব অন্যকে লিখে দিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে।

অ্যালঝাইমার রোগ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসার জন্য কি কি পদক্ষেপ নিতে পারি আজকে আমি আমার এ ব্লগে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। আশা করছি আপনারা আমার সাথে থাকবেন, চলুন আলোচনা শুরু করা যাক। চলুন আজকে আমরা জানবো কি কি টপিক গুলো আলোচনা করব –

আলঝেইমার রোগ কি?

আলঝেইমার মস্তিষ্কের এমন একটি রোগ যার জন্য রোগী কোন কিছু মনে রাখতে পারে না। আলঝেইমার রোগ হল ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ, যা মস্তিষ্কের কোষগুলিকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ধ্বংস করে দেয়। এটি স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা, ভাষা এবং আচরণের সাথে সমস্যার সৃষ্টি করে।

আলঝেইমার রোগ এবং ডিমেনশিয়ার  রোগ হল দুটি মস্তিষ্কের রোগ যা স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা এবং আচরণকে আক্রমণ করে। আসুন আমাদের বুঝার সুবিধার্থে ডিমেনশেয়ার রোগটি কি তা জেনে নেই। 

ডিমেনশিয়ার রোগ কি?

ডিমেনশিয়ার রোগ হল একটি সাধারণ শব্দ যা স্মৃতি ক্ষয়, চিন্তাভাবনা এবং যুক্তি করার ক্ষমতা এবং আচরণগত পরিবর্তন সহ মস্তিষ্কের কার্যকারিতার অবনতির বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়। ডিমেনশিয়ার এক ধরনের নিউরজিক্যাল রোগ যা মস্তিস্কের কর্মক্ষমতাকে ধ্বংস করে ফেলে। ডিমেনশিয়ার অনেক কারণ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে 

  • ভাস্কুলার ডিমেনশিয়ার : যা মস্তিষ্কে রক্ত ​​প্রবাহে সমস্যার কারণে হয়
  • লেভি বডি ডিমেনশিয়ার : যা মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক প্রোটিনের জমা হওয়ার কারণে হয়
  • ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়ার : যা মস্তিষ্কের সামনের এবং পাশের অংশগুলিকে আক্রমণ করে করে
  • মিশ্র ডিমেনশিয়ার : যা একাধিক ধরণের ডিমেনশিয়ার কারণে হয়

 

অ্যালজাইমার্স রোগের নামকরণ কিভাবে করা হয়?

এক সময়ে ডাক্তারদের মধ্যে ধারণা ছিল সিফিলিসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। ১৯০৭ সালে নিউরোপ্যাথলজিস্ট অ্যালেইস অ্যালজাইমারের কাছে অগস্তে ভিটার নামে মাঝবয়সী এক মহিলা তাঁর স্মৃতিশক্তি হারানোর সমস্যার কথা জানান। তখন পরীক্ষায় রোগীণীর শরীরে সিফিলিসের কোন চিহ্ন খুঁজে পাওয়া গেল না।

তাহলে কেন এই স্মৃতিভ্রংশ? অ্যালজাইমার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে দেখলেন মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের ধ্বংস থেকেই স্মৃতিভ্রংশ হয়। এরপর থেকেই বয়সকালে ভুলে যাওয়ার এই মারাত্মক রোগটির নাম এর প্রথম গবেষক অ্যালেইস অ্যালজাইমারের নাম অনুসারে রাখা হয়

 

বিশ্বে আলঝেইমার রোগের হার কত?

আলঝেইমার রোগ হল বিশ্বের সবচেয়ে সাধারণ ডিমেনশিয়ার, যার ৬০% ডিমেনশিয়ার  কেসের জন্য দায়ী। ২০২১  সালে, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫৫ মিলিয়ন মানুষ আলঝেইমার রোগে ভুগছিলেন। ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১৩৯ মিলিয়নে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

উচ্চ-আয়ের দেশগুলিতে আলঝেইমার রোগের হার বেশি, কারণ এই দেশগুলিতে জনসংখ্যার বয়স বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত। কম-আয়ের দেশগুলিতে আলঝেইমার রোগের হার কম, কারণ এই দেশগুলিতে জনসংখ্যার বয়স কম এবং জীবনযাত্রার মান কম।

বাংলাদেশে আলঝেইমার রোগের হার কত? 

২০১৯ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাংলাদেশে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রতি ১০ জনের মধ্যে ১ জনে আলঝেইমার আক্রান্ত হচ্ছে। এই সংখ্যা ২০৫০ সালের মধ্যে ৩.৫ মিলিয়নে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

অ্যালঝাইমার রোগ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা

অ্যালঝাইমার রোগ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা

আলঝেইমার রোগ কেন হয়?

আলঝেইমার রোগের সঠিক কারণ এখনও অজানা, বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে এটি জিনগত এবং পরিবেশগত কারণগুলির জটিল মিথস্ক্রিয়ার (পারস্পরিক ক্রিয়া) কারণে হয়। প্রোটিনের অপক্রিয়ার মধ্যে এই রোগের মূল কারণ লুকিয়ে আছে, বিশেষ করে কোষের মধ্যে জট পাকানো বিটা অ্যামালুয়েডের ভূমিকার মধ্যে।

বর্তমান সময়ে এই রোগের সাথে মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক ইনসুলিন সিগন্যালের সম্পর্ক পাওয়া গেছে তবে, গবেষণায় দেখা গেছে যে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে যা রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে:

  • বয়স: আলঝেইমার রোগের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ হল বয়স। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রতি ৯ জনের মধ্যে ১ জনে আলঝেইমার রোগ হয়। 
  • জিনগত ঝুঁকিপূর্ণ কারণ: সবচেয়ে বেশি পরিচিত ঝুঁকির জিনটি হল APOE জিন। যারা APOE ই 4 অ্যালিল বহন করে তাদের আলঝেইমার রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
  • অন্যান্য ঝুঁকির কারণ: মাথায় আঘাত, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস,ক্যান্সার, ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান।
  • আঘাত পাওয়া: মাথায় আঘাত পাওয়া। তাছাড়া মন বড় ধরনের আঘাত পেলে এই সমস্যায় পড়তে পারেন। 

              Read More:ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনতা ও প্রতিরোধ

আলঝেইমার রোগ এবং ডিমেনশিয়ার পার্থক্য 

আলঝেইমার রোগের লক্ষণগুলি ধীরে ধীরে সময়ের সাথে সাথে বেড়ে ওঠে। ডিমেনশিয়ার লক্ষণগুলি নির্দিষ্ট কারণের উপর নির্ভর করে কিন্তু আলঝেইমার রোগ এবং ডিমেনশিয়ার রোগ সম্পর্কে আমাদের সমাজে জনসচেতনতা প্রায় নাই বললেই চলে। অথচ আমাদের মধ্যে ন্যূনতম এই রোগ সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে আমরা বয়স্ক লোকদের প্রতি যথাযথ প্রয়োজনীয় যত্ন নিতে বা সেবা দিতে আগ্রহী হতাম।

বয়স জনিত কারণে ডিমেনশিয়ার দেখা যায়। বয়স যত বাড়বে ডিমেনশিয়ার, প্রকট আকারে দেখা দিবে। বিশেষ করে ৮০ বছর বয়সের পর বেশি দেখা মে্লে। আলঝেইমার রোগে পুরুষদের তুলনায় মহিলারাই বেশি আক্রান্ত হয়। সাধারণত ডিমেনশিয়ার  শুরু হয় ৬৫ বছরের পর থেকে। বয়স্কদের রোগের মধ্যে ৬০% ডিমেনশিয়ার জন্য দায়ী। এই রোগের লক্ষণ অন্যান্য অসুস্থতার ক্ষেত্রেও দেখা যেতে পারে তাই এরোগ  শুরুর দিকে অনেক সময়ই তা ধরা পড়ে না। 

 

আলঝেইমার রোগ এবং ডিমেনশিয়ার লক্ষণ

আলঝেইমার রোগ এবং ডিমেনশিয়ার লক্ষণগুলোর সম্বন্ধে ধারণা থাকলে আমরা এই রোগগুলো সম্পর্কে সহজেই সচেতন হতে পারব। আলঝেইমার রোগের লক্ষণগুলি ধীরে ধীরে সময়ের সাথে সাথে বেড়ে ওঠে। ডিমেনশিয়ার লক্ষণগুলি নির্দিষ্ট কারণের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। চলুন জেনে নেয়া যাক আলঝেইমার রোগ এবং ডিমেনশিয়ার লক্ষণগুলি: 

  • স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়া: বিশেষ করে সাম্প্রতিক ঘটনা বা তথ্য মনে রাখতে না পারা, ভুলে যাওয়া 
  • বিভ্রান্তি: বিশেষ করে সময় বা স্থান সম্পর্কে, কখন খাবার খেলো, কোথায় আছে, এখন রাত না দিন সেটা সে ভুলে যায়   
  • সিদ্ধান্তহীনতা: সঠিক ভাষা ব্যবহার আটকে দেয় যেখানে বেশী নজর দেওয়ার কথা, যেখানে নজর দিতে ভুলে যায়  এমন একটা অবস্থায় সে পৌঁছায় যে রোগী সংসারের স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারে না 
  • ভাষার সাথে সমস্যা: যেমন সঠিক শব্দগুলি খুঁজে বের করা বা কথোপকথন অনুসরণ করতে না পারা, কথার মাঝে খেই হারিয়ে ফেলে।  
  • কাজ করার ক্ষমতা হ্রাস: যেমন রান্না বা পোশাক পরিধান করতে না পারা। 
  • ব্যক্তিত্ব এবং আচরণগত পরিবর্তন: যেমন বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, বিরক্তি বা আক্রমণ করার প্রবৃত্তি। 

 

আলঝেইমার রোগের কারণ

রোগটি কেন হয় তা জানার জন্য মস্তিষ্ক নিয়ে প্রচুর গবেষণা হয়েছে কিন্তু আজও পর্যন্ত জানা যায়নি কেন এ রোগটি হয়? তবে গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন যে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কি কি বায়োকেমিক্যাল কারণ মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে ও কি কি কারণ মস্তিষ্কের ক্ষতি করে। তাতে দেখা গেছে এই মূল কারণ লুকিয়ে আছে প্রোটিনের অপক্রিয়ার মধ্যে, বিশেষ করে কোষের মধ্যে জট পাকানো বিটা অ্যামালুয়েডের ভূমিকার মধ্যে।

সম্প্রতি এই রোগের সঙ্গে মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক ইনসুলিন সিগন্যালের সম্পর্ক পাওয়া গেছেআলঝেইমার রোগ মস্তিষ্কে দুটি অস্বাভাবিক প্রোটিনের জমা হওয়ার কারণে হয়: অ্যামিলয়েড প্লাক এবং নিউরোফিব্রিলারি ট্যাঙ্গল। এই প্রোটিনগুলি মস্তিষ্কের কোষগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা এবং আচরণের সমস্যা দেখা দেয়। গবেষকরা এখনও নিশ্চিত নন যে এই অস্বাভাবিক প্রোটিনগুলি কীভাবে তৈরি হয় বা কেন কিছু লোকেদের মস্তিষ্কে জমা হয় এবং অন্যদের হয় না।

অ্যালঝাইমার রোগ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা
                                                 অ্যালঝাইমার রোগ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা

আলঝেইমার রোগ প্রতিরোধ 

মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ও অ্যালঝাইমার রোগ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা করতে সম্প্রতি গবেষকরা যা যা বলেছেন তা অতি সংক্ষিপ্ত তুলে ধরা হলো:

  • শিক্ষার চর্চা: এই শিক্ষা শুধু স্কুলে-কলেজের শিক্ষা নয়, জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে পাওয়া শিক্ষার মধ্যে ধরতে হবে
  • একাধিক ভাষায় চর্চা: একজন মনোবিদ ফার্গুস ক্রেইফ দেখেছেন অন্তত দুটি ভাষায় যারা চর্চা করেন তাদের ক্ষেত্রে স্মৃতিলোপ অন্তত চার বছর পিছিয়ে যায়
  • সংগীত চর্চা: মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখে ও স্মৃতিলোপ প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাই সংগীতচর্চা করুন
  • লক্ষ্য স্থির: যারা একটা উদ্দেশ্য নিয়ে বেঁচে থাকতে চান তারা স্মৃতিলোপে কম আক্রান্ত হন। বেঁচে থাকতে একটা লক্ষ্য স্থির করুন।   
  • সম্পর্ক স্থাপনে: সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী এমন মানুষের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন, বন্ধুত্ব করুন। ফেসবুকের বন্ধুত্ব নয়, এমন বন্ধু খুঁজুন যার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলতে পারেন
  • খাদ্যাতালিকা: খাদ্যাতালিকায় নানা জামজাতীয় ফল, সবজি যুক্ত করুন। বিষাক্ত খাবার বর্জন করুন
  • ডিলিট করুন: জীবনে চলার পথে যে লোকগুলো আপনার জীবনটাকে অতিষ্ঠ করে দিয়েছে তাদেরকে আপনার জীবন থেকে ডিলিট করে ফেলুন। আপনার পছন্দের মানুষগুলোকে স্বাগতম জানান।  
  • জ্ঞানচর্চা করুন
  • শারীরিক পরিশ্রম করুন
  • নিজেকে সুখী মনে করার চেষ্টা করুন। সুখের অভিনয় করুন, সুখের স্বপ্ন দেখুন। 
  • ঘরের কোন থেকে বের হয়ে এসে নতুন কিছু খুঁজে দেখুন
  • যারা সর্বদা অপরের সম্পর্কে অভিযোগ করেন বা বিষণ্ণতার মধ্যে থাকেন এমন মানুষদের এড়িয়ে চলুন
  • সকল কাজে যত্নশীল ও সৎ হোন, কাজের অধ্যাবসায় দেখান। ভালো কাজে নিজেকে যুক্ত করুন
  • ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হলে চিত্তভ্রংশ হওয়ার বিপদ আসতে পারে। ওদের সঙ্গে মধুর সম্পর্ক রেখে চলুন

অ্যালঝাইমার রোগ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসায় ব্যবহৃত হোমিওপ্যাথি ঔষধ

রোগীর কনস্টিটিউশন অনুযায়ী চিকিৎসা করলে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখা যায় এবং হোমিওপ্যাথিতে ভালো হয়। হোমিওপ্যাথিতে মূলত লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা হয়। নিম্নে কিছু ঔষধের লক্ষণ তুলে ধরা হলো –

  • Anacardium orientale (অ্যানাকার্ডিয়াম ওরিএন্টালিস) – স্মৃতি শক্তির উন্নতি জন্য লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা পেলে রোগী দ্রুত ভালো হয়ে যায়। 
  • Lac Caninum,Medorrhinum (ল্যাক ক্যানিয়াম, মেডোরিনাম) – লিখার সময় অক্ষর ভুলে গেলে। এর সাথে ঔষধের চারিত্রিক লক্ষণ গুলো মিলে গেলে রোগীকে আমরা এই ঔষধটি দিতে পারি। 
  • Cannabis Indica (ক্যানাবিস ইন্ডিকা) – রাস্তায় বেরিয়ে পথ ভুলে গেলে অন্যতম ঔষধ ক্যানাবিস ইন্ডিকা। এতো ভুলো মন যে, কোন বিষয় নিয়ে কথা শুরু করেছে বা কি বলতে চায় তা ভুলে যায়। 
  • Ginkgo biloba (জিংগো বাইলোবা)  স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পরে সাধারণত এই ওষুধটি  রোগীর মস্তিষ্ক আবার কার্যক্ষম করে তুলতে সাহায্য করতে পারে। হোমিওপ্যাথিতে লক্ষণ মিলে আলঝেইমার রোগে এই ওষুধটি মন্ত্রের মত কাজ দেয়।
  • Ganoderma lucidum (গ্যানোডার্মা লুসিডাম)স্ট্রেস এবং উদ্বেগ কমায় এবং অন্যান্য কঠিন কঠিন রোগের নির্মূল করে এবং আলঝেইমারের বিরুদ্ধে লড়াই করে সুনাম অর্জন করেছে।
  • Baryta aceticum (ব্যারাইটা অ্যাসেটিকাম): ব্যারাইটা গ্রুপের ঔষধগুলির মধ্যে স্মৃতিভ্রংশে সর্বাধিক ব্যবহৃত ঔষধ। মুখে মাকড়সার জালের মত অনুভূতি। অতীতে ব্রেন স্ট্রোকের ইতিহাস। হাতপায়ের কম্পন, প্যারালাইসিস নিম্নাঙ্গ থেকে শুরু হয়ে ওপরের দিকে ওঠে। শরীরের এখানে ওখানে গরম কাঁটা ফোটার মত অনুভূতি
  • Ambra gresiea (অ্যামব্রা গ্লিসিয়া): স্মৃতিভ্রংশে এই ঔষধটির আরো বিস্তৃত ব্যবহার প্রয়োজন। মেজাজ ঘনঘন পরিবর্তনশীল। অত্যন্ত ভীতু ও লাজুক। কারোর সামনে কোন কাজ করতে পারে না। অল্প সময়ের ব্যবধানে ঘনঘন নিকটজনের মৃত্যুর ইতিহাসের পর থেকে রোগের সূত্রপাত
  • Plumbum met (প্লাম্বাম মেট): আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্লাম্বাম ব্রেনে স্ক্লেরোসিস সৃষ্টি করতে পারে। তাই স্মৃতিভ্রংশে এই ঔষধটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাড়িতে কালো দাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এছাড়া কোষ্ঠবদ্ধতা, কাঁপুনি, পেট থেকে মেরুদণ্ড পর্যন্ত খিঁচ ধরা ব্যথা এর নির্দেশক লক্ষণ। মনে করে সবাই তাকে খুন করতে চাইছে
  • Zincum Phos (জিঙ্কাম ফস) : দীর্ঘকালীন মানসিক চাপের (Stress) ইতিহাসের সঙ্গে ক্রমাগত পা নাড়ানো এর লক্ষণ

আরো কিছু প্রয়োজনীয় ঔষধ আছে যেমন: lac equinum, Alumina, Cordyceps Militaris, Helleborus Niger, Nux moschata. 

উপসংহার 

আমরাও একসময় বৃদ্ধ হব। তাই আমরা যেন ভুলে না যাই যে অবস্থায় উনারা এখন আছেন, সেটা আমাদেরও আসতে পারে। তাই উনাদের প্রতি যত্নবান হন।অ্যালঝাইমার রোগ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা ব্লগটি পড়ে কারো উপকারে আসলে সার্থক বলে মনে করব। তবে হোমিওপ্যাথিতে আলঝাইমার রোগের চিকিৎসা অধিকাংশ সমস্যাই সম্পন্ন নিরাময়যোগ্য এবং এর কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই এবং সারা জীবন ঔষধ খেয়ে যেতে হয় না। প্রয়োজন শুধু ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলা। তাই খুঁজে বের করুন আলঝেইমার রোগের জন্য উপযুক্ত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক।  

পরিশেষে বলতে চাই

আপনি যদি আমার ব্লগটি ভালভাবে পড়ে থাকেন তাহলে অ্যালঝাইমার রোগ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা এই ব্লগটি নিশ্চয়ই আপনার কোন উপকারে আসবে। আমার এই ব্লগ যদি আপনাদের কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানান অথবা যে টপিক সম্পর্কে জানতে চান অনুগ্রহপূর্বক আমাকে কমেন্ট করুন। সোশ্যাল মিডিয়াতে অথবা আমার পেজে। আমি চেষ্টা করব আপনাদের মনের মত করে উত্তর দেওয়ার জন্য। ধৈর্য ধরে এতক্ষন আমার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *