মায়াজম কি? মায়াজম হচ্ছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মূলমন্ত্র।হ্যানিম্যান মায়াজমকে একদিকে যেমন রোগ অন্যদিকে তেমনি রোগের কারণ বলে অভিহিত করেছেন। হোমিওপ্যাথি আবিষ্কারের পর সদৃশ নিয়মেই হ্যানিম্যান চিকিৎসা করে যাচ্ছিলেন।
কোন সুস্থ্য ব্যক্তি কোন ভেষজ দ্রব্য স্থুল মাত্রায় সেবন করলে তার দেহমনে যে সকল লক্ষণসমূহ (Signs & Symptoms) উপস্থিত হয়, রোগবশত কোন ব্যক্তির দেহমনে সেই রূপ লক্ষণসমূহ উপস্থিত হলে সেই ঔষধ সূক্ষ মাত্রায় সেবনেই সেই লক্ষণসমূহ দূরীভূত হয়।
যেমন- যে সিঙ্কোনার স্থুল মাত্রা সুস্থ্য মানব দেহে কম্প জ্বর উৎপন্ন করে। আবার সেই সিঙ্কোনারই সূক্ষ মাত্রা অসুস্থ্য মানব দেহের ঐ কম্পজ্বর আরোগ্যও করে। এটিই হচ্ছে হ্যানিম্যান কর্তৃক আবিষ্কৃত সদৃশ নীতি।
এ পর্যন্ত যাঁরা জানেন এবং মানেন তাঁরা যদি ময়াজম কি বা কেন তা জানার প্রয়োজন মনে না করেন তাহলে তঁদেরকে দোষারূপ করা যায়না। কিন্তু হ্যানিম্যান এ পর্যন্ত আবিষ্কার করেই ক্ষান্ত হননি। সত্যের ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত এ সূত্র আবিষ্কারের পর তিনি এ নীতিতেই চিকিৎসা করে অনেক রোগী স্থায়ী ও নিশ্চিত রূপে আরোগ্য করতে লাগলেন।
কিন্তু তিনি দেখতে পেলেন কোন কোন রোগীতে সুনির্বাচিত ঔষধ প্রয়োগ সত্ত্বেও ফল হয়না কিংবা কতক উপকার হয়ে আরোগ্য ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয় না অথবা পুনরায় পুনরায় রোগ প্রত্যাবর্তন করে।
মায়াজম কি
এ অবস্থা তাঁকে ভাবিয়ে তুলল এবং আবার তিনি এর কারণ অনুসন্ধানে ব্যাপৃত হলেন। দীর্ঘ ১২বছর অনন্তর গবেষণার পর তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে, মায়াজমই হচ্ছে রোগের মূল কারণ [যা তিনি তাঁর ‘অর্গানন অব মেডিসিন গ্রন্থের ৭৭ নং পাদটিকায় উল্লেখ করেছেন]।
কাজেই এখান থেকেই বুঝতে পারা যায় মায়াজম জানার গুরুত্ব কত অধিক। মায়াজমের উপর লেখা অনেক বই মার্কেটে আছে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে যে, মাতৃভাষায় সহজ ভাবে মায়াজমকে বুঝবার জন্য বাংলা ভাষায় লেখা তেমন কোন বই মার্কেটে নেই।
তাই আমার ব্যক্তিগত প্রয়োজনেই মায়াজমকে কিভাবে আয়ত্ত করা যায় সে ব্যাপারে আত্ম নিয়োগ করি যার ফল এই লেখা। আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক যাঁরা হ্যানিম্যানকে বিনাশর্তে অনুস্মরণ করেন, সম্মানিত অনেক চিকিৎসক তাঁদের উৎসাহ ও উদ্দীপনায় এই লেখাটি লেখার উদ্যোগ নেয়া হলো। বাংলা ভাষাভাষী চিকিৎসক যাঁরা কেবল মাত্র হ্যানিম্যানকেই অনুস্মরণ করতে চান তাঁদের জন্য লেখাটি উপকারে আসবে বলে আমি মনে করি।
আমরা প্রথমেই জানবো ‘Miasm বলতে কি বুঝায়। ‘Miasm’ একটি ইংরেজী শব্দ যা গ্রীক শব্দ (মায়াজমা) থেকে উদ্ভূত এবং এর অর্থ হচ্ছে নোংরা করা ((To stain) দূষিত করা ((To pollute) দূষণ (Pollution), Miasm ইত্যাদি। আভিধানিক ভাবে Miasm শব্দটির বৃটিশ চারণ হচ্ছে ‘মিয়াজম’ এবং আমেরিকান উচ্চারণ হচ্ছে ‘মায়াজম’।
মায়াজম কি
অপর পক্ষে শব্দটির বৃটিশ উচ্চারণ হচ্ছে ‘মিয়াজম্যাটিক’এবং আমেরিকান উচ্চারণ হচ্ছে ‘মায়াজম্যাটিক’ যার অর্থ হচ্ছে মায়াজম সম্পর্কিত। দেখা গেছে আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের বেশীর ভাগ চিকিৎসকই ‘এবং Miasmatic শব্দ দুটিকে যথাক্রমে ‘মায়াজম’ এবং ‘মায়াজম্যাটিক’ উচ্চারণ করে থাকেন।
ফলে লেখাটির শুরুতে আমি ‘মায়াজম’ এবং‘মায়াজম্যাটিক’ উচ্চারণ দুটিকেই প্রাধান্য দিয়েছি। অপরদিকে ‘Hahnemann’ নামটি একটি ‘Proper noun’ যার জার্মান উচ্চারণ হচ্ছে ‘হ্যানেম্যান’। কিন্তু চিকিৎসক সম্প্রদায়ের মধ্যে ‘হ্যানিম্যান’উচ্চারণটির প্রাধান্যই লক্ষ্য করা যায়। তাই অনুরূপ ভাবে আমার এ প্রবন্ধে আমি ‘হ্যানিম্যান’ উচ্চারণটিকেই বেছে নিয়েছি।
” A supposed predisposition to a particular disease, either inherited or acquired”
অর্থাৎ হোমিওপ্যাথিতে মায়াজম বলতে কোন একটি বিশেষ রোগের অনুমিত প্রবণতা বুঝায়, হোক তা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অথবা অর্জিত। Miasm শব্দটিকে বুঝাতে গিয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকগণ ‘Predisposition’ ‘Susceptibility’,’Dyscrasia’ ইত্যাদি শব্দগুলির সাহায্য নিয়েছেন যার সাধারণ অর্থ হচ্ছে প্রবণতা। কাজেই ‘Maims’ বলতে যা বুঝায় উপরোক্ত শব্দগুলি দ্বারাও তাই বুঝায়।
যাই হোক, এ সম্পর্কে হ্যানিম্যান যা বলেন সেটিই আমাদের দেখার বিষয় এবং সবচেয়ে গ্রহণ যোগ্য। হ্যানিম্যান তাঁর “The Chronic Diseases Their Peculiar Nature and Their Homoeopathic Cure” এবং ‘Organon of Medicine’গ্রন্থের বিভিন্ন জায়গায় ‘Maims’ কে একদিকে যেমন রোগ অন্যদিকে তেমনি রোগের কারণ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে, ‘Cessante causa’,’ Cessat effectus’. যার ইংলিশ অনুবাদ হচ্ছে ‘When the cause ceases, the effect ceases’.
অর্থাৎ রোগের কারণ দূর হলে রোগও দূর হয়। আবার তিনি ঐ একই গ্রন্থে সোরা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, ‘Psora is the oldest miasmatic chronic disease ‘ অর্থাৎ, সোরা হচ্ছে সবচেয়ে পুরাতন মায়াজম্যাটিক ক্রনিক রোগ।
Dr. Khatun invites you to join her in this journey with City Homeo. Your engagement and encouragement are crucial in advancing this endeavor. Together, we can strive towards a healthier community and a better tomorrow.