সিপিয়া রোগীর গল্প
সিপিয়া রোগীর গল্প – এই গল্পটা বেশির ভাগ মেয়েদের মধ্যে পাওয়া যায়। চেম্বারে রোগীর ভিড় ছিল। এই অবস্থায় একটু চিৎকার চেঁচামেচি শোনা গেল। কেউ কাউকে বলতে বলতে ঢুকতেছে – হোমিও খাবিনা হোমিওপ্যাথি ঔষধ ছাড়া তোকে কোন ডাক্তার ভালোকরবে ? আমি খোঁজখবর নিয়েই এসেছি। আমি একটু ভয় পেয়ে গেলাম,ভাবলাম এখানে আবার কি হলো?
পরে আমার কাছে সরাসরি ঢুকে গেল।বললো আমার একটু তাড়া আছে,আমার মেয়েটাকে দেখে দেন প্লিজ।ভদ্রমহিলা একটা স্কুলের হেডমিস্ট্রেস। উনার কথা হলো -আমার মেয়ে আজকে পাঁচ বছর ধরে সংসার করছে।
এখন বলছে সংসার করবে না।তার সংসার করতে ভালো লাগেনা, একবারও ভাবেনা যে তার একটা বাচ্চা আছে তার কি হবে? বাচ্চাটা এতিম হয়ে যাবে। এ কেমন মা অন্তত পক্ষে সন্তানের কথা ভাবা উচিত।

মাকে বললাম আচ্ছা,আপনি ওয়েটিং রুমে গিয়ে বসেন আমি দেখছি।
ঢিলেঢালা পোশাক পড়া বিষন্ন মুখখানা, উদাসীন দৃষ্টি,মুখে মেছতার দাগ,আগাগোড়া সামান,সামনে পেছনে সমান, ব্রেস্ট নাই, পাছা নাই,চিকন একহারা চেহারা। দেখে মনে হচ্ছিল অ্যানিমিয়ার রোগী,বয়স ২৫ এর মত হবে।মেয়েটা চুপ করে বসে ছিল, একটা কথা ও তার মুখ দিয়ে বের হচ্ছিল না।চোখ দিয়ে শুধু পানি পড়ছিল, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করছিল রোগের কথা বলতে বলতে।
কি সমস্যা কেন তুমি এমন করছ? তোমাকে নিয়ে তোমার আম্মুর কত চিন্তিত লক্ষ্য করছো।
Read More:ভেরিকোসিল এর হোমিও ঔষধ
আমার লাভ মেরেজ।গল্পটা শুরু,একটা সময় আমি আমার হাসবেন্ড কে আমার জীবনের চাইতে বেশি ভালবাসতাম।আমার intercourse করতে ভালো লাগেনা।মনে হয় আমার হাজব্যান্ড আমাকে rape করছে, intercourse করলেই ব্যাথা বেদনা পূর্ণ হয়ে যায়।
vagina.প্রচুর সাদা স্রাব যায়,হলুদ বর্ণ সবুজাভ , vagina তে অত্যন্ত চুলকানি হয়। মাসিক দেরিতে প্রকাশিত হয়,স্বল্প পরিমাণ হয়,অনিয়মিত হয় মাঝে মাঝে এক মাসে দুইবার হয়ে যায় এবং প্রচুর যায়।ব্যথা থাকে তীব্র। তার সাথে ঠেলামারা ব্যথা।
মনে হয় নিচে vagina দিয়ে আমার আমার নাড়িভুঁড়ি সব বেরিয়ে পরবে।আমি প্রায় সময় পায়ের উপর পা দিয়ে বসি অথবা vaginaচাপে দিয়ে বসি।

এই অবস্থার জন্য আমার সংসার বলেন,লোকজন বলেন কিছুই ভালো লাগেনা।আমার পরিবারের কাউকে দেখতে ইচ্ছা করে না। আমার সন্তানের কথা বলছেন তাকেও দেখতে ইচ্ছা করে না।
একা থাকতে ভয় পাই তারপরও আমি একাই থাকি। কাউকে ভালো লাগে না। কোন কিছু করতে আমার ভালো লাগেনা।আমি অলস।কাজকর্ম করা তো দূরের কথা।সবার প্রতি আমি বিরক্ত।
Read More:ডিপ্রেশনের হোমিও ঔষধ
ঠান্ডা না গরম,কোনটা তোমার সহ্য হয়?
আমি শীতকাতুরে ,ঠান্ডা বাতাস লাগলে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি কিন্তু ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করলে আমার ভালো লাগে।
পিপাসা কেমন,ক্ষুধা কেমন?
ক্ষুধা খুব। পেটটা খালি খালি মনে হয়,এত খাওয়ার পরেও। সকালবেলা খাওয়ার আগে বমি বমি ভাব থাকে।খাওয়ার পরও বমি করার মত ইচ্ছা।আমি পছন্দ করি – ভিনিগার,আচার,লেবু।
পায়খানা কেমন? পায়খানা – কোষ্ঠকাঠিন্য বৃহৎ,কঠিন।অনেক বড় হয়ে লম্বা হয়ে বেরোয়,মনে হয় পায়খানার রাস্তায় একটা বল রয়েছে।মাঝে মাঝে গোল গোল বলের মত কালো বর্ণের সাথে আম জড়িয়ে থাকে।
প্রস্রাব কেমন? প্রথম রাত্রে প্রস্রাবের খুব চাপ থাকে,প্রস্রাব ধীরে ধীরে হয়,মাঝে মাঝে ব্যথা থাকে, পিঠের দিকে ঠেলা মারা ব্যথা হয়,প্রসাবে লাল লাল বালু কণা থাকে। কোন সময়টা তোমার ভালো লাগে কোন সময়টা খুব খারাপ লাগে?
সিপিয়ার লক্ষণ
বৃদ্ধি – আমার বেশি খারাপ লাগে দুপুরের আগে,সন্ধ্যার সময়,একটু কাপড় চোপড় ধোয়ার পর ঠান্ডা বা সর্দি লাগে। আমার খুব কষ্ট হয় ঠান্ডা বাতাসে, ঝড়-বৃষ্টির আগেও।
উপশম – ভালো লাগে ব্যায়ামে, চাপে, বিছানার গরমে,গরম কিছু লাগালে,পা গুটিয়ে বসলে, ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করলে, ঘুমের পরে খুব ভালো লাগে।
Read More:হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ধাতুগত ঔষধ
এত সুন্দর করে বলল, লক্ষণ গুলো একটা নির্দিষ্ট ঔষধকে আংগুল দিয়ে নির্দেশ করতছিল। আমি তাকে সিপিয়া দিলাম এবং এক সপ্তাহ পর দেখা করতে বললাম।এক সপ্তাহ পরে রোগী আসলো তার ৭০% এর মতো ভালো হয়ে গেছে।
তার মনের বিষন্নতা কেটে গেছে,বলছে আমি আজকে শপিংয়ে গেছিলাম অনেকদিন ধরে শপিংয়ে যাইনা।ভালো লাগছিল। এখন আমার ঘুরতে ভালো লাগে আর হাজবেন্ডের কথা খুব মনে পড়ছে আমি বললাম দেখা করে আসো।
চিকিৎসাকালীন একমাস পরে দেখা গেল সে তার হাজবেন্ডের কাছে চলে গেল তারপরও তার চিকিৎসা চলছিল। তার শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিয়েছিল।
এখন বুঝা যায় সে পুর্ণাঙ্গ মহিলা। এখন পর্যন্ত সে সুখে সংসার করছে।সুন্দর একটা সংসার বেঁচে গেল হোমিওপ্যাথিতে। এই হলো সিপিয়া রোগীর গল্প। এমন সিপিয়া রোগীর গল্প ঘরে ঘরে মেলে। আশা করছি এরপর থেকে সিপিয়ার রোগী কিছুটা হলেও আমরা চিনতে পারবো, যদি এই গল্পটি মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকি।
সিটি হোমিও
রূপায়ন মিলেনিয়াম স্কয়ার,দোকান নং-116
( গ্রাউন্ড ফ্লোর) -70, 70/Aপ্রগতি শরণি,
উত্তর বাড্ডা, ঢাকা 1212,বাংলাদেশ।
01736181642
Resources:https://www.ijrh.org/journal/vol7/iss2/3/

Dr. Khatun invites you to join her in this journey with City Homeo. Your engagement and encouragement are crucial in advancing this endeavor. Together, we can strive towards a healthier community and a better tomorrow.





