|

হোমিওপ্যাথি ঔষধ আর্ণিকা নির্বাচন কৌশল

হোমিওপ্যাথি ঔষধ আর্ণিকা নির্বাচন কৌশল – এটি হোমিওপ্যাথিক ওষুধ যা বিভিন্ন ধরনের অবস্থার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি প্রায়শই আঘাত, ব্যথা, এবং প্রদাহের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়। আর্ণিকা নির্বাচন করার সময়, লক্ষণগুলির সাথে ওষুধের মিলের উপর ভিত্তি করে একটি কৌশল ব্যবহার করা হয়। এ ব্লগে আমরা যা পাবো –

  • হোমিওপ্যাথি ঔষধ আর্ণিকা নামক ঔষধটি কিভাবে নির্বাচিত হলো ?
  • আর্ণিকা রোগীর কেইস এনালাইসিস এ দেখা যাবে কিভাবে বাহ্যিক আঘাত জনিত রোগ লক্ষণ সমষ্টি চাপা পড়ে। 
হোমিওপ্যাথি ঔষধ আর্ণিকা নির্বাচন কৌশল
হোমিওপ্যাথি ঔষধ আর্ণিকা নির্বাচন কৌশল

 

আজ থেকে ১৫ বছর আগের কথা। ৭০ বছর বয়সের একজন স্ত্রীলোক চিকিৎসার জন্য আমার কাছে আসলেন। তার রোগ লক্ষণের এতই আধিক্য ছিল যে, কোনটি চরিত্রগত লক্ষণ তা খুঁজে পাওয়া আমার জন্য কঠিন ছিল।

শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁচাকর ব্যথা (Bruised pain) ছিল।রোগের কারণ হিসেবে জানা গেল যে,ঐ সময় থেকে ৩০ বছর আগে তার স্বামী তাকে বাটনা বাটার শিল দিয়ে পিটিয়েছিলেন এবং এর পর থেকে আলোপ্যাথি, কবিরাজী, আয়ুর্বেদী ইত্যাদি কোন চিকিৎসাতেই আর ভাল হতে পারেননি।

উপরোক্ত দুটি লক্ষণের সাদৃশ্যে তাকে হোমিওপ্যাথি ঔষধ আর্ণিকা M/1 হতে M/10 পর্যন্ত প্রয়োগ করায় তিনি ৮০% সুস্থ হয়ে যান।

হোমিওপ্যাথি ঔষধ আর্ণিকা নামক ঔষধটি কিভাবে নির্বাচিত হলো?

উত্তর জেনে রাখা খুবই জরুরী। হ্যানিম্যন বলেছেন লক্ষণ সমষ্টির ভিত্তিতেই ঔষধ নির্বাচিত হয়। কিন্তু তিনি রোগীর লক্ষণ সমষ্টি সংগ্রহের সময় রোগের কারণও জানতে বলেছেন। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে রোগীর লক্ষণ সমষ্টির সাদৃশ্যেই যদি ঔষধ নির্বাচন করতে হয় তাহলে রোগের কারণ জেনে লাভ কি ?

এ দুটি প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, রোগীর রোগের বা লক্ষণ সমষ্টির কারণ জানতে পারলে ঔষধ নির্বাচনে দিক নির্দেশনা পাওয়া যায় এবং অনেক সুবিধা হয়।

Read More:হিপার সালফার হোমিও ঔষধ

কারণই লক্ষণে পরিণত হয়। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, রোগীর রোগের কারণই একটি লক্ষণ। অর্থাৎ কারণই লক্ষণে পরিণত হয়। যেমন, পুকুরে কিংবা নদীতে সাঁতার কাটা অথবা বৃষ্টিতে ভিজা জনিত কারণে রোগ লক্ষণের বা লক্ষণ সমষ্টির সৃষ্টি যেমন – জ্বর লক্ষণের আবির্ভাব, ঠান্ডা বা সর্দি লাগা।

শরীর বেদনা রাত্রি জাগরণ জনিত কারণে মাথা ব্যথা, অস্বস্তি লাগা; চর্বিযুক্ত আহার গ্রহণ জনিত কারণে উদরাময় বা পাকস্থলীর নানাবিধ লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া ইত্যাদি। এ ধরণের হঠাৎ রোগ লক্ষণ আবির্ভাবের ক্ষেত্রে ঐ ধরণের কারণ সমূহ রোগীর লক্ষণ সমষ্টির মধ্যে একটি লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয।

কিন্তু সব সময়ই মনে রাখতে হবে যে- লক্ষণ সমষ্টির মাধ্যমেই ঔষধ নির্বাচিত হবে, শুধুমাত্র কারণ দ্বারা রোগীর ঔষধ নির্বাচিত হয় না। উপরোক্ত রোগীর লক্ষণ সমষ্টির মধ্যে ছ্যাচাকর ব্যথা (Bruised pain) আর্ণিকার একটি চরিত্রগত (Characteristic) লক্ষণ হওয়ায় এবং রোগের কারণ একটি লক্ষণে পরিণত হওয়ায় রোগীর মধ্যে আর কোন চরিত্রগত লক্ষণ পাওয়া না গেলেও এ দুটি লক্ষণের সমষ্টিই হোমিওপ্যাথি ঔষধ আর্ণিকা নামক ঔষধটির চিত্রকে নির্দেশ করে। আর এ কারণেই রোগীর হোমিওপ্যাথি ঔষধ আর্ণিকা নির্বাচিত হয়েছে।

Read More:হোমিওপ্যাথিতে লক্ষণ সমষ্টি সংগ্রহ

রোগীর কেইস এনালাইসিস এ রোগীর কেইস এনালাইসিস থেকে আমরা কি শিখব? এ রোগীর লক্ষণ সমষ্টি বাহ্যিক আঘাত জনিত কারণে উদ্ভূত হয়েছে। আভ্যন্তরিক কোন সুপ্ত কারণে তার রোগ লক্ষণ সমূহের উদ্ভব হয়নি অথচ তার পরও তিনি ৩০ বছর যাবৎ রোগ লক্ষণের জটিলতায় কষ্ট পেয়ে আসছেন।

বিসদৃশ চিকিৎসায় তার রোগ লক্ষণগুলি যেমন একের পর এক শুধুই চাপা পড়েছে রোগ যন্ত্রণাও ঠিক তেমনি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ছে। এ রোগীর কেইস থেকে বুঝা যাচ্ছে কিভাবে বাহ্যিক আঘাত জনিত রোগ লক্ষণ সমষ্টি চাপা পড়ে এবং এ চাপা পড়া লক্ষণ সমষ্টি আবার কিভাবে সদৃশ চিকিৎসার মাধ্যমে দূর করে রোগীকে আরোগ্য করতে হয়।

https://www.bajajfinservhealth.in/bn/articles/arnica-benefits

Similar Posts