|

করোনার ভয় নয় ভরসা হোক হোমিওপ্যাথি: বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উপশমের পথ

করোনার ভয় নয় ভরসা হোক হোমিওপ্যাথি: বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উপশমের পথ –  সালটা ২০২০। পৃথিবীজুড়ে এক অদৃশ্য শত্রুর হানা-করোনাভাইরাস। অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন, অক্সিজেনের জন্য হাহাকার, আর প্রিয়জন হারানোর ভয়-এই ছিল আমাদের চারপাশের কঠিন বাস্তবতা।

হাসপাতালের বেড পাওয়া তখন সৌভাগ্যের ব্যাপার, আর সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া ছিল রীতিমতো যুদ্ধ জয়ের মতো। ঠিক এমন এক সংকটময় মুহূর্তে, যখন আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা অসাধারণ চাপের মুখে, তখন অনেকেই এক বিকল্প পথের সন্ধান পান। সেই পথের নাম হোমিওপ্যাথি-যা অনেকের কাছে শুধু ঔষধ ছিল না, ছিল একরাশ ভরসা আর মানসিক শান্তির আশ্রয়।

এই লেখাটি কোনো চিকিৎসা বিধান নয়, বরং সেই কঠিন সময়ে মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা, তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প এবং হোমিওপ্যাথির সহায়ক ভূমিকার একটি মানবিক দলিল।

করোনার ভয় নয় ভরসা হোক হোমিওপ্যাথি: বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উপশমের পথ
করোনার ভয় নয় ভরসা হোক হোমিওপ্যাথি: বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উপশমের পথ

 

একটু শ্বাস নিতে পারছি নাবুকটা ভারী লাগছে…” – যখন ভয়টাই বড় শত্রু

করোনাভাইরাস কেবল আমাদের ফুসফুসকে আক্রমণ করেনি, আক্রমণ করেছিল আমাদের মনের গভীরে থাকা সাহস আর আত্মবিশ্বাসকেও। সামান্য কাশি বা হালকা জ্বর হলেই মনে জেঁকে বসত আতঙ্ক। খবরের কাগজের পাতা বা টেলিভিশনের স্ক্রলে বাড়তে থাকা মৃত্যুর সংখ্যা আমাদের আরও অসহায় করে তুলছিল।আরো পড়ুন: সিফিলিস এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

এই ভয়ংকর মানসিক চাপের মধ্যে এমন এক চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল যা কেবল শারীরিক উপসর্গের উপশম দেবে না, বরং মনের জোরও ফিরিয়ে আনবে। এখানেই হোমিওপ্যাথি অনেকের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দেয়। কারণ, হোমিওপ্যাথি কেবল রোগের চিকিৎসা করে না, রোগীর সম্পূর্ণ অবস্থার-তার মানসিক এবং শারীরিক লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা প্রদান করে।

 

রিতা খাতুনের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প: হাসপাতালের বিছানা যখন সোনার হরিণ

ঢাকার মিরপুরে বসবাসকারী ৩৬ বছর বয়সী রিতা খাতুনের গল্পটা সেই সময়ের হাজারো মানুষের প্রতিচ্ছবি। ২০২১ সালের এপ্রিল মাস, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে তখন টালমাটাল গোটা দেশ। রিতার শরীরে একে একে দেখা দিল করোনার সব ক্লাসিক উপসর্গ-প্রচণ্ড জ্বর, শুকনো কাশি, শরীর ব্যথা আর অসহনীয় ক্লান্তি। তার ওপর ছিল শ্বাসকষ্টের ভয়।

“আমার স্পষ্ট মনে আছে, স্বামী একের পর এক হাসপাতালে ফোন করে যাচ্ছেন, কিন্তু সব জায়গা থেকে একটাই উত্তর-‘বেড খালি নেই’। অক্সিজেন লেভেল তখন ৯৪-এ নেমে এসেছে। চোখের সামনে সব অন্ধকার দেখছিলাম। একদিকে শারীরিক কষ্ট, অন্যদিকে চিকিৎসার অভাবে মারা যাওয়ার ভয়,”- বলছিলেন রিতা।

ঠিক তখনই এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়, যিনি দীর্ঘদিন ধরে হোমিওপ্যাথির ওপর আস্থা রাখেন, তাকে একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দেন। সব লক্ষণ শুনে চিকিৎসক তাকে কয়েকটি ঔষধ খাওয়ার পরামর্শ দেন।

চিকিৎসার পথচলা:

  • প্রথম দিন: তাকে দেওয়া হয় Arsenicum Album 30। রিতার ভাষায়, “এই ঔষধটা খাওয়ার পর আমার ভেতরের আতঙ্ক আর অস্থিরতা অনেকটাই কমে আসে। মনে হচ্ছিল, আমি একা নই, কেউ আমার পাশে আছে।”
  • পরবর্তী দিন: কাশির ধরন আর শ্বাসকষ্টের প্রবণতা দেখে তাকে Bryonia Alba 30 এবং শারীরিক দুর্বলতার জন্য Gelsemium 30 দেওয়া হয়।
  • দিনের মাথায়: অবিশ্বাস্যভাবে তার জ্বর পুরোপুরি চলে যায়। শুকনো কাশির তীব্রতা কমে আসে এবং তিনি মানসিকভাবে অনেকটাই স্থিতিশীল বোধ করেন।

“আমি বলছি না যে অ্যালোপ্যাথি ছাড়া আমি বাঁচতাম। কিন্তু সেই মুহূর্তে আমার অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগই ছিল না। হোমিওপ্যাথি আমাকে সেই সাপোর্টটা দিয়েছে, যা আমার শরীর ও মন-দুটোরই প্রয়োজন ছিল। সঠিক সময়ে সঠিক হোমিও চিকিৎসা আমাকে নতুন জীবন দিয়েছে,”- কৃতজ্ঞতার সঙ্গে যোগ করেন রিতা।

রিতার মতো এমন হাজারো মানুষ আছেন, যারা সেই কঠিন সময়ে হোমিওপ্যাথির হাত ধরে সুস্থতার পথে হেঁটেছেন।

করোনার ভয় নয় ভরসা হোক হোমিওপ্যাথি: বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উপশমের পথ
করোনার ভয় নয় ভরসা হোক হোমিওপ্যাথি বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উপশমের পথ

 

করোনা উপসর্গে ব্যবহৃত কার্যকর হোমিও ঔষধ: লক্ষণ মিলিয়ে সমাধান

হোমিওপ্যাথির মূলনীতি হলো-‘লাইকস কিওরস লাইকস’ অর্থাৎ, যে বস্তু সুস্থ শরীরে যে ধরনের লক্ষণ তৈরি করে, অসুস্থ শরীরে সেই একই লক্ষণের উপশম ঘটায়। করোনার ক্ষেত্রেও রোগীর উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ঔষধ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

ঔষধের নাম তার কার্যকারিতা:

Arsenicum Album 30

প্রধান লক্ষণ ও ব্যবহার: ঔষধটি সেই রোগীদের জন্য, যাদের মধ্যে এই লক্ষণগুলো দেখা যায়: খুব বেশি মৃত্যুভয় ও ছটফটানি, বারবার অল্প করে জল খাওয়া, মাঝরাতে বা ভোরের দিকে অসুস্থতা বেড়ে যাওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া। এই ঔষধ মনের জোর বাড়াতে খুব ভালো কাজ করে।আরো পড়ুন:বুকের কফ বের করার হোমিও ঔষধ

Bryonia Alba 30

প্রধান লক্ষণ ও ব্যবহার: প্রচণ্ড শুকনো কাশি, কাশির সময় বুকে ব্যথা, সামান্য নড়াচড়া করলেই কষ্ট বেড়ে যাওয়া। রোগী চুপচাপ শুয়ে থাকতে চায়। ঠোঁট ও মুখ শুকিয়ে যায় এবং অনেকক্ষণ পর পর বেশি পরিমাণে জল পান করে।

Gelsemium 30

প্রধান লক্ষণ ও ব্যবহার: শরীরজুড়ে অবশ ভাব, প্রচণ্ড দুর্বলতা, মাথা তুলতে কষ্ট হওয়া, চোখের পাতা ভারী হয়ে আসা। জ্বর থাকলেও শীত শীত ভাব থাকে এবং রোগীর মধ্যে কোনো পিপাসা থাকে না।

Antimonium Tart 30

প্রধান লক্ষণ ও ব্যবহার: বুকে প্রচুর কফ বা শ্লেষ্মা জমে কিন্তু রোগী তা তুলে ফেলতে পারে না। নিঃশ্বাসের সঙ্গে সাঁ সাঁ বা ঘড়ঘড় শব্দ হয়। মূলত বয়স্ক বা দুর্বল রোগীদের ক্ষেত্রে এটি বেশি কার্যকর।

Eupatorium Perfoliatum 30

প্রধান লক্ষণ ও ব্যবহার: ডেঙ্গুর মতো প্রচণ্ড শরীর ব্যথা, বিশেষ করে হাড়ের ভেতরে ব্যথা অনুভব করা। এর সঙ্গে থাকে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর। রোগীরা বলেন, “মনে হচ্ছে কেউ যেন হাড়গুলো ভেঙে দিচ্ছে।”

Camphora 1M

প্রধান লক্ষণ ও ব্যবহার: রোগের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে, যখন হঠাৎ করে শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়, রক্তচাপ কমে যায় এবং রোগী প্রায় অচেতন অবস্থায় চলে যায়, তখন এটি জীবনদায়ী হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: উপরের ঔষধগুলো কেবল তথ্যের জন্য। একজন যোগ্য রেজিস্টার্ড হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ সেবন করা উচিত নয়। কারণ, লক্ষণ মিলিয়ে সঠিক শক্তি (Potency) ও মাত্রার ঔষধ নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি।

 

কেন মানুষ সেই সময়ে হোমিওপ্যাথিকে আঁকড়ে ধরেছিল?

আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর আস্থা থাকা সত্ত্বেও মানুষ কেন মহামারির সময়ে হোমিওপ্যাথির দিকে ঝুঁকেছিল? এর পেছনে কয়েকটি বাস্তব ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে।

  1.  আধুনিক চিকিৎসার অপ্রতুলতা: হাসপাতালগুলোতে বেড, আইসিইউ এবং অক্সিজেনের তীব্র সংকট ছিল। সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়াও ছিল দুঃসাধ্য। এমন পরিস্থিতিতে হোমিওপ্যাথি ছিল একটি সহজলভ্য ও নির্ভরযোগ্য বিকল্প।
  2. মানসিক শান্তির খোঁজ: করোনা কেবল শারীরিক রোগ ছিল না, এটি ছিল একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। হোমিওপ্যাথির সামগ্রিক (Holistic) চিকিৎসা পদ্ধতি রোগীর মানসিক লক্ষণ, যেমন-ভয়, আতঙ্ক, একাকি ত্ব ইত্যাদিকে সমান গুরুত্ব দেয়। Arsenicum Album-এর মতো ঔষধগুলো ভয়কে নিয়ন্ত্রণ করে মনোবল বাড়াতে সাহায্য করেছে, যা সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।
  3. প্রাকৃতিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসার প্রতি বিশ্বাস: অনেকেই অ্যালোপ্যাথিক ঔষধের কড়া ডোজ এবং তার সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। তুলনামূলকভাবে হোমিওপ্যাথি একটি মৃদু ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতি হওয়ায় সাধারণ মানুষ একে সহজেই গ্রহণ করতে পেরেছে।
  4. ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসা: হোমিওপ্যাথি প্রত্যেক রোগীর জন্য তার নিজস্ব লক্ষণ অনুযায়ী আলাদা ঔষধ নির্বাচন করে। এই ব্যক্তিগত যত্ন বা ‘পার্সোনালাইজড অ্যাপ্রোচ’ রোগীদের মধ্যে এক ধরনের আস্থা তৈরি করে।

 

প্রতিরোধেও কি হোমিওপ্যাথি সহায়ক?

করোনার সময়ে ‘প্রিভেনটিভ’ বা প্রতিরোধক হিসেবে Arsenicum Album 30-এর ব্যবহার বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়েছিল। ভারতের আয়ুষ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। এর যুক্তি ছিল, এই ঔষধটি ভাইরাসের আক্রমণে শরীরে যে ধরনের সাধারণ লক্ষণ (যেমন-শ্বাসকষ্টের প্রবণতা, উদ্বেগ) দেখা দেয়, তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

তবে মনে রাখতে হবে, এটি কোনো ভ্যাকসিন বা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সরাসরি রক্ষাকবচ নয়। এটি কেবল শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উদ্দীপিত করতে পারে।আরো পড়ুন:হরমোনের হোমিও চিকিৎসা

করোনা এখনো শেষ হয়নি! জেনে নিন নতুন লক্ষণ আপনার করণীয়

করোনাভাইরাস আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। এর নতুন নতুন করোনা আসছে এবং তার সাথে লক্ষণগুলোতেও কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। চলুন, সহজভাবে জেনে নেওয়া যাক করোনার লক্ষণ এবং প্রাথমিক করণীয় সম্পর্কে।

.কোভিডের১৯ সাধারণ লক্ষণগুলো কি  কি ?

কোভিডের-১৯ এর সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণগুলো হলো:

  1.  জ্বর: কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা।
  2.  শুকনো কাশি: ক্রমাগত কাশি হওয়া।
  3. শরীর মাথা ব্যথা: প্রচণ্ড শরীর ব্যথা এবং মাথা ধরা।
  4.  ক্লান্তি: অল্পতেই খুব ক্লান্ত হয়ে পড়া।
  5.  স্বাদ গন্ধ হারানো: হঠাৎ করে কোনো কিছুর স্বাদ বা গন্ধ না পাওয়া (তবে নতুন করোনারএটি কম দেখা যায়)।
  6.  গলা ব্যথা: গলায় খুসখুস করা বা ব্যথা হওয়া।
  7. শ্বাসকষ্ট: এটি একটি গুরুতর লক্ষণ, দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

 

. নতুন করোনা ভাইরাসের (কোভিডের) লক্ষণ কি  কি ?

সাম্প্রতিক করোনাগুলোর লক্ষণ সাধারণ সর্দি-কাশির মতোই হতে পারে। এগুলো হলো: গলা ব্যথা বা খুসখুস করা: এটি সবচেয়ে সাধারণ প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে একটি।

নাক দিয়ে জল পড়া বা নাক বন্ধ থাকা, হাঁচি, মাথা ব্যথা, শরীরে হালকা ব্যথা ক্লান্তি বিশেষ দ্রষ্টব্য: নতুন করোনার জ্বর এবং স্বাদ-গন্ধ হারানোর মতো লক্ষণগুলো তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে।আরো পড়ুন:হোমিও ঔষধের নামের তালিকা ও কাজ

 

. করোনার প্রাথমিক লক্ষণগুলোর চিকিৎসা কি ?

প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ দেখা দিলে ঘাবড়ে না গিয়ে কিছু পদক্ষেপ নিন।

সতর্কতা: যেকোনো ঔষধ খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন

  • বিশ্রাম: শরীরকে সেরে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিন।
  • প্রচুর জল পান করুন: নিজেকে হাইড্রেটেড রাখতে জল, ফলের রস বা স্যুপ খান।
  •  জ্বরের জন্য: ডাক্তারের পরামর্শে ঔষধ খেতে পারেন।
  • গলা ব্যথার জন্য: উষ্ণ লবণ-জল দিয়ে গার্গল করুন।
  • পুষ্টিকর খাবার: সহজে হজম হয় এমন স্বাস্থ্যকর খাবার খান।
  • আইসোলেশন: লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই নিজেকে পরিবারের অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন যাতে ভাইরাস না ছড়ায়।
করোনার ভয় নয় ভরসা হোক হোমিওপ্যাথি:বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উপশমের পথ
করোনার ভয় নয় ভরসা হোক হোমিওপ্যাথি:বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উপশমের পথ

. করোনার তৃতীয় দিন কেমন লাগে?

এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে, তবে একটি সাধারণ চিত্র নিচে দেওয়া হলো:

  • লক্ষণ শীর্ষে ওঠা: অনেকের ক্ষেত্রে তৃতীয় দিনে জ্বর, শরীর ব্যথা এবং ক্লান্তির মতো লক্ষণগুলো সবচেয়ে বেশি থাকে। এই দিনটি সবচেয়ে কষ্টকর মনে হতে পারে।
  • কারও জন্য উন্নতি: আবার কারও কারও ক্ষেত্রে তৃতীয় দিন থেকে ধীরে ধীরে উন্নতি শুরু হয়। জ্বর কমে আসতে পারে।
  • সতর্কতার সময়: তৃতীয় থেকে পঞ্চম দিন পর্যন্ত সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়েই শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা শুরু হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই শরীরের দিকে বিশেষ নজর রাখুন এবং অক্সিজেনের মাত্রা (যদি সম্ভব হয়) মাপতে থাকুন।

বিকল্প নয়, পরিপূরক শক্তি

করোনা মহামারি আমাদের শিখিয়েছে যে, যেকোনো একটি চিকিৎসা ব্যবস্থা এককভাবে সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না। সেই দুঃসময়ে হোমিওপ্যাথি অনেকের কাছে এক আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল-কখনও প্রধান চিকিৎসা হিসেবে, কখনও বা অ্যালোপ্যাথির পাশাপাশি সহায়ক শক্তি হিসেবে।

এটি দাবি করা ভুল হবে যে, হোমিওপ্যাথি আধুনিক চিকিৎসার বিকল্প। বরং, এটি একটি পরিপূরক শক্তি। যখন সঠিক চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে, সঠিক লক্ষণ অনুযায়ী এবং সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করা হয়, তখন হোমিওপ্যাথি কেবল শারীরিক নিরাময়ই নয়, মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনতেও এক অসাধারণ ভূমিকা পালন করতে পারে। রিতা খাতুনের মতো হাজারো মানুষের গল্প আমাদের এটাই মনে করিয়ে দেয় যে, বিপদের দিনে বিশ্বাসই সবচেয়ে বড় ঔষধ-আর অনেকের জন্য সেই বিশ্বাসই ছিল হোমিওপ্যাথি।

 

উপসংহার:

‘করোনার ভয় নয় ভরসা হোক হোমিওপ্যাথি: বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উপশমের পথ’ টপিক নিয়ে আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস ছোট্ট লিখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন। পরবর্তীতে আপনাদের মতামতের উপর ভিত্তি করে লিখব ইনশাল্লাহ।সাথে থাকবে রোগী লিপি। ধৈর্য ধরে এতক্ষণ আমার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

Near me homeopathy pharmacy

সিটি হোমিও হল

রূপায়ন মিলেনিয়াম স্কয়ার,দোকান নং-116
( গ্রাউন্ড ফ্লোর) উত্তর বাড্ডা, ঢাকা 1212,বাংলাদেশ।
01736181642

Resources:http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-649.html

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *