|

অতিরিক্ত ঘামের জন্য হোমিওপ্যাথিক ঔষধ

অতিরিক্ত ঘামের জন্য হোমিওপ্যাথিক ঔষধ – অত্যন্ত অস্বস্তিকর এবং বিব্রত অবস্থায় পড়তে হয় এই অতিরিক্ত ঘামের জন্য এবং ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ে। আজকে আমি এ মূল্যবান টপিকটি নিয়ে আলোচনা করব। আশা করি আপনারা আমার সাথেই থাকবেন। চলুন আলোচনা শুরু করা যাক। আজকের আলোচনায় আমরা জানবো-

  • ঘামে কি কি উপাদান বের হয়
  • ঘামের কাজ কি
  • দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম কোন রোগের লক্ষণ নির্দেশ করে?
  • অতিরিক্ত ঘাম দূর করার হোমিও চিকিৎসা
  • ঘামের গন্ধ দিয়ে ঔষধ নির্বাচন 
  • ঘাম দিয়ে ঔষধ নির্বাচন ও ছোট্ট রেপার্টরি
অতিরিক্ত ঘামের জন্য হোমিওপ্যাথিক ঔষধ
অতিরিক্ত ঘামের জন্য হোমিওপ্যাথিক ঔষধ

ঘামের মাধ্যমে আমাদের শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের হয়ে যায়। একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন দৃশ্যমান ও অদৃশ্য উভয় পদ্ধতিতে এক থেকে পাঁচ পাউন্ড পর্যন্ত ঘাম নিঃসরণ করেন।

ঘাম সামান্য অম্লধর্মী, এতে ইউরিয়া এবং লবণসহ কিছু উপাদান থাকে। সাধারণত ঘাম শরীরের বাইরে আসার পর বায়ুর সংস্পর্শে শুষ্ক হয়ে যায়, তাই আমরা সব সময় ঘাম দেখতে বা অনুভব করতে পারি না। যখন ঘাম শুকিয়ে যায়, তখন এটি তরল অবস্থা থেকে বাষ্পে রূপান্তরিত হয়, যা শরীরকে কিছুটা স্নিগ্ধ অনুভূতি দেয়।

 

ঘামে কি কি উপাদান বের হয়

ঘামের মাধ্যমে শরীরের অতিরিক্ত জল, তাপ, কার্বলিক অ্যাসিড, ইউরিয়া এবং লবণ বের হয়।

ঘামের কাজ কি

ঘামের কাজ মূত্রনালী ক্রিয়ার মতো এবং এ দুটির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। একটির কার্যক্রম কমে গেলে অন্যটি তা কিছুটা পূরণ করে। উদাহরণস্বরূপ, শীতকালে মূত্রনালী বেশি সক্রিয় হয় এবং ঘাম কম হয়, আবার গ্রীষ্মকালে এর বিপরীত ঘটে।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ঘামের লক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, হাতে বা পায়ে যদি তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম হয়, এটি কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে। সময়মতো এর চিকিৎসা না করালে চোখে ছানি পড়া বা অন্ধত্বের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই দুর্গন্ধযুক্ত ঘামের ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিকার করা উচিত।

 

দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম কোন রোগের লক্ষণ নির্দেশ করে

ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন বি ১২ এর অভাবে শরীরে দুর্গন্ধ হয়। মাঝে মাঝে ভিটামিন ডি এর অভাবেও শরীরে দুর্গন্ধ হয়।স্বাভাবিক পরিমাণে ঘাম হলেও এর গন্ধে বিভিন্ন ধরনের রোগের লক্ষণ নির্দেশ করে। উদাহরণস্বরূপ:

  • বাত রোগে ঘামের গন্ধ টক ধরনের।
  • স্কার্ভি রোগে পচা গন্ধ।
  • অস্ত্র প্রদাহে মৃগনাভির মতো গন্ধ।
  • স্ক্রুফুলা রোগে পচা মদের গন্ধ।
  • সবিরাম জ্বরে ভ্যাপসা গন্ধ।
  • এক জ্বরে অ্যামোনিয়ার গন্ধ।

কখনো কখনো কোনো রোগীর শরীর থেকে সরাসরি তেমন দুর্গন্ধ না এলেও ব্যবহৃত মোজা বা গেঞ্জি থেকে দুর্গন্ধ বের হতে পারে। এই লক্ষণকে স্বতন্ত্র রোগ না ভেবে রোগের উপসর্গ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

 

অতিরিক্ত ঘাম দূর করার হোমিও চিকিৎসা

তবে ঘাম নিয়ে চিন্তা করার কোন কারণ নেই হোমিওপ্যাথিতে এর নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা আছে। চলুন অতিরিক্ত ঘাম দূর করার হোমিও ঔষধগুলোর নাম জেনে নেই এবং কোন লক্ষণে কোন ঔষধ দেব তা দেখে নেই।

সাইলেসিয়া

যাঁদের পায়ের তলা অত্যধিক ঘামে, এমনকি শীতকালেও ঘামে; জুতা-মোজা ভিজে যায় এবং ভয়ানক দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। এই অবস্থায় সাইলেসিয়া অত্যন্ত কার্যকর।

ব্যারাইটা কার্ব

যাঁদের পায়ের আঙুল এবং গোড়ালিতে ঘাম হয়, সেই ঘামের কারণে পায়ের পাতায় টান ও ব্যথা অনুভূত হয়। এই ক্ষেত্রে ব্যারাইটা কার্ব প্রযোজ্য।

নাইট্রিক এসিড

রোগীর সারা দেহ থেকে দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম নির্গত হয়। এমনকি রোগীর কাছাকাছি গেলে উৎকট গন্ধ টের পাওয়া যায়। প্রস্রাব ও পায়খানা থেকেও অসহনীয় দুর্গন্ধ নির্গত হলে নাইট্রিক এসিড কার্যকর।

সিপিয়া

বগলের ঘামে তীব্র দুর্গন্ধ থাকে। এটি অতিরিক্ত ধর্মযুক্ত এবং দুর্গন্ধময়। পায়ের আঙুল থেকে দুর্গন্ধ, চর্ম থেকে দুর্গন্ধ এবং ঠাণ্ডা জলে স্নান করলে উপশম হয়। পুরনো মূত্রাশয়ের প্রদাহেও কার্যকর।

Read More:সিপিয়া রোগীর গল্প

অতিরিক্ত ঘামের জন্য হোমিওপ্যাথিক ঔষধ
অতিরিক্ত ঘামের জন্য হোমিওপ্যাথিক ঔষধ

 

এমন মিউর 

শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীর স্রাব বৃদ্ধি পায় কিন্তু আটকে থাকে। পায়ের তলায় ক্ষতের মতো ব্যথা, বিভিন্ন অঙ্গে স্নায়ুশূল বেদনা, পায়ের তলায় দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম এবং ঋতু পরিবর্তনের সময় পায়ের পাতায় ব্যথা হলে এমন মিউর কার্যকর। সন্ধ্যায় চর্মে চুলকানি দেখা দিলে এবং খোলা বাতাসে উপশম হলে এটি উপযোগী।

ব্যাপটেশিয়া

সমস্ত প্রকার স্রাব দুর্গন্ধযুক্ত হয়, যেমন নিঃশ্বাস, মল, মূত্র এবং ঘাম। চর্মে জ্বালা ও উত্তাপ অনুভূত হয়। অবসন্নতা, নিদ্রাহীনতা এবং অস্থিরতায় এই ঔষধ কার্যকর।

সালফার

হাতের তালু এবং পায়ের তলায় ঘাম এবং জ্বালা। বগলের ঘামে রসুনের গন্ধ থাকে। চর্ম শুষ্ক হয় এবং প্রচুর পিপাসা দেখা যায়।

 

ঘামের গন্ধ দিয়ে ঔষধ নির্বাচন  

 

  • দুর্গন্ধযুক্ত ঘামে: আর্নিকা, গ্রাফাইটিস, স্পাইজেলিয়া, হিপার।
  • টক গন্ধযুক্ত ঘামে: আর্সেনিক, ব্রায়োনিয়া, কার্বোভেজ, লাইকোপডিয়াম।
  • তিক্ত গন্ধযুক্ত ঘামে: ভেরেট্রাম।
  • রক্তের মতো গন্ধযুক্ত ঘামে: লাইকোপডিয়াম।
  • পোড়া জিনিসের গন্ধযুক্ত ঘামে: রাসটক্স।
  • কাপড়ে রক্তের মতো দাগ হলে: নাক্সমস্কাটা, ল্যাকেসিস।
  • মূত্রের গন্ধযুক্ত ঘামে: ক্যানথারিস, কলোসিথ।
  • হলুদ দাগ পড়লে: আর্সেনিক, বেলেডোনা, চায়না, গ্রাফাইটিস, ইপিকাক।

 

ঘাম দিয়ে ঔষধ নির্বাচন ও ছোট্ট রেপার্টরি

ঘামে উপশম: Ars, Bry, Gels, Grap, Lach, Thuja, V-alb,Pso, Nat-Mur, Rush Tox, He Par

ঘামের অভাব: APis, Bell, IPec, Kali-c, Lyco,Phos, Psori, R-Tox, SUIP, Allumina.

ব্যথার সাথে ঘাম বা,যত ব্যথা তত ঘাম Lache, Mercsol,

প্রচুর ঘর্ম প্রচুর পিপাসা:  Mercsol,

ঘর্মসিক্ত কাপড়ের কিনারায় কালো দাগ: (Acid nit)নাইট্রিক এসিড

যেদিকে চেপে শোয়, সেদিকে ঘাম: বেল,

কলেরা রোগের পর কপালে ঠাণ্ডা ঘাম: ভেরেট্রাম

বমির পর কপালে ঠাণ্ডা খান : এন্টি-টা,

পানাহারের পর মুখে ঘাম:  ক্যামো ,

দূর্বলকারী নিশাঘর্ম : চায়না, সেঙ্গুনারিয়া, স্ট্যানাম, কেলি আয়োড,

প্রচুর ঘাম: কেলি কার্ব,

মাথায় ঘাম: ক্যাল্ক কার্ব, স্যানিকুলা, সাইলি, ম্যাগ মি, রিউম,

ঘামে বৃদ্ধি: মার্কসল,

নিদ্রাবস্থায় ঘাম, নিদ্রা ভেঙ্গে গেলেই ঘর্ম থেমে যায়: থুজা,

অনাবৃত স্থানে ঘাম: থুজা,

শরীরের একদিকে ঘাম: পালস,

জাগ্রত অবস্থায় প্রচুর ঘাম কিন্তু নিদ্রা যাইবার মাত্র ঘাম শুকিয়ে যায়: নেট্রাম মিউর,

যৌনাঙ্গে ঘাম: ক্যালাডিয়াম সেগ

কেবল ঘুমে ঘাম: Conium,Bry, Lachesis china,

জাগরনে ঘাম: sumbucus

কেদনা স্থানে ঘাম: Kali carb

আক্রান্ত স্থানে ঘাম: Ant.tart

বুক ধরফরানি সহ ঘাম: Lachesis

অতিরিক্ত ঘামের জন্য হোমিওপ্যাথিক ঔষধ
অতিরিক্ত ঘামের জন্য হোমিওপ্যাথিক ঔষধ

সংগীতে ঘাম: Tarantula

নড়াচড়ায় ঘাম বন্ধ হয়:Lyco

Read More:হোমিও ঔষধের নামের তালিকা ও কাজ

ঘামের গন্ধে মাছি আসে: Kaladium

রক্তাক্ত ঘাম : Lachesis

মাথায় ঘাম: cal.carb, Silica, chamo (গরম ঘাম)

হাত পায়ের তালুতে ঘাম: Silica,Cal.Carb.Petro.Grap.

বগলে ঘাম: Petro.Bovista.hep.

ঘে কাতে শোয় তার বিপরীতে ঘাম: Thuja

ঘামে প্রবল দুর্গন্ধ:  Nit Acid, Psorinum, Puts, Silic HePar-s, Mercsol, Petroleum

শরীরের অর্ধাঙ্গে ঘাম কোমর থেকে গলা পর্যন্ত বুক পিঠ সহ: Cal.Carb

আঠালো ঘাম: Ant. Tart

ঘামে রসুনের গন্ধ: Bovista

ঘামের টক গন্ধ: Hepar Sulp

ঘামে মিষ্টি গন্ধ: Sulp, Thuja,Kaladium

তৈলাক্ত ঘাম: Bry, China, Merc sol, Thuja

ক্ষতকর ঘাম: Chamo; conium

শীতল ঘাম: Ars, carbo-v,IPee, Lyco, Sepia

উত্তপ্ত ঘাম: Ignatia, Nuxvom, Opium, Psori, Sulf

 

পরিশেষে বলতে চাই: 

হোমিওপ্যাথিতে ‘অতিরিক্ত ঘামের জন্য হোমিওপ্যাথিক ঔষধ’ অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। লক্ষণ অনুযায়ী সঠিক ঔষধ নির্বাচন হলে হোমিওপ্যাথিতে ঘামের জন্য সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

এর কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই এবং সারা জীবন ঔষধ খেয়ে যেতে হয় না। প্রয়োজন শুধু ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলা। যাতে আপনি আপনার রোগের জন্য সর্বোত্তম চিকিৎসা পান।

আমার এই ব্লগ যদি আপনাদের কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে শেয়ার করবেন এবং নিয়মিত আরো বিভিন্ন বিষয়ে আর্টিকেলগুলো পেতে হলে অবশ্যই আমার ওয়েবসাইটে ভিজিট করবেন। ধৈর্য ধরে এতক্ষণ আমার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

প্রয়োজনে নিচের ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন-

সিটি হোমিও

রূপায়ন মিলেনিয়াম স্কয়ার,দোকান নং-116
( গ্রাউন্ড ফ্লোর) -70, 70/Aপ্রগতি শরণি,
উত্তর বাড্ডা, ঢাকা 1212,বাংলাদেশ।
01736181642

Resources:

https://www.sitelike.org/similar/bdhomoeo24.com/

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *