হোমিওপ্যাথিতে লক্ষণ সমষ্টি সংগ্রহ

হোমিওপ্যাথিতে লক্ষণ সমষ্টি কাকে বলে?

হোমিওপ্যাথিতে লক্ষণ সমষ্টি হল একটি রোগীর সমস্ত শারীরিক, মানসিক এবং আবেগগত লক্ষণগুলির একটি সম্পূর্ণ বিবরণ। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকরা বিশ্বাস করেন যে প্রতিটি রোগের একটি অনন্য লক্ষণ সমষ্টি থাকে যা রোগীর ব্যক্তিত্ব এবং রোগের কারণকে প্রতিফলিত করে।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকরা রোগীর লক্ষণ সমষ্টি নির্ধারণ করতে রোগীর একটি বিস্তারিত ইতিহাস নেন। এই ইতিহাসে রোগীর শারীরিক লক্ষণ, মানসিক লক্ষণ, আবেগগত লক্ষণ, এবং রোগের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য কারণগুলি অন্তর্ভুক্ত থাকে।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক রোগীর লক্ষণ সমষ্টিকে একটি নির্দিষ্ট ওষুধের সাথে তুলনা করেন। সেই ওষুধটি রোগীর লক্ষণ সমষ্টির সাথে যতটা সম্ভব মিলে যাবে, সেটিই রোগীর জন্য উপযুক্ত ওষুধ। হোমিওপ্যাথিতে লক্ষণ সমষ্টির গুরুত্ব অপরিসীম। লক্ষণ সমষ্টির ভিত্তিতেই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক রোগের মূল কারণ নির্ধারণ করেন এবং তার জন্য উপযুক্ত ওষুধ নির্বাচন করেন।

হোমিওপ্যাথিতে লক্ষণ সমষ্টি সংগ্রহ
হোমিওপ্যাথিতে লক্ষণ সমষ্টি সংগ্রহ

 

হোমিওপ্যাথিতে লক্ষণ সমষ্টি সংগ্রহ করব কিভাবে?

সে সম্পর্কে হ্যানিম্যান তাঁর ‘Chronic Disease’গ্রন্থের ‘Cure of the chronic Diseases.’ অধ্যায়ে বলেন- লক্ষণ সমষ্টি চিকিৎসক যদি তাঁর হোমিওপ্যাথ নামের মর্যাদা রক্ষা করে চলতে চান, তাহলে তাঁকে রোগক্লিষ্ট বিপদাপন্ন মানুষকে তার স্বাস্থ্য ফিরিয়েদেওয়ার কাজটাই অন্য যে কোন কিছুর চেয়ে সবচেয়ে বেশী সচেতনতার সহিত করতে হবে।

সে জন্য প্রথমেই তাঁকে রোগীর পুরো পরিস্থিতি, আভ্যন্তরীণ কারণ যতটা সে স্মরণ করতে পারে, রোগের পরিপোষক কারণ, তার জীবনযাপন পদ্ধতি, তার মন, আত্মা এবং শরীরের বৈশিষ্ট্য এবং সেই সঙ্গে তার সমস্ত লক্ষণ (অর্গাননের নির্দেশনাগুলি দেখুন) সম্বন্ধে খোঁজ নিতে হবে।

তারপর তাঁকে একদিকে যেমন ক্রনিক ডিজিজেস অন্যদিকে তেমনি ম্যাটিরিয়া মেডিকা পিউরা থেকে খুব সতর্কতার সহিত এমন একটি ঔষধ খুঁজে বেরকরতে হবে যে ঔষধটির সঙ্গে যতটা সম্ভব সবদিক থেকে সদৃশ হয় অথবা অন্ততঃপক্ষে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক এবং অদ্ভুত লক্ষণগুলির সাথে সদৃশ হয়।

হোমিওপ্যাথির নতুন কোন ছাত্র বা কোন তরুণ চিকিৎসক ম্যাটিরিয়া মেডিকা থেকে একটি ঔষধ অধ্যয়ন করলে তাঁর কাছে মনে হবে যে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা অতি সহজ এবং যে ঔষধটি তিনি পড়তেছেন সে ঔষধটি দিয়ে অনেক রোগ ভাল হয়ে যাবে।

Read More:সংক্ষিপ্ত ভাবে সালফার ও থুজা 

এরপর তিনি যখন আরো ঔষধ অধ্যয়ন করতে থাকবেন তখন তিনি দেখবেন যে, সব ঔষধ একই ধরনের। একটির সাথে অপরটির তেমন কোন পার্থক্য নেই। এর কারণ কি?

এর কারণ হচ্ছে উপরোক্ত ব্যক্তিগণ ঔষধের সাধারণ লক্ষণগুলি অধ্যয়ন না করেই ম্যাটিরিয়া মেডিকা পড়া শুরু করেছেন। কারণ প্রতিটি ঔষধের মধ্যেই সাধারণ লক্ষণ ও চরিত্রগত লক্ষণ এই দুই প্রকার লক্ষণই বর্তমান থাকে।

সাধারণ লক্ষণ থাকে অনেক বেশী আর চরিত্রগত লক্ষণ থাকে অনেক কম। যেহেতু সাধারণ লক্ষণগুলি প্রতিটি ঔষধের মধ্যেই থাকে সেহেতু ঐ লক্ষণগুলি আগেই আয়ত্ব করে নিলে ঔষধ অধ্যয়নের সময় প্রতিটি ঔষধ থেকে ঐ লক্ষণগুলি বাদ দিলে যে লক্ষণগুলি অবশিষ্ট থাকে সেগুলিই হচ্ছে চরিত্রগত লক্ষণ এবং এই চরিত্রগত লক্ষণের সমষ্টিই হচ্ছে একটি ঔষধের লক্ষণ সমষ্টি যা দিয়ে একটি ঔষধকে চিত্রিত করা হয়। আর এটিই ছিল হ্যানিম্যানের পদ্ধতি।

হোমিওপ্যাথিতে লক্ষণ সমষ্টি সংগ্রহ
হোমিওপ্যাথিতে লক্ষণ সমষ্টি সংগ্রহ

লক্ষণ দুই প্রকার – অপরদিকে একটি রোগীর ক্ষেত্রেও তাই। যেহেতু প্রতিটি রোগীর মধ্যেও ঠিক একই ভাবে সাধারণ লক্ষণ ও চরিত্রগত লক্ষণ এই দুই প্রকার লক্ষণই বর্তমান থাকে। সেহেতু যখন কোন রোগীর লক্ষণ সংগ্রহ করা হয় তখন রোগীর সাধারণ লক্ষণগুলি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র তার চরিত্রগত লক্ষণগুলিই সংগ্রহ করা হয় এবং এই চরিত্রগত গুলিই হচ্ছে একটি রোগীর চরিত্রগত লক্ষণ সমষ্টি।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে ম্যাটিরিয়া মেডিকা অধ্যয়নের আগে সাধারণ লক্ষণগুলি আগেই আয়ত্ব করে নিতে হয় যেগুলি ঔষধ ও রোগী উভয়ের মধ্যেই থাকে এবং যেগুলিকে রোগের লক্ষণও বলা হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সাধারণ এই লক্ষণ গুলিকে রোগের লক্ষণ কেন বলা হয়?

Read More:ঔষধ নির্বাচন কৌশল

Read More: হোমিওপ্যাথি সাপ্রেসন

এ প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে সাধারণ এ লক্ষণগুলিকে রোগের লক্ষণ বলা হয় কারণ সাধারণ কিছু লক্ষণ একত্র করে একটি রোগের নামকরণ করা হয়। একই ভাবে ঔষধ নির্বাচনার্থে লক্ষণ সমষ্টি কিভাবে সংগ্রহ করতে হবে সে ব্যাপারে হ্যানিম্যান অর্গাননের ৫ নম্বর সূত্রে বলেন, তরুণ রোগের সর্বাপেক্ষা সম্ভাব্য উত্তেজক কারণগুলি আরোগ্যের ক্ষেত্রে চিকিৎসককে যেমন সহায়তা করে,

ক্রনিক রোগের রোগীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণসমূহের পূর্ণ ইতিহাস তেমনি ক্রনিক রোগের মূল কারণ, যা সাধারণত কোন একটি ক্রনিক মায়াজম, উদঘাটনে সাহায্য করে।

এই সব বিষয় অনুসন্ধানের জন্য যতটা সম্ভব রোগীর দৈহিক গঠন (বিশেষ করে রোগটি যদি ক্রনিক হয়), তার নৈতিক এবং মানসিক চরিত্র, তার পেশা, জীবন যাপন ও অভ্যাসগত অবস্থা, তার সামাজিক এবং পারিবারিক সম্পর্ক, তার বয়স, যৌন ক্রিয়াকলাপ ইত্যাদি বিবেচনায় আনতে হবে।

Resources:

https://themetix.com/

Similar Posts