|

শিশুদের হোমিও চিকিৎসা

শিশুদের হোমিও চিকিৎসা – শিশু যখন অসুস্থ্য হয়ে পরে তখন তার প্রতিক্রিয়া ও উপসর্গের উপর নির্ভর করে ঔষধ নির্বাচন করতে হয়। পৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দর এরং আকর্ষণীয় ঐশ্বরিক দান হচ্ছে শিশু।

যদি সে শিশুটি হয় সুস্থ্য,স্বাভাবিক এবংহাসিখুশি। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ,জাতির ভবিষ্যৎ।শিশুরা সুস্থ্য থাকলে গোটা জাতি সুস্থ্য থাকবে। শিশু চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথিক প্রণালী ভিন্ন। শিশুকালে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় আরোগ্য লাভ করলে তার আজীবন বড় কোন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

শিশুদের হোমিও চিকিৎসা
শিশুদের হোমিও চিকিৎসা

ডা. হিইফল্যান্ড ১৮৩৬ সালে লিখেছিলেন শিশু চিকিৎসা চিকিৎসা শাস্ত্রের একটি অতি প্রয়োজনীয় অংশ।কারণ যাবতীয় ব্যাধির এক তৃতীয়াংশই শৈশবাবস্থায় প্রকাশ পেয়ে থাকে। শিশু চিকিৎসা বয়স্কদের চিকিৎসা অপেক্ষা বহুলাংশে কঠিন।

শিশু চিকিৎসা করতে হলে শিশুর (Body language)জানতে হবে। যে যত বেশী শিশুর (Body language) বোঝে সে তত শিশু চিকিৎসায় পারদর্শী।

অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছে শিশু চিকিৎসা সহজ কারণ শিশুদের মধ্যে ঔষধের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায়। শিশুরা তার আবেগ, হাসি-কান্না,ইচ্ছা অনিচ্ছা, রাগ, ভয়,ভালবাসা, ঘৃণা প্রভৃতির সব প্রকৃত লক্ষণ দেয়।

যেমন (Cina) ঔষধের শিশুরা মায়া লাগানো কান্না করে, (Chamomilla) ঔষধের শিশুরা বিরক্তিকর কান্না করে, (Arsenicum) ঔষধের শিশুরা কান্না শুধু আপনজনদের সামনে করে, আদর পাওয়ার জন্য।

তাই শিশু চিকিৎসায় পারদর্শী হতে হলে তার পারিবারিক ইতিহাস, শিশুর হাসি-কান্না, শিশুর মেজাজ, রুচি, হাবভাব, তার মায়াজমেটিক অবস্থা ইত্যাদি সম্বন্ধে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করা দরকার।

শিশুদের হোমিও চিকিৎসা
শিশুদের হোমিও চিকিৎসা

শিশুদের সাধারণত শীর্ণতা,দন্তোদগমকালের অসুস্থ্যতা,মুখে ঘা, তোতলামী, নাভী শুকাতে বিলম্ব হওয়া,বিলম্বে হাঁটা,বিলম্বে কথা বলা, পোলিও, খোসপাঁচড়া, একজিমা, ঘা, ফোড়া, চর্মরোগ, বমি, কোষ্ঠবদ্ধতা, উদরাময়, আমাশয়, ডিফথেরিয়া, হাম, বসন্ত, রক্তামাশয়।

ব্রঙ্কাইটিস, শিশু কলেরা, শিশুর জন্ডিস, ধনুষ্টঙ্কার, সর্দি, নিউমোনিয়া, কাশি, হুপিং কাশি,অজ্ঞান হওয়া, মস্তিষ্কে জল জমা, মাম্পস, টনসিলাইটিস, ক্রিমি, কানপাকা, বিছানায় প্রস্রাবকরা, বিসর্প, জ্বর। পেট বেদনা,অরুচি, ব্রহ্মতালু জোড়া লাগতে দেরী হওয়া, খিঁচুনী, ক্রন্দন, হাম, হাঁপানী, মস্তিষ্ক প্রদাহ, রিকেটস পীড়া, দেরীতে বেড়ে উঠা, অজীর্ণ, অনিদ্রা, দুধতোলা ইত্যাদি রোগ হয়।

উপরে যে সমস্ত রোগের নাম উল্লেখ করা হলো সেগুলি সবই বিসদৃশ চিকিৎসকদের দৃষ্টিতে রোগ।আর আমাদের হোমিওপ্যাথির দৃষ্টিতে ঐ সবই হচ্ছে রোগের ফল। হোমিওপ্যাথি মতে চিকিৎসা করতে হলে লক্ষণ সমষ্টির মাধ্যমে রোগীর ঔষধটি কি তা খুঁজে বের করতে হবে।

লক্ষণ সমষ্টি কি?

লক্ষণ সমষ্টি হচ্ছে রোগীর রোগের সাধারণ লক্ষণ ও রোগীর বিশেষ লক্ষণের সমষ্টি।রোগীর রোগের সাধারণ লক্ষণ শুধুমাত্র রোগের মধ্যে পাওয়া যায়। আর রোগীর বিশেষ লক্ষণ শুধুমাত্র রোগীর মধ্যে পাওয়া যায়।

রোগী পুরুষ বা মহিলা কিংবা শিশু যেই হোক না কেন রোগীর বিশেষ লক্ষণের সমষ্টির মাধ্যমেই ঔষধ নির্বাচন করতে হবে। (শিশু চিকিৎসা) যেমন শিশুর জন্মের পর ব্রহ্মতালুর নরম অংশ খোলা থাকে এবং বয়সের সাথে সাথে ব্রহ্মতালুর নরম অংশ জুড়ে যায়, এটা স্বাভাবিক।

যদি ব্রহ্মতালু অনেক দিন পর্যন্ত খোলা থাকে তাহলে বুঝতে হবে এটা রিকেটসগ্রস্ত শিশু। এটা একটা বিশেষ লক্ষণ।মাথার এবং দেহের অস্থিগুলি কোমল বা শক্ত ও পাঁজরের অস্থির উপর গোল মোটা দাগ ভাবী রিকেটস রোগের পূর্বলক্ষণ বলে বুঝতে হবে।

শিশুরা দেড় থেকে দুই বৎসরের মধ্যে হাঁটতে শিখে, দুই বৎসরে কথা বলতে পারে এর ব্যাতিক্রম হলে সেটা রিকেটস রোগের লক্ষণ।যদি মাথার তালু উঁচু হয়ে উঠে, চাপ দিলে না বসে তাহলে সেটা মস্তিষ্ক প্রদাহ, মেনিনজাইটিস।মাথার তালুর নরম অংশ দেড় হতে দুই বৎসরের মধ্যে শক্ত হলে সেটা স্বাভাবিক।

এর ব্যাতিক্রম হলে সাস্থ্যের গোলযোগ বুঝতে হবে। দুই বৎসরের কম বয়সের শিশুর হৃৎপিন্ডে কোন প্রকার প্রদাহ প্রায়ই দেখা যায় না কিন্তু এ বয়সের শিশুর হৃৎপিন্ডে অস্বাভাবিক উচ্চ মারমার শব্দ পেলে (Congenital Heart Diseases)বলে বুঝতে হবে।

অংক করতে সূত্র জানা থাকলে অংক করা যেমন সহজ হয়, তেমনি মায়াজম এর মাধ্যমে চিকিৎসা করলে চিকিৎসা করা সহজ হয় এবং রোগী পূর্ণাঙ্গ সুস্থ্য হয় ।

কারণ ডাঃ কেন্টের হোমিওপ্যাথিক ফিলোসফি গ্রন্থের ৪নং বক্তৃতায় বলেছেন “All miasms are true diseases” হোমিওপ্যাথি মতে রোগ বলতে আমরা বুঝি সোরা, সিফিলিস এবং সাইকোসিস।

তাই আমরা যারা প্রকৃত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক তাদের জন্য ডা. হ্যানিম্যান বিখ্যাত প্র্যাকটিস অফ মেডিসিন বই লিখেছেন যার নাম  “The Chronic Diseases, Their Peculiar Nature and Their Homeopathic Cure” যে কোন রোগীর রোগীলিপি প্রস্তুতকালীন তার মায়াজমেটিক অবস্থার কথা বিবেচনা আবশ্যকীয়।

একজন রোগীর মাথা থেকে পা পর্যন্ত লক্ষণের মূল্যায়ন দ্বারা আমরা বাহ্যিকভাবে রোগটি কোন মায়াজমের অর্ন্তগত তা নির্বাচন করে থাকি। রোগীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, মানসিক বৈশিষ্ট্য প্রভৃতি বিভিন্ন দিক থেকে রোগীটি কোন মায়াজমের তা নির্বাচন করি। যেমন:-

            Read More:শারীরিক অবয়ব সোরা মায়াজমের

সোরিক মায়াজমে শিশু

সোরিক শিশু:- মুখমন্ডল শুষ্ক, কর্কশ, ফুস্কুড়িময় এবং অপরিষ্কার।স্নায়বিক, চঞ্চল,উদ্বিগ্ন, পরির্বতনশীল মন, নোংরা, অলস, গোসলে অনিচ্ছা, এবং কোষ্ঠবদ্ধ হয়। সোরিক শিশু বুদ্ধিমান ও তীক্ষ্ণ জ্ঞানের অধিকারী হয়।

সোরিক শিশু হঠাৎ রেগে যায় আবার অল্পতেই শান্ত হয়।সোরিক শিশু ক্রোধে কাঁপতে থাকে ও অন্যকে আঘাত করতে চায়, কিন্তু (শিশু চিকিৎসা)ক্রোধের অবস্থা অতিক্রান্ত হলে শিশু অত্যাধিক অবসাদ ও অসুস্থ্য বোধ করে।

সোরিক শিশু প্রায় ক্ষেত্রেই একাকী থাকার ভয়, অন্ধকারে ভয়,অপরিচিত লোক দেখলে ভয়, কাল্পনিক বিষয়ে ভয়,পড়াশুনায় উন্নতি করতে পারে না বলে ভয়, ঠিক সময়ে স্কুলে যেতে পারে না বলে ভয়। অবিরত ভয়ে ভয়ে থেকে থেকে শেষ পর্যন্ত শিশু অবসন্ন হয়ে পড়ে।

সোরিক শিশু সব কিছুতেই তাড়াহুড়া করে। খাওয়া -দাওয়া, চলাফেরা এমনকি  কথাও বলে দ্রুত। কোন নির্দিষ্ট জিনিস পাবার জন্য তীব্র আকাংখা এবং পেলে  তাতেই আবার বিতৃষ্ণা, নানা প্রকার ঝোঁক-অভিযোগ এবং তা না পেলেই চিৎকার চেঁচামেচি করতে করতে শেষ পর্যন্ত নিস্তেজ হয়ে কিছুক্ষণের জন্য শান্ত হয় তারপর আবার সেই একই অবস্থা করতে থাকে।

(শিশু চিকিৎসা) সোরিক শিশু তার প্রয়োজনীয় এবং অপ্রয়োজনীয় যত খেলনা আছে সব রেখে দেয়, ফেলে না।সোরিক শিশু অলস তার কিছুই করতে ভাল লাগে না এমনকি খেলাধুলাও।

টক ও মিষ্টি প্রিয়, ভাজাপোড়া সোরিক শিশুর প্রিয়।ক্ষুধা প্রচুর, রাত্রিতে উঠে খেতে চায়।ঘুম পাতলা,কপালে হাত রেখে ঘুমায়।তাদের ক্রিমি হয়, তার জন্য অনেক কষ্ট ও যাতনা হয়, গুহ্যদ্বার সুড়সুড় করে চুলকায়, সে জন্য শিশু খুব কান্না করে মেজাজ বড়ই খারাপ থাকে।মুখে জাড়ী ঘা বা জিহ্বা দধির ন্যায় সাদা ক্ষত দেখা যায়।  সোরিক শিশু কোন অপরাধ করলে তা স্বীকার করে।

সাইকোটিক মায়াজমের শিশু হোমিও চিকিৎসায়

সাইকোটিক শিশু:- ধীরস্থির,হাইপার একটিভ, পেটের শূলবেদনাযুক্ত, উদরাময়গ্রস্ত মেজাজ খুব খিটখিটে, একগুয়ে, জেদী, আবেগ দমন করে রাখে, লোভী, চুরি করে, মিথ্যা বলে, নিজের স্বার্থ ষোল আনাই বুঝে।

সাইকোটিক শিশু সহজেই রেগে যায়। সাইকোটিক শিশু নিজেকে অন্ধকার জায়গায়, খাটের নীচে, পর্দার পিছনে প্রায় সময় লুকিয়ে রাখে। এমনকি জিনিসপত্রও লুকিয়ে রাখে। তার সব কিছু গোপন করার ইচ্ছো প্রবল থাকে।

তাই সে ভীত ও সন্দেহ প্রবন হয়। সাইকোটিক শিশু বোকা, লেখাপড়ায় তেমন ভাল না কারণ তা র স্মৃতিশক্তি দুর্বল, সাইকোটিক শিশু সর্বদাই সঙ্গী চায়, কোলে থেকে কোলে বেড়াতে চায় এবং দোল খেতে চায়। কাঁচা লবণ খায় প্রচুর।

ফল খেলে বৃদ্ধি। ক্ষুধা কম, জোর করে খাওয়ালে বমি করে। সাইকোসিস দুষ্ট পিতামাতার হতে জন্মগ্রহণ করার পরই শিশুরা প্রায়ই শূলবেদনায় কষ্ট পায়, এ বেদনা চাপে উপশম। এ বেদনায় শিশু জন্মের পর থেকে প্রায় তিন মাস পর্যন্ত কষ্ট পায়

সাইকোসিস দুষ্ট পিতামাতার সন্তানদের নিউমোনিয়া, রক্তশূন্যতা, প্রত্যেক গ্রীষ্মাধিক্যে শিশু কলেরা এবং রিকেটস বা শুষ্কতা রোগ দেখা দেয়। দ্ধির বিকাশ হয় না, হজম শক্তির নানা প্রকার গোলযোগ দেখা দেয় এবং সে কারণে প্রায়ই অজীর্ণ উদরাময়ে কষ্ট পেতে থাকে।

মল ঘাসের ন্যায় সবুজ, যন্ত্রণাদায়ক প্রস্রাব এবং প্রস্রাব ত্যাগের সময় শিশু চিৎকার করে।সাইকোটিক শিশু অস্বাভাবিক দুর্বল হয়। এছাড়া সাইকোসিস বিষ শিশুর শরীরাভ্যন্তরে প্রবেশ করবার একটি সহজ উপায় হচ্ছে ভ্যাকসিনেশন।

সাইকোটিক শিশু দেরীতে ঘুমায়, উপুড় হয়ে শয়ন করে।সাইকোটিক শিশু কোন অপরাধ করলে তা গোপন করে।

সিফিলিস মায়াজমের শিশু

সিফিলিস মায়াজমের শিশু:- শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে গঠনগত বিশৃংখল। আমাশয়গ্রস্থ্য ও ফোড়া হওয়ার প্রবণতা। চিন্তা ভাবনার স্বল্পতা, অনুভূতির অভাব, অসংগত ও রুক্ষ আচরণ, অবাধ্য, নির্বোধ, স্মৃতিশক্তিহীন, বিষাদগ্রস্ত, নির্দয় নিষ্ঠুর এবং ধ্বংসাত্মক হয়। (শিশু চিকিৎসা)

সিফিলিস শিশুদের মনোভাব এমন যে তারা, একটি ফড়িং পেলেও তার পাখনা ভেঙ্গে দেবে, লেজ কেটে দিবে, মাথা দেহ থেকে আলাদা করে ফেলবে আর খেলনা পেলে তো কথাই নেই, যে পর্যন্ত না ভেঙ্গে চুরমার করবে তার আর নিস্তার নেই।

কথায় কথায় মারামারি নিজেও শান্তিতে থাকে না অপরকেও শান্তিতে থাকতে দেয় না। আত্মহত্যা করতে চায়। অংকে কাঁচা থাকে।লেখাপড়ায় অমনোযোগী। লেখাপড়া সহজে সে মনে রাখতে পারে না। একই পড়া বার বার পড়ে।

তার সখ শিকার, মুষ্টিযুদ্ধ এবং কুস্তি খেলা।দুধ খুব পছন্দ। মাংস তার একেবারেই পছন্দ না। ক্ষুধা নাই, ঘুম কম। ঘাম প্রচুর এবং ঘামে দুর্গন্ধ হয়। সিফিলিস শিশুদের হজম করবার শক্তিটি একেবারেই ব্যাহত হয়ে যায় এবং উদরাময় ও বমনের সহিত নিদ্রালুতা, এমনকি অচৈতন্যতা  পর্যন্ত দেখা দেয়।

শেষ পর্যন্ত রোগীর মৃত্যু হয়।মল পরিবর্তনশীল, প্রায়ই সবুজাভ হলুদ বর্ণের আমযুক্ত। সিফিলিসগ্রস্থ্য শিশুদের অনেক সময় খুব শীঘ্রই দাঁত উঠে। সিফিলিস মায়াজমের শিশু কোন অপরাধ করলে তা অহংকারের সাথে স্বীকার করে এবং প্রকাশ্যে অপরাধ করে।

টিউবারকুলার মায়াজমের শিশু

টিউবারকুলার শিশু:-লম্বা দেহের গঠন,দ্রুত বর্ধনশীল, দুর্বল এবং বার বার সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা সম্পন্ন। টিউবারকুলার শিশুরা সাধারণত সংবেদনশীল,আবেগপূর্ণ, মমতাপূর্ণ এবং বন্ধুভাবাপন্ন প্রকৃতির হয়।

টিউবারকুলার শিশু অনবরত পাওয়ার আকাংখা কিন্তু পেলে আবার নতুন করে বায়না, কোন কিছুতেই সন্তুষ্ট থাকেনা। টিউবারকুলার শিশু দন্তোদগমের সময় এমনকি প্রত্যেকটি দন্ত উঠার সময় উদরাময়ের অধীন হয়। টিউবারকুলার শিশু জন্মের পর হতে ২/৩ বৎসর বয়স পর্যন্ত যখন তখন উদরাময়ে ভোগতে থাকে।

সাইকোসিস দুষ্ট পিতামাতার সন্তানদের শরীরে, যে দোষের প্রবাহ চলতে থাকে, তা পরিশেষে টিউবারকুলার দোষে পরিনত হয়। শৈশব অবস্থা হতেই ডিফথেরিয়া, বসন্ত এবং শৈশবকালীন অম্ল গন্ধযুক্ত অজীর্ণ উদরাময় বা শিশু কলেরায়।

বিশেষ করে পুত্রসন্তানগণকে যকৃৎ পীড়ায় আক্রান্ত করে মৃত্যুমুখে পতিত করে। সামান্য কারণে ঘন ঘন সর্দি লাগার প্রবণতা, গলগণ্ড, স্ফীতি, অজীর্ণ, নিদ্রিত হবার পরই শয্যায় মূত্রত্যাগ করা ইত্যাদি রোগ হয়। এছাড়া মলদ্বারের স্নানচ্যুতি, মলের সাথে রক্ত যায়, প্রচুর সূতা কৃমি, ক্যান্সারজাতীয় পীড়া, মাংস বৃদ্ধি ইত্যাদি।

টিউবারকুলার শিশুর মেজাজ খুব খিটখিটে ও জেদী।তুচ্ছ কারণে সহজেই রেগে যায় এবং খারাপ ভাষা ব্যবহার করে।তার চাহিদার শেষ নাই, একটা শেষ হতে না হতেই আর একটার বায়না ধরে। টিউবারকুলার শিশুর কুকুর ভীতি প্রচুর রয়েছে। শিশু প্রচুর আহার করা সত্বেও শীর্ণ।

টিউবারকুলার শিশু গরুর দুধ বা গো-দুগ্ধজাত খাদ্য কিছুতেই হজম করতে পারে না। মাংস অধিক প্রিয়, আলু এবং লবণ ও ঠান্ডা পানি পছন্দ করে।যা খেলে রোগ বৃদ্ধি তাই সে খায় এবং যা করলে রোগ বৃদ্ধি তাই সে করে। লেখা পড়ায় স্মৃতি শক্তি প্রখর হয় আবার কোন কোন ক্ষেত্রে উদাসীন হয়।

আর্ট এবং কারিগরি কাজে খুব দক্ষ হয়। তার সখ রান্না করা, অভিনয় করা। নতুন নতুন জায়গায় ঘোরে বেড়াতে তার ভাল লাগে।

শিশুদের হোমিও চিকিৎসা
শিশুদের হোমিও চিকিৎসা

 

Abrotanum.এব্রোটেনাম

এব্রোটেনামের শিশু গরম কাতর,সাইকোটিক ও গভীর টিউবারকুলার মায়াজমের হয়। শিশু বদমেজাজী, খিটখিটে, অসন্তুষ্ট,অমানবিক, হিংস্র, মমতাহীন, নির্দয় এবং নিষ্ঠুর হয়। ছোট ছোট কীটপতঙ্গ মেরে খুব আনন্দ পায় এবং মারতে ভালবাসে।

শিশু জন্মের পর নাভী থেকে রক্তস্রাব দেখা দেয়। এটা দীর্ঘস্থায়ী হলে শীর্ণতা আরম্ভ হয়, যা প্রথমে নিম্নাঙ্গে শুরু হয়। ক্রমে উপর দিকে উঠতে থাকে, গলা পর্যন্ত শীর্ণ হয়ে যায়। এত র্শীণ হয় যে, শিশু মাথাটি সোজা করে রাখতে পারে না।

নবজাতক শিশু টিকটিকির মতো দেখায়। এব্রোটেনামের শিশুর এক ধরনের চোরা জ্বর হয় যা থার্মোমিটারে উঠেনা। মাঝে মাঝে ঘাম হয় ও শোকাতে থাকে এবং একদিন মৃত্যু মুখে পতিত হয়। চোরা জ্বরে যদি শিশুটি মারা না যায়।

তবে পরবর্তিতে বাত বেদনায় আক্রান্ত হয়। আর যদি বাত চাপা পড়ে তা হলে হৃদযন্ত্র আক্রান্ত হয়। এভাবে পর্যায়ক্রমে রোগের আক্রমন চলতে থাকে আর যদি শিশুটি প্রকৃত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পায় তাহলে শিশুটি আজীবনের মতো সুস্থ্য হয়ে যায়। শীতে, বর্ষাকালে, রাত্রে বৃদ্ধি। তাপে উপশম।

Acidum phosphoricum.এসিড ফস

এসিড ফসের শিশু শীতকাতর। সোরিক,সাইকোটিক,ও গভীর টিউবারকুলার মায়াজমের হয়। এসিড ফসের শিশু দেখতে লম্বা, মোটা, বিশেষ করে ঘাড় লম্বা। শিশু দ্রুত বেড়ে উঠে।

শিশু উদাসীন, অন্যমনস্ক, অত্যাধিক অলসতা, খেলাধুলায় অনিচছা। কোন কিছু  তার খেয়ালে আসেনা। নিকটে অনেক কিছু ঘটে গেলেও  সেদিকে তার মন আকৃষ্ট হয় না। আগ্রহ বা অস্থিরতা যেন তার মোটেই নেই। নিস্ফল চুপচাপ পাথরের মত শুয়ে বসে থাকে।

তার সামনে চমকপ্রদ ঘটনা ঘটলেও বলে, “কই দেখিনাই তো”। কথাও বলে কম। কিছু জিজ্ঞাসা করলে হাঁ বা না বলে উত্তর দেয়। কোন চঞ্চলতা তার মধ্যে নেই। প্রচুর উদরাময় হওয়ার পরেও শিশু দুর্বল হয় না।এ লক্ষণটি এ ঔষধের অদ্ভুত অসাধারণ লক্ষণ।

সাদা বা হলুদ বর্ণের প্রচুর জলবৎ অজীর্ণ মল প্রায়ই অসাড়ে নির্গত হয়। মূত্রের রং সাদা ঘনঘন মূত্র ত্যাগ করে। প্রস্রাব এত সাদা হয় যে, প্রস্রাব শুকিয়ে গেলেও সে স্নানটি  সাদা হয়ে থাকে।ক্ষুধা প্রচুর ও বার বার খায়। উর্দ্ধাঙ্গ ঘামে।ডান পার্শ্বে বেশী শয়ন করে। অত্যধিক পড়াশুনা করলে মাথাব্যথা দেখা দেয়। এসিড ফসের শিশুর রোগ অসদৃশ বিধানে চাপা দিলে ফুসফুস আক্রান্ত হয়।

Nitric Acid.নাইট্রিক এসিড

নাইট্রিক এসিডের শিশু অত্যন্ত শীতকাতর। সোরিক, সাইকোটিক, সিফিলিটিক ও টিউবারকুলার মায়াজমের হয়।এ শিশু সাংঘাতিক জেদী ও প্রতিশোধ প্রবণ হয়। ক্ষমা, প্রীতি, ভালবাসা, মায়া-মমতা বলে কোন স্থান নাইট্রিক এসিডে নেই। সে যা করতে বা পেতে চাইবে তা সে করে বা পেয়ে ছাড়বে।

সেটা কান্নাকাটি করে বা জোর করে যে ভাবেই হোক করবেই। তাকেকেউ মারলে সেও তাকে মারবে। সাথে সাথে না পারলে পরের দিন, পরের দিন না পারলে যেদিন সুযোগ পাবে সেদিনই মারবে। কেউ কোন অপরাধ করলে তার আর ক্ষমা নেই প্রতিশোধ সে নিবেই। না পারলে নালিশ করবে।

এ শিশু এত জেদী যে, রাগ করলে সে ২/১ দিন না খেয়ে থাকে। ভাঙ্গবে তবু মচকাবে না। ঘুমের মধ্যে লালা স্রাব তার সকল স্রাব হাজাকর ও খুব ঝাঁঝাল এবং দুর্গন্ধযুক্ত।

তাই তার ঠোটের কোণ,চোখে কোণ, মলদ্বারের, এবং নাকের কোণ ফেটে ক্ষত হয়ে যায়। ক্ষতে কাঁটাফোটান ব্যথা থাকে।নাইট্রিক এসিডের শিশুর প্রস্রাব খুব ঝাঁঝাল দুর্গন্ধযুক্ত ঘোড়ার প্রস্রাবের ন্যায়।

শরীরে আঁচিল হয় তা নড়াচড়াতে রক্ত বের হয়। এ শিশুর পরবর্তী জীবনে ক্যান্সার, টি. বি. বা ফিসটোলা(Fistula)  হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যানবাহনে চলাকালে তার সকল রোগের উপশম হয়। সিফিলিটিক ঔষধগুলোর মধ্যে নাইট্রিক এসিড এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ হলো ডান পাশে শয়ন করা।

Read more:Acid Nitric হোমিওপ্যাথি মেডিসিন

Calcarea carb.ক্যালকেরিয়া কার্ব

শিশু অত্যন্ত শীতকাতর কিন্তু সূর্যতাপ সহ্য করতে পারে না। সোরিক,সাইকোটিক ও গভীর টিউবারকুলার মায়াজমের হয়। মনটি রুক্ষ, ভয় ও উৎকন্ঠাপূর্ণ। শিশু দেখতে মোটা থলথলে কিন্তু তার অস্থি খুবই চিকন এবং অপুষ্ট। সহজেই পড়ে যায়।

তার সব দেরীতে হয় যেমন- কথা বলা, হাঁটা এবং দাঁত উঠা। খুব অলস। মাথা ও পেট বৃহদাকার। নিদ্রাকালে মাথার ঘামে বালিশ ভিজে যায়। হামাগুড়ি, হাঁটা এবং দাঁত উঠার সময় প্রায়ই শিশু কলেরায় আক্রান্ত হয়। শরীর ঠান্ডা বিশেষ করে পা মনে হয় যেন ভেজা মোজা পরে আছে। ঘন ঘন ঠান্ডা লাগে।তার ঘর্ম, বমি এবং মলে টক গন্ধ থাকে।

ডিম খুব পছন্দ। ক্ষুধা কম, জোর করে খাওয়াতে হয়। দুধ পছন্দ করে না। কোন কোন শিশু চা-খড়ি, মাটি, চক, পেন্সিল, গোবর ইত্যাদি খাবার প্রতি আকাঙ্খা থাকে। খাবার প্রতি এ প্রকার অস্বাভাবিক আকাঙ্খা ও বিতৃষ্ণাটি শিশুর ভবিষ্যৎ জীবনের বিশৃঙ্খলার পূর্ব রূপ বলে জানতে হবে। এর অদ্ভুত লক্ষণ হলো সকালে স্বরভঙ্গ বিকালে উদরাময়। এ শিশু পরবর্তী জীবনে ফুসফুসের ক্ষয় পীড়া বা উম্মাদ হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশী।

Kreosote.ক্রিয়োজোট

শীতকাতর,ক্ষতকারী, প্রচুর রক্তস্রাবকারী ও স্পন্দন প্রধান ধ্বংসমুখী ঔষধ।  সোরিক, সাইকোটিক, সিফিলিটিক ও টিউবারকুলার মায়াজমের হয়। শিশু কালো লম্বাটে শীর্ণ দেহ, অত্যধিক রক্তস্রাব প্রবণ। খুব রাগী, দুঃখ মনা,অত্যধিক আব্দারী ও সন্তুষ্টহীন আকাঙ্খা আছে কিন্তু সন্তুষ্ট নেই।

অর্থাৎ ক্রমাগত একটার পর একটা দ্রব্যের বায়না ধরবে এবং সেটি পাওয়ার পর আরেকটি চাইবে। পূর্বেরটি ফেলে দিবে এবং কান্নাকাটি করবে। তার মুখ, মল-মূত্র, বমি সব দুর্গন্ধযুক্ত হয়। ঘুমের মধ্যে বিছানায় প্রস্রাব করে। প্রস্রব এত দুর্গন্ধ যে ঘোড়ার মূত্রের ন্যায়।

মুখ থেকে লালা ঝরে।তার সমস্ত স্রাব ক্ষতকারী। স্রাব যেখানে লাগে সেখানেই চুলকায়। তার ঠোঁটের কোণে, নাকের কিণারায়, মূত্রদ্বারে ক্ষতের মত হয়। জিহ্বায় ও মুখে ঘা হয়।  দাঁতে ক্ষত হয়ে দাঁত ক্ষয়ে যায়। মাড়ি হতে রক্তস্রাব হয়। সঠিক চিকিৎসা না পেলে পরবর্তীতে টি.বি.বা যক্ষ্মা বা  ক্যান্সার হতে পারে।

Chamomilla.ক্যামোমিলা

শীতকাতর শিশু। সোরিক এবং সাইকোটিক মায়াজমের হয়। শিশু কেবল ঘ্যান ঘ্যান করে ও কোলে কোলে বেড়াতে চায় ও তাতেই তার যে কোন রোগের উপশম। এ শিশু অত্যন্ত বদ্মেজাজী, ক্রোধপ্রবণ ও খুব বেয়াদব হয়। অশ্লীল ভাষায় গালি দেয়।

সব সময় বায়না ধরে অথচ দিলে ছুড়ে ফেলে দেয়। শিশুর যে কোন উৎকট বেদনায় অত্যন্ত রাগ ও বেদনার সাথে ঘর্ম থাকে। সামান্য যন্ত্রনাতে অধিক কাতর হয়ে পড়ে। প্রস্রাব করবার সময় পেটে ব্যথা হয়। দন্তোদমের সময় পাতলা সবুজ মল হয়। দন্তোদমের সময় শিশুর এক গাল গরম অন্যটা শীতল থাকে।

https://www.tradeindia.com/seller/health-beauty/

Similar Posts