|

থাইরয়েড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

থাইরয়েড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা করতে হলে প্রথমেই জানতে হবে –

থাইরয়েড কি?

থাইরয়েড হল একটি গ্রন্থির গঠন যা উভয় পাশে দুটি গ্রন্থি দ্বারা গঠিত, যা একটি প্রজাপতির আকৃতির মতো। এটি আমাদের গলার সামনের দিকে অবস্থিত, যা থাইরয়েড কার্টিলেজ বা অ্যাডামস আপেল নামে পরিচিত, এর মধ্যবর্তী কোষগুলি রক্ত থেকে আয়োডিন সংগ্রহ করে তৈরি করে T3 ও T4 নামক থাইরয়েড হরমোন।

এই হরমোন আমাদের শরীরের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি, অন্ত্রের গতি (পেরিস্ট্যালসিস), নার্ভাস সিস্টেম, হৃৎপিণ্ডের গতি, রক্তচাপ, মহিলাদের ঋতুচক্র ও দুগ্ধক্ষরণ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে।

থাইরয়েড এর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা
থাইরয়েড এর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা

এই T3 ও T4 ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ হয় মস্তিষ্কের পিটুটারী গ্রন্থী থেকে নিঃসৃত TSH হরমোন দ্বারা।T3 ও T4 এবং TSH এর মাত্রা পরস্পরের উপর নির্ভরশীল। সাধারণত বয়স্ক মানুষের শরীরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিলিগ্রাম আয়োডিন থাকে, যার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ থাকে থাইরয়েড গ্রন্থির মধ্যে।

কোনো কারণে T3 ও T4 এর মাত্রা কমে গেলে TSH এর উৎপাদন বেড়ে গিয়ে থাইরয়েড গ্রন্থীকে উত্তেজিত করে তোলে ও T3, T4 এর মাত্রা স্বাভাবিক হয়ে যায়। উল্টো ভাবে TSH এর মাত্রা কমে গেলে T3, T4 এর ক্ষরণ বেড়ে যায়।

আবার মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস থেকে ক্ষয়িত থাইরয়েড রিলিজিং হরমোনও (TRH) TSH ক্ষরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক চাপ, খাদ্যে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক, অপুষ্টি রক্তে সুগারের পরিমাণ কমে যাওয়া, ঘুমের ব্যাঘাত হাইপোথ্যালামাসের TRH কে প্রভাবিত করে।

থাইরয়েড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা লক্ষণে ঔষধ

ব্রোমিয়া, জেলসিমিয়াম,আর্জেন্টাম নাইটিকাম, থাইরয়েডিনাম, নেট্রাম মিউর, আয়োডিন, লাইকোপাস ভার্জিনিয়া, থুজা, সাইলেসিয়া এবং আরো অনেক ঔষধ থাইরয়েড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা লক্ষণ অনুসারে ব্যবহৃত হয়।

থাইরয়েডের চিকিৎসা হোমিওপ্যাথির সঙ্গে আইয়োডাইজড লবণ ও আয়োডিন সমৃদ্ধ যুক্ত খাবার, যেমন ফ্রেশ ফলমূল, শাকসবজি, পালংশাক, সামুদ্রিক মাছ, বিনস ইত্যাদি আয়োডিনের অভাবজনিত হাইপোথাইরয়েড থেকে রক্ষা করে।

আর চাই পরিমিত এক্সারসাইজ। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজেরা কখনো উস্তাদি করে ঔষধ খাবেন না বা বন্ধ করবেন না। কারণ তাতে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা। মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।

হোমিওপ্যাথিতে কখনো রোগের নামে চিকিৎসা হয় না, হয় রোগীর চিকিৎসা। এখানে অতি প্রয়োজনীয় বহুল ব্যবহৃত কয়েকটি ঔষধ নিয়ে আলোচনা করা হলো। এই ঔষধ গুলো প্রয়োগ করার আগে আমরা অবশ্যই হ্রাস-বৃদ্ধি এবং বিশেষ লক্ষণগুলো দেখে নিবো।

Homeopathy thyroid medicine name

ক্যালকেরিয়া আয়োড(Calcarea iod)

থাইরয়েড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা যদি রোগীর মধ্যে পাই- ক্যালকেরিয়া ও আয়োডিয়ামের মিলিত লক্ষণাবলীর সঙ্গে থাইরয়েডের সমস্যা। চেহারা থলথলে ফর্সা এবং রোগা কালো প্রচুর পিপাসা, খিধে পেলে থাকতে পারে না।প্রচুর ঘাম, ডিম ভালোবাসে, রাত্রে ঘামে বালিশ বিছে যায়।পা ঠান্ডা কিন্তু জ্বালা থাকে ।

ল্যাপিস অ্যাল্ব(Lapis alba)

প্রধানত, এটি গলগন্ড বা থাইরয়েড গ্রন্থির বৃদ্ধির জন্য একটি উপযুক্ত ওষুধ। এর বৈশিষ্ট্য হল এটি ক্যালসিয়াম কার্ব বা সিস্টিক ক্যান বা ক্যালসিয়াম ফ্লোরের পাথরের মতো শক্ত নয়।

আটা মাখলে যেরকম হয় অনেকটা সেই রকম। যদি পরিবারে রক্তস্বল্পতা বা ক্যান্সারের ইতিহাস থাকে, তাহলে আমরা থাইরয়েডের চিকিৎসার জন্য হোমিওপ্যাথিতে এই ওষুধ দিতে পারি।

ফিউকাস ভেসিকুলারিস(Fucus Vesicularis)

এটা গয়টারের প্রধানতম ঔষধ । রোগী  মোটাসোটা হয় এবং সাথে যদি লক্ষণাবলীর সঙ্গে মিলে যায়, তবে থাইরয়েড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা এই ঔষধ দিতে পারি।

থাইরয়েডিনাম(Thyroidinum)

বংশে অনেকের থাইরয়েডের ইতিহাস রোগীনীর প্রেগনেন্সির সময় এলার্জি বা হাইপারটেনশন বা খিচুনির ইতিহাস। শীতকাতর কুষ্ঠবদ্ধতার ধাত থাকে, তাহলে থাইরয়েড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা এই ঔষধ দিতে পারি।

ফেরাম আয়োড(Ferrum iod)

হঠাৎ মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ইতিহাসের পর থেকে গয়টারের সূচনা।তাহলে থাইরয়েড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা এই ঔষধ দিতে পারি।

লাইকোপাস ভার্জিনিয়া(Lycopus v)

হার্টের সমস্যার সাথে থাইরোটক্সসিকোসিস হঠাৎ হঠাৎ প্রচন্ড বুক ধড়ফড় যেন হৃদপিণ্ড খুলে বাইরে চলে আসবে। অস্থিরতা, সেই সঙ্গে কাশি। ডান দিকে ফিরে শূলে বৃদ্ধি। ক্ষুধাহীনতা, কিন্তু খাবারের গন্ধ শুঁকতে ভালোবাসে। তাহলে থাইরয়েড এর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা এই ঔষধ দিতে পারি।

Read More:হোমিওপ্যাথিতে সিফিলিস মায়াজম

এব্রোটেনাম হোমিও ঔষধ

এফেড্রা ভালগারিস(Ephedra Vulg)

যদি রোগীর মধ্যে পাই, হাইব্লাড প্রেসার এর সঙ্গে থাইরয়েডের সমস্যা, এক্সপথালমিক গয়টার। তাহলে হোমিওপ্যাথির এই ঔষধ দিতে পারি।

থাইরয়েড হরমোন কারণ

এটা লক্ষ্য করা যায় যে থাইরয়েড হরমোন বিভিন্ন কারণের উপর নির্ভরশীল যেমন আবেগ, ঘুম, ব্যায়াম, উচ্চতা, বুদ্ধিমত্তার বিকাশ, মাসিক চক্র, প্রজনন ক্ষমতা, রক্তচাপ ইত্যাদি।

তাই আমাদের খাদ্যতালিকায় আয়োডিনের ঘাটতি থেকে শুরু করে থাইরয়েড, পিটুইটারি গ্রন্থের কোন রোগ বা হাইপোথ্যালামাসের এর ওপর  প্রভাব সৃষ্টিকারী যেকোন ফ্যাক্টর সরাসরি T3 ও T4 এবং TSH এর উপর প্রভাব ফেলে নানাবিধ উপসর্গের সৃষ্টি করে।

থাইরয়েড এর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা
থাইরয়েড এর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা

থাইরয়েডের সমস্যাকে প্রাথমিকভাবে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:

  1. হরমোন জনিত সমস্যা,
  2. টিউমার ফুলে যাওয়া।

১) হরমোন জনিতসমস্যা:

থাইরয়েড এর হরমোন কম হলে কি হয়

(হাইপোথাইরয়েডিজম) 

T3,T4 ক্ষরণ কম ও প্রতিক্রিয়ায় TSH ক্ষরণ বেশি হলে তাকে বলে হাইপোথাইরয়েডিজম। এক্ষেত্রে বিপাকক্রিয়া কমে গিয়ে রোগী ক্রমশ মোটা হতে থাকে, চুল উঠে যায়, কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে যায়, আলস্য ও ঘুম ঘুম পায়,হাতে পায়ের চামড়া শুকনো হয়ে যায়।

মহিলাদের ঋতুস্রাব বেড়ে যায় এবং বার বার গর্ভপাত ও বন্ধ্যাত্বের সমস্যা দেখা দিতে পারে।বাচ্চাদের এ রোগ হলে তাতে বুদ্ধি ও বৃদ্ধি দুটোই কমে যায়। বাচ্চা বেটে ও মানসিক ভাবে স্থবির হয় (ক্রিয়েটিনিজম)।তাই গর্ভাবস্থায় মায়ের ও জন্মের সময় শিশুর থাইরয়েড স্ক্রীনিং একান্ত আবশ্যক।

থাইরয়েড এর হরমোন বেশী হলে কি হয়?

(হাইপারথাইরয়েড)

আবার উল্টোটাও হতে পারে, হাইপারথাইরয়েডিজম বা T3, T4 এর মাত্রা বেশি হলে এবং TSH-এর মাত্রা কম হলে রোগীর বিপাক বৃদ্ধি, ওজন হ্রাস, ডায়রিয়া এবং মাসিক প্রবাহ কমে যেতে পারে, হাতে ও জিভে কাঁপুনি হয়, বুক ধড়ফড় করে, এমনকি ব্লাড প্রেসার বেড়ে গিয়ে হার্ট ফেইলোর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেকের চোখ ঠেলে বাহিরের দিকে বেরিয়ে আসে ও থাইরয়েড গ্ল্যান্ড ফুলে ওঠে।একে বলে গ্লেভস ডিজিজ।

হাইপো/হাইপারথাইরয়েটিজমের মূল কারণ হলো অটোইমিউনিটি।

অনিয়মিত জীবনযাপন, বর্তমান বিশ্বে ফাস্টফুড খাওয়ার প্রবণতা, অলস জীবন যাপন ইত্যাদি। আবার বংশগত প্রভাব ও আছে অর্থাৎ বাবা-মায়ের থাকলে সন্তানেরও এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা।তবে অনেক ক্ষেত্রে কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। মহিলাদের সাধারণত এরোগ বেশি দেখা যায়।

অনেক সময় ভাইরাসের সংক্রমণে থাইরয়েডের প্রদাহ হয়। (সাব একিউট থাইরয়েডাইটিস) এক্ষেত্রে জ্বরের পর হঠাৎ হাইপোথাইরয়েডের লক্ষণ ও কিছুদিন পরেই হাইপোথাইরয়েডের লক্ষণ দেখা যায়। তার ৮-৯ মাস পরে ধীরে ধীরে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

২) টিউমার ফুলে যাওয়া:-

যখন থাইরয়েড গ্রন্থি সম্পূর্ণরূপে বিকশিত হয়, তখন একে গলগণ্ড বলে। এটি হরমোনের ভারসাম্যহীনতার সাথেও হতে পারে। এই রোগটি সাধারণত আয়োডিনের অভাবের কারণে ঘটে, কখনও কখনও ছোট নোডিউল বা মাল্টিনোডুলার গলগন্ডের ফলে গয়টার দেখা যায়। থাইরয়েডের ক্ষেত্রে সাধারণত ৫% ক্ষেত্রে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

চিকিৎসা:-

থাইরয়েড এর হোমিওপ্যাথি কি চিকিৎসা আছে?  

থাইরয়েড গ্রন্থির জন্মগত সমস্যা ছাড়া উপরোক্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই হোমিওপ্যাথিতে অত্যন্ত ফলপ্রসু, চিকিৎসা আছে। সঠিক ঔষধ নির্বাচন হলে হোমিওপ্যাথিতে থাইরয়েডের অধিকাংশ সমস্যাই সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য এবং এলোপ্যাথির মতো সারা জীবন ঔষধ খেতে হয় না।

(থাইরয়েড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা) যারা বর্তমানে থাইরয়েডের এলোপ্যাথিক ঔষধ খাচ্ছেন, তাদের হোমিওপ্যাথিক ঔষধ চালু করার কিছুদিন পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ধীরে ধীরে এলোপ্যাথিক ঔষধ বন্ধ করতে হবে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা একটি লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা। এটা হোমিওপ্যাথিতে চিকিৎসকের একটা আর্ট। থাইরয়েড গ্রন্থির হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় কতগুলো বহুল ব্যবহৃত ঔষধ দেওয়া হলো।

 

সিটি হোমিও রূপায়ন মিলেনিয়াম স্কয়ার,
দোকান নং-116( গ্রাউন্ড ফ্লোর -70, 70/Aপ্রগতি শরণি,
উত্তর বাড্ডা, ঢাকা 1212,বাংলাদেশ।
01736181642

Resources:

  1. https://www.quora.com/
  2. http://mouthshut.com/

Similar Posts