হোমিওপ্যাথিতে সরিাম জ্বরের চিকিৎসা
হোমিওপ্যাথিতে সরিাম জ্বরের চিকিৎসা – জ্বর হল শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হওয়া। জ্বর একটি সাধারণ লক্ষণ যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গুরুতর নয়। তবে, জ্বর যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা অন্যান্য লক্ষণগুলির সাথে থাকে তবে অবিলম্বে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বরের সময় আমাদের করনীয় কি?
জ্বরের সময় আমাদের করনীয় নিম্নরূপ:
- বিশ্রাম নিন। জ্বর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। বিশ্রাম নেওয়া শরীরকে এই কাজটি করতে সাহায্য করে।
- পর্যাপ্ত তরল পান করুন। জ্বর থেকে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে তরল বেরিয়ে যায়। তাই পর্যাপ্ত তরল পান করা জরুরি।
- একটি ঠান্ডা, ভিজা কাপড় দিয়ে আপনার মাথা এবং ঘাড় মুছুন।
- একটি ঠান্ডা জলের স্নান বা ঝরনা নিন।
- আপনার শরীরের তাপমাত্রা কমাতে একটি ঠান্ডা জলের প্যাড ব্যবহার করুন।
- একটি পাতলা, আরামদায়ক পোশাক পরুন।
- জ্বরের অন্যান্য লক্ষণগুলির জন্য চিকিত্সা করুন। জ্বর ছাড়াও আপনার যদি সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা বা পেটে ব্যথা হয় তবে সেগুলির জন্যও চিকিত্সা করা গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বরের সময় আমাদের না করা উচিত এমন কিছু কাজ হল:
- অত্যধিক পরিমাণে তরল পান করা। অতিরিক্ত তরল পান করা জলের বিষাক্ততা হতে পারে।
- শরীর ঠান্ডা করার জন্য ঠান্ডা জল বা বরফ ব্যবহার করা। এটি শরীরের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
- ভাইরাস সংক্রমণের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়।
জ্বরের সময় নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি দেখা দিলে অবিলম্বে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন:
- জ্বর 103 ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি
- শিশুর জ্বর 100.4 ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি
- জ্বরের সাথে মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, পেট ব্যথা বা বমি বমি ভাব
- জ্বর 3 দিনের বেশি স্থায়ী হয়
- জ্বরের সাথে নতুন লক্ষণ দেখা দেয়, যেমন ফুসকুড়ি, ত্বকের পরিবর্তন বা খিঁচুনি
জ্বরের জন্য নিম্নলিখিত ঘরোয়া প্রতিকারগুলি কার্যকর হতে পারে:
- ভিজা কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে ঘাম ঝরানো
- গরম পানীয় পান করা
- শরীরকে উষ্ণ রাখা
- অ্যালকোহল বা ক্যাফিনযুক্ত পানীয় এড়ানো

এখানে চিকিৎসার সুবিধার্থে আমাদের জেনে রাখা দরকার,হোমিওপ্যাথিতে
‘Intermittent fever’ বা সবিরাম জ্বর কাকে বলে এবং এই জ্বরের সাধারণ লক্ষণগুলোই বা কি?
‘Intermitten’শব্দটির আভিধানিক বাংলা অর্থ হচ্ছে সবিরাম, বিরামশীল,পর্যায়শীল, থেকে থেকে, থেমে থেমে ইত্যাদি। কাজেই যে জ্বর থেকে থেকে, থেমে থেমে বা বিরাম দিয়ে আসে, ঐ জ্বরকেই ‘Intermittent fever’ বা সবিরাম জ্বর বা বিরামশীল জ্বর বা পর্যায়শীল জ্বর বলে।সাধারণত সবিরাম জ্বরসমূহে শীত ও তাপ এই দুটি এবং অধিকাংশ স্থলে শীত, তাপ ও ঘর্ম এই তিনটি পর্যায়শীল অবস্থা দেখতে পাওয়া যায়। এই ধরনের জ্বরের রোগীর চিকিৎসার জন্য রোগীর মধ্যে যখন জ্বর থাকে না তখন তার লক্ষণ সমষ্টি তৈরী করার উপযুক্ত সময়।
সবিরাম জ্বরের চিকিৎসা কৌশল সম্পর্কিত এইচ. সি. অ্যালেনের-
‘The Therapeutics of Intermittent Fever’বইটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বই যেখানে তিনি বলেছেন- জ্বরের আক্রমণ বা ভোগকাল অবস্থায় ন্যাট্রাম মিউর প্রয়োগ করা উচিৎ নয়।অভিজ্ঞতায়ও এর সত্যতা প্রমাণিত হয়। কারণ অনেক খ্যাতনামা চিকিৎসককেও এ উপদেশ উপেক্ষা করেরোগীর জীবনকে বিপন্ন করতে দেখা গেছে।
সূত্র:২৩৪(অর্গানন অভ মেডিসিন)-
হোমিওপ্যাথিতে সবিরাম জ্বরের চিকিৎসা কিভাবে করে? নির্দিষ্ট সময়ে জ্বরবিহীন সবিরাম রোগের চিকিৎসাকালে তাদের প্র্রত্যাবর্তনশীলতা পরিপূর্ণভাবে দূর করতে কখনও কখনও মধ্যবর্তী ঔষধ হিসেবে শক্তিকৃত সিঙ্কোনার একটি ক্ষুদ্র মাত্রার প্রয়োজন হয়:-
‘Those apparently non-febrile, typical, periodically recurring morbid states just alluded to observed in one single patient at a time (they do not usually appear sporadically or epidemically) always belong to the chronic diseases, mostly to those that are purely psoric,are but seldom complicated with syphilis, and are successfully treated by the same means; yet it is sometimes necessary to employ as an intermediate remedy a small dose of a potentized solution of cinchona bark,in order to extinguish completely their intermittent type’
অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে প্রত্যাবর্তনশীল জ্বরবিহীন রোগগুলো যেগুলো এক সময়ে একজন ব্যক্তিকেই আক্রমণ করে (সেগুলো সাধারণত বিচ্ছিন্নভাবে বা মহামারীরূপে দেখা দেয়না) সেগুলো সব সময়ই ক্রনিক রোগের অন্তর্ভুক্ত। এই রোগগুলোর বেশীরভাগই সোরিক, যদিও কখনও কখনও সিফিলিসের সাথে মিশ্রিত হয়ে জটিলতা প্রাপ্ত। এই রোগগুলোর চিকিৎসা ক্রনিক রোগের চিকিৎসার নিয়মেই করতে হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের প্রত্যাবর্তনশীলতা পরিপূর্ণভাবে দূর করতে কখনও কখনও মধ্যবর্তী ঔষধ হিসেবে শক্তিকৃত সিঙ্কোনার একটি ক্ষুদ্র মাত্রার প্রয়োজন হয়।

হোমিওপ্যাথিতে সবিরাম জ্বরের চিকিৎসায় হ্যানিম্যান কি বলছেন?
এখানে হ্যানিম্যান বলছেন যে, জ্বরবিহীন যে সকল সবিরাম রোগ নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তিকে আক্রমণ করে সেগুলো প্রায়ই সোরা হতে উৎপন্ন যার ফলে সেগুলো ক্রনিক ডিজিজের আওতাভুক্ত। এই রোগগুলো অনেক সময়ই সিফিলিসের সাথে মিশ্রিত হয়ে জট পাকায়। ফলে ক্রনিক রোগের চিকিৎসা যেভাবে করতে হয় এদের চিকিৎসাও সেভাবেই করতে হয়। তবে তাদের পুনরাবর্তন স্থায়ীভাবে ঠেকাতে মধ্যবর্তী ঔষধ হিসেবে কখনও কখনও শক্তিকৃত চায়নার একটি ক্ষুদ্র মাত্রার প্রয়োজন হয়।
এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, ক্রনিক রোগের চিকিৎসার জন্য একটি নির্দিষ্ট নিয়ম আছে এবং সেই নিয়মে চিকিৎসা করলে রোগী স্থায়ীভাবে আরোগ্যও হয় কিন্তু জ্বরবিহীন সবিরাম রোগও এক প্রকার ক্রনিক রোগ হওয়া সত্ত্বেও এ রোগ চিকিৎসা করতে গেলে দেখা যায়, ক্রনিক রোগের চিকিৎসার সেই সাধারণ নিয়মে সঠিকভাবে নির্বাচিত ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা করেও অনেক রোগীকেই স্থায়ীভাবে আরোগ্য করা যায়না।
Read More:ক্রনিক রোগের চিকিৎসা
গভীর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে হ্যানিম্যান দেখেছেন যে, এ অবস্থায় হোমিওপ্যাথিতে সবিরাম জ্বরের এ রোগের রোগীগুলোকে ক্রনিক রোগ চিকিৎসার সাধারণ নিয়মেই চিকিৎসা দিতে হবে কিন্তু চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে মাঝে মাঝে শক্তিকৃত চায়না মধ্যবর্তী ঔষধ হিবে প্রয়োগ করলে আর সমস্যা থাকেনা, তখন এ রোগের রোগী স্থায়ীভাবে আরোগ্য হয়।
এখানে একটি প্রশ্ন হতে পারে যে, ম্যাটিরিয়া মেডিকায় এতো ঔষধ থাকতে হ্যানিম্যান রোগের প্রত্যাবর্তনশীলতা ঠেকাতে চায়নাকে কেন বেছে নিলেন। এ প্রশ্নের উত্তরে ধারণা করা যায় যে, যেহেতু হোমিওপ্যাথিতে সবিরাম জ্বরের চিকিৎসার উল্লেখযোগ্য একটি বিশেষ লক্ষণ হচ্ছে প্রত্যাবর্তনশীলতা (Periodicity) যা চায়নারও একটি বিশেষ লক্ষণ। আর একারণেই হ্যানিম্যান রোগের প্রত্যাবর্তনশীলতা ঠেকাতে চায়নাকে বেছে নিয়েছিলেন।

Dr. Khatun invites you to join her in this journey with City Homeo. Your engagement and encouragement are crucial in advancing this endeavor. Together, we can strive towards a healthier community and a better tomorrow.






One Comment
Comments are closed.