প্রস্রাবের রাস্তা চিকন হোমিও ঔষধ
প্রস্রাবের রাস্তা চিকন হয়ে গেলে প্রস্রাব করার সময় প্রচন্ড যন্ত্রণা করে এবং অত্যন্ত অস্বস্তি হয়। এমন কি এক্ষেত্রে অনেক জটিল সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। অনেক সময় প্রস্রাব অবরুদ্ধ হয়ে মূত্রনালী অসম্ভব ফুলে ওঠে এবং এমনও অবস্থা হয়, মূত্রনালী অনেক ক্ষেত্রে ফেটে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
Read Also – হোমিওপ্যাথি ওষুধের নাম ও কাজ

এই অবস্থাকে “ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার” বা “প্রস্রাবের রাস্তা চিকন হয়ে যাওয়া” বলে। এ ধরনের সমস্যা সাধারণত পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।আজকে আমার ব্লগে খুবই মূল্যবান একটি বিষয় “প্রস্রাবের রাস্তা চিকন হোমিও ঔষধ”এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করব আশা করছি আপনারা আমার সাথে থাকবেন, চলুন আলোচনা শুরু করা যাক।
এখানে আমরা প্রস্রাবের রাস্তা চিকন হয়ে যাওয়া (ইউরেথ্রা স্ট্রিকচারের) লক্ষণ, কারণ, প্যাথলজিক্যাল টেস্ট,প্রতিকার, হোমিও ঔষধ এবং এর চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরব, যাতে আপনি সময়মতো এই সমস্যাটি চিহ্নিত করতে এবং সঠিক চিকিৎসা নিতে পারেন।
যেসব টপিকগুলো নিয়ে আলোচনা করব –
প্রস্রাবের রাস্তা চিকন চিকিৎসা
মূত্রনালী অতিরিক্ত সরু হয়ে গেলে পরবর্তীতে আপনার সকল ধরনের ওষুধ খেয়েও যদি না কমে তবে সে ক্ষেত্রে আপনাকে সার্জারি করতে হবে। খুব সহজেই এ রোগ হয়ে গেলেও এর চিকিৎসা পদ্ধতি অত্যন্ত জটিল। অনভিজ্ঞ সার্জন দ্বারা যদি আপনি আপনার সার্জারি করান তবে সেক্ষেত্রে আপনাকে আরো বেশি সমস্যা ভুগতে পারেন। কখনো কখনো দুই মাস চার মাস বা এক বছর পরে সেই আবার ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার দেখা দেয়।
প্রস্রাবের রাস্তা চিকন হলে হোমিও যে ঔষধ গুলো ব্যবহার করে
হোমিওপ্যাথিতে প্রস্রাবের রাস্তা চিকন(ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার) এর জন্য যথেষ্ট ভালো চিকিৎসা আছে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকরা প্রস্রাবের রাস্তা চিকন(ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার) এর চিকিৎসা সুনামের সাথে দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে এবং সফলতাও পাচ্ছে যথেষ্ট। তবে হোমিওপ্যাথিতে ধৈর্য ধরে বেশ কিছুদিন ঔষধ খাওয়ার প্রয়োজন হয়। আমার মতে ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচারের চিকিৎসা কখনোই অপারেশন হতে পারে না।
আপনার প্রয়োজন একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া এবং প্রপার চিকিৎসাটা নেওয়া। যে চিকিৎসক হ্যানিম্যানের আদর্শ মেনে চলে এবং হোমিওপ্যাথি মতে চিকিৎসা করেন থাকে। প্রয়োজনে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

Sulfur
সালফার: প্রধান সোরা দোষঘ্ন ঔষধ। এর ক্রিয়াকেন্দ্র ত্যাগী, ভিতর হতে বাইরের দিকে। বার বার প্রস্রাব ত্যাগ বিশেষ করে রাত্রে। অসাড়ে প্রস্রাব ত্যাগ। প্রস্রাব ত্যাগ কালে প্রস্রাব পথে জ্বালা পোড়া।প্রস্রাবে পুজ রক্ত ও শ্লেষ্মা নির্গত হয়।প্রস্রাবে তেল জাতীয় পদার্থ ভাসে। প্রস্রাবের সময় প্রস্রাবনালীতে কেটে ফেলার মত যন্ত্রণা এবং পুজ পড়ে। লিংগ শিথিল হয়ে পড়ে।
Silicea
সাইলেসিয়া: রক্তাক্ত প্রস্রাব এবং অসাড়ে নির্গত হয়।প্রস্রাবে লাল অথবা হলদে তলানি পড়ে।প্রস্রাব ত্যাগের সময় কোঁথ দিলে প্রষ্টেট গ্রন্থি হতে নিঃসৃত এক প্রকার পিচ্ছিল তরল পদার্থ নির্গত হয় । জননেন্দ্রিয়ে জ্বালা পোড়া ভাব ও টাটানি। পুরাতন গনোরিয়া তৎসহ ঘন দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব নির্গত হয়, অন্ডকোষ বৃদ্ধি, স্বপ্নদোষ এবং কোরন্ড রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। পায়ের ডিমে এবং পদতলে খিল ধরে। পায়ের শক্তিহীনতা, ঘুমের মধ্যে চমকিয়ে উঠে। পা দুটি বরফের মত ঠান্ডা এবং ঘর্মযুক্ত। যথার্থ স্ট্রিকচার লক্ষণে ইহা একটি বিশেষ উপকারী ঔষধ। ইহা সাধারণত তরুণ অবস্থা উত্তীর্ণ হলে প্রযোজ্য।
Arsenic album
আর্সেনিক: প্রস্রাব অল্প, জ্বালাকর, অনিচ্ছায় বের হয়ে যায়। মনে হয় প্রস্রাবের রাস্তাটি পক্ষাঘাতগ্রস্ত । অন্ড লালময় প্রস্রাব। প্রস্রাবের মধ্যে উপত্বকের অংশ, পুঁজ, রক্তের কণিকা এবং জমাট বাধা সৌত্রিক তন্তু । প্রস্রাব করার পর তলপেটে দুর্বলতার অনুভূতি।
Belladonna
বেলেডোনা: প্রস্রাব অবরোধ, তরুণ প্রস্রাবযন্ত্রের রোগ। মনে হয় প্রস্রাব যন্ত্রটিতে একটি পোকা চলে বেড়াচ্ছে। প্রস্রাব অল্প তৎসহ কুন্থন। প্রস্রাব কালো, ঘোলাটে এবং ফসফেট যুক্ত। প্রস্রাবের রাস্তাটি স্পর্শকাতর। প্রস্রাববোধ, অবিরত ফোঁটা ফোঁটা করে পড়ে। কখনও প্রস্রাববেগ যথেষ্ট এবং পুনঃপুন ।
Camphor
ক্যাম্ফর: প্রস্রাবের রাস্তাটির মুখে জ্বালাপোড়া, কুন্থনসহ প্রস্রাবত্যাগ, প্রস্রাব-কষ্টসাধ্য। প্রস্রাবের রাস্তা পূর্ণতা সহ প্রস্রাববোধ।
Cantharis
ক্যানথারিস: তীব্র প্রস্রাববেগ ও কুন্থন, প্রস্রাবের রাস্তায় প্রদাহ এবং রক্তাক্ত প্রস্রাব, থেকে থেকে যন্ত্রণার অনুভব। প্রস্রাব যন্ত্র কেটে ফেলার ন্যায় ব্যথা, জ্বালাকর ব্যথা, কষ্টকর প্রস্রাববেগ। ফোঁটা ফোঁটা করে প্রস্রাব পড়ে, ভয়ানক কুন্থন। প্রস্রাব ত্যাগের পূর্বে, প্রস্রাব ত্যাগের -কালে এবং পরে ভয়ানক জ্বালাপোড়া। প্রস্রাব এত গরম যে গায়ে লাগলে পুড়ে যাবার মত জ্বালা করে, অবিরত প্রস্রাববেগ।
Morphinum
মর্ফিনাম: প্রস্রাবাশয়ের আংশিক পক্ষাঘাত। মূত্রকষ্ট। ধীরে ধীরে ও কষ্টকর প্রস্রাবস্রাব । প্রস্রাবরোধ । প্রষ্টেট গ্রন্থির স্ফীতি। তরুণ ও পুরাতন মূত্রনালীর সংক্রমণ।
নাক্সভমিকা: সংকোচক পেশীর আক্ষেপ হেতু প্রস্রাবাধারের উত্তেজনা । পুনঃপুন প্রস্রাববেগ, প্রতিবারেই অতি সামান্য প্রস্রাব। রক্ত প্রস্রাব, নিষ্ফল প্রস্রাবত্যাগ প্রবৃত্তি, আক্ষেপ ও প্রস্রাবকৃচ্ছ্রতা। কিডনির শূল ব্যথা, ব্যথা জননেন্দ্রিয় পর্যন্ত হয় তৎসহ ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব পড়ে । প্রস্রাবত্যাগ কালে প্রস্রাব পথে চুলকানি। প্রস্রাবের রাস্তাটির মুখে প্রবল ব্যথা।
Stigmata
ষ্টিগম্যাটা: প্রস্রাবরোধ বা প্রস্রাবনাশ। প্রস্রাবকৃচ্ছ্রতা। পাথরী, প্রস্রাবগ্রন্থি সংক্রান্ত শূল ব্যথা । প্রস্রাবে রক্ত ও লাল বালুকাবৎ তলানি। প্রস্রাবের পর কুন্থন, প্রস্রাবের রাস্তায় সর্দি, গনোরিয়া, প্রস্রাবের রাস্তায় প্রদাহ।
Terebinthinae
টেরিবিন্থিনা: প্রস্রাব কৃচ্ছ্রতা তৎসহ রক্তাক্ত প্রস্রাব, প্রস্রাব অতি সামান্য, প্রস্রাবরোধ, প্রস্রাবে ভায়োলেট ফুলের গন্ধ, লিঙ্গ উত্থান সহ প্রস্রাবনালীর প্রদাহ। কোন তরুণ রোগের পরবর্তী প্রস্রাবগ্রন্থি প্রদাহ,সারাক্ষণ কুন্থন ভাব।
Copaiva
কোপেইভা: প্রস্রাব জ্বালাকর, চাপবোধ, কষ্টকর প্রস্রাব, প্রস্রাব ফোঁটা ফোঁটা করে বের হয়, প্রস্রাবরোধ তৎসহ প্রস্রাবধার, গুহ্যদেশ এবং সরলাস্ত্র ব্যথা। প্রস্রাবাধারের সর্দিজ লক্ষণ, প্রস্রাবনালীর স্ফীতি। সর্বদাই প্রস্রাব ত্যাগের ইচ্ছা। প্রস্রাব ঘোলাটে, ঝাঁঝাল গন্ধযুক্ত।
Sabal Serrulata
স্যাবালমেরুলেটা: রাত্রে বার বার প্রস্রাব ত্যাগের ইচ্ছা, অসাড়ে প্রস্রাবত্যাগ। প্রস্রাবাধার মুখের সংকোচক পেশীর পক্ষাঘাত। পুরাতন গনোরিয়া রোগ, প্রস্রাব ত্যাগে কষ্ট। প্রস্রাবনালীর প্রদাহ তৎসহ প্রষ্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি।
Plumbum Metallicum
প্লাম্বাম মেটালিকাম: পুনঃপুন নিষ্ফল প্রস্রাববেগ। প্রস্রাব এলবুমেন যুক্ত প্রস্রাবের আক্ষেপিক গুরুত্ব অল্প, প্রস্রাব গ্রন্থিদ্বয়ের মধ্যস্থলের পুরাতন প্রদাহ তৎসহ তলপেটে প্রবল ব্যথা। প্রস্রাব অল্প, প্রস্রাবনালীর কোঁথানি সহ ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব পড়ে।
Read More:প্রস্রাবের সমস্যা সার্সাপেরিলা
Opium
ওপিয়াম: প্রস্রাব আরম্ভ হতে বিলম্ব হয়, সরু ধারায় প্রস্রাব হয়। ভয় পেয়ে প্রস্রাবরোধ। অসাড়ে প্রস্রাব। লিঙ্গে শক্তি ও অনুভূতি লোপ।
Equisetum
ইকুইসেটাম: প্রস্রাবাশয়ে অতি কষ্টকর ব্যথা এবং লিঙ্গে নিস্তেজ ভাব, পূর্ণতাবোধ। প্রস্রাবত্যাগে উপশমবোধ হয় না। পুনঃ পুনঃ প্রস্রাববেগ। প্রস্রাব ত্যাগের পর তীব্র ব্যথা। প্রস্রাব ফোঁটা ফোঁটা করে পড়ে। প্রস্রাব ত্যাগ কালে প্রস্রাব পথে তীব্র জ্বালাকর, কেটে ফেলার মত তীব্র ব্যথা। বৃদ্ধাদের অসাড়ে প্রস্রাব ত্যাগ তৎসহ অসাড়ে মলত্যাগ। প্রস্রাবে প্রচুর শ্লেষ্মা মেশান, অন্ডলালা প্রস্রাব, শিশুদের অসাড়ে প্রস্রাব। ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে প্রস্রাব নিঃসরণ।
Chimaphila Umbellata
চিমাফিলা আম্বেলেটা: স্বপ্নেপ্রস্রাব, তার সাথে দড়ির মত পুজ ও শ্লেষ্মাময় তলানি, প্রস্টেট গ্রন্থির স্ফীতি, প্রস্রাববেগ সহ্য করতে পারে না। প্রস্রাব ঘোলাটে, দুর্গন্ধযুক্ত। প্রস্রাবত্যাগে প্রবলভাবে বেগ দিতে হয়। স্বল্পেপ্রস্রাব। প্রস্রাবরোধ, মনে হয় প্রস্রাবাধারে বলের মত কিছু একট রয়েছে। প্রস্রাবগ্রন্থির স্থানে ফড় ফড় করে। প্রস্রাবে চিনি। দাঁড়িয়ে পা ফাঁক করে সামনের দিকে ঝুঁকে প্রস্রাব ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
Causticum
কষ্টিকাম: হাঁচিতে কাশিতে প্রস্রাব হয়। প্রস্রাব অতি ধীরে নির্গত হয় আবার মাঝে মাঝে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সামান্য উত্তেজনায় অসাড়ে প্রস্রাবস্রাব হয়। অস্ত্রোপচারের পর প্রস্রাবরোধ কখন কিভাবে প্রস্রাব হচ্ছে তা বুঝতে পারে না।
Prunus Spinosa
প্রুনাস স্পাইনোসা: প্রস্রাবে কুন্থন লাগে। প্রস্রাব ত্যাগের নিষ্ফল চেষ্টা, তাড়াতা প্রস্রাব করতে হয় বলে যেন প্রস্রাব জননেন্দ্রিয়ের মুন্ড পর্যন্ত এসেছে কিন্তু তা আবার ফি যায়, প্রস্রাবনালীতে ব্যথা। অসম্ভব কুন্থনের পর ফোঁটা ফোঁটা সামান্য মাত্র প্রস্রাব হয়। মনে হয় প্রস্রাব পথ অবরুদ্ধ।
আনুষংগিক ব্যবস্থা ও পথ্য: গরম পানিতে গোসল অনেকাংশে আরাম মিলে এবং উষ্ণ সেক দেয়া উচিৎ, তরল পুষ্টিকর খাদ্য ও পানীয় প্রয়োজন। প্রচুর পরিমাণে জলপানের অভ্যাস করলে হয়। উগ্র জাতীয় খাদ্য বা যে কোন নেশা বর্জনীয়।
Urethral Stricture.ইউরেথ্রা্ল স্ট্রিকচার কি?
মূত্রনালী চিকন সরু হয়ে গেলে যে রোগ হয় সে রোগটিকে প্রস্রাবের রাস্তা চিকন হয়ে যাওয়া বা ইউরেথাল স্টিকচার বলা হয়ে। ইউরেথ্রা হল মূত্রনালী যেটা দিয়ে শরীর থেকে প্রস্রাব বের হয়। প্রথমে অসম্পূর্ণ মূত্র নিঃসরণ এবং শেষ পর্যন্ত মূত্রত্যাগে সম্পূর্ণ অসমর্থ লক্ষণকেই মূত্রনালীর সংকোচন বলা হয়। এই সংকোচন দু প্রকারের হতে পারে। যথা:
- আপেক্ষিক (spasmodic) এবং
- যান্ত্রিক (organic)
মূত্রনালীর পেশীগুলোর অনৈচ্ছিক সংকোচনের নাম আক্ষেপিক সংকোচন। মূত্রনালীর অভ্যন্তরে এক স্থানে শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী পুরু ও কঠিন হয়ে একটি ক্ষুদ্রাকৃতি অবরোধ সৃষ্টি করে, ফলে নালীটি সেই স্থানে অনেকাংশে তুলনামূলক ভাবে সংকীর্ণ হয়ে যায় এবং তার ভিতর দিয়ে মূত্র নির্গত হতে পারে না। এই অবস্থাকে যান্ত্রিক সংকোচন বলে।
মূত্রনালীর এই প্রকার সংকোচনকেই প্রকৃত পক্ষে স্ট্রিকচার (Stricture) বলে। মূত্রনালীর শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীগুলো ধীরে ধীরে পুরু ও কঠিন বা সংকীর্ণ হয়ে যাবার জন্য মূত্রনালীর দিয়ে মূত্র যথাযথ ভাবে নির্গত হতে পারে না। এতে প্রথমে মূত্র আংশিক ভাবে নির্গত হয় তারপর নির্গত একদম হতে পারে না। এ অবস্থায় রোগী ভয়ানক যন্ত্রণা পায়। সাধারণত গনোরিয়া,সিফিলিস বা অন্য কোন কারণে মূত্রনালী সংকুচিত হলে আমরা ষ্ট্রিকচার বলে থাকি।
প্রস্রাবের রাস্তা চিকন হয়ে যাওয়া (ইউরেথ্রা স্ট্রিকচারের) লক্ষণ
ইউরেথ্রা স্ট্রিকচার হল একটি শারীরিক সমস্যা যেখানে মূত্রনালী সংকুচিত বা ব্লক হয়ে প্রস্রাবের রাস্তা চিকন হয়ে যায়। এটি সাধারণত আঘাত, সংক্রমণ বা প্রদাহের কারণে ঘটে এবং এর ফলে মূত্র প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়।এই সমস্যা প্রাথমিকভাবে পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, নারীদেরও এই রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়।

ইউরেথ্রা স্ট্রিকচারের লক্ষণগুলির মধ্যে মূত্রত্যাগের সময় ব্যথা, প্রস্রাবের প্রবাহ কমে যাওয়া এবং বারবার মূত্রনালী সংক্রমণ অন্যতম। প্রস্রাবের নালী সঙ্কুচিত হলে নানান উপসর্গ দেখা দেয়, যার মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য হলো:
প্রস্রাবের রাস্তা চিকন হয়ে যাওয়া প্রচলিত লক্ষণ:
- প্রস্রাব করার সময় ব্যথা বা জ্বালা করা
- প্রস্রাবের গতি কমে যাওয়া
- প্রস্রাবের পরিমাণ কম হওয়া
- বার বার প্রস্রাব করার প্রবণতা
- প্রস্রাব করার পরও প্রস্রাব পুরোপুরি না হওয়ার অনুভূতি
- দু’নালে প্রস্রাব হওয়া
- প্রস্রাবের সাথে রক্ত পড়া
- পেটে ব্যথা
- মূত্রনালী পথে নিঃসরণ
- অল্প পরিমাণে প্রস্রাব হওয়া
- ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
- প্রস্রাব হঠাৎ আটকে যাওয়া কিংবা দীর্ঘমেয়াদি আটকে যাওয়া
- পেছন দিকে চাপের কারণে কিডনি বড় হওয়া
- মূত্রনালী বা পেনিস থেকে তরল নিঃসরণ হওয়া
প্রস্রাবের রাস্তা চিকন হয়ে যাওয়া (ইউরেথ্রা স্ট্রিকচারের)কারণ
মূত্রনালীর ভিতর অংশ শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী (Mucous membrane) দ্বারা আবৃত থাকে। এই শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী (Mucous membrane) লাল বর্ণের একটি কোমল পর্দা বিশেষ। এটা মাংস অপেক্ষাও কোমল। গনোরিয়া প্রভৃতি রোগে মূত্রনালী দিয়ে ক্রমাগত পুজ পড়তে থাকে এবং এর ফলে ঐ কোমল শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীতে কোথাও কোথাও ক্ষতের সৃষ্টি হয় এবং সেই ক্ষত আরোগ্য হলে আক্রান্ত অংশ সংকুচিত ও সরু হয়ে যায় এবং স্ট্রিকচার সৃষ্টি হয়।
স্ট্রিকচারের সঠিক চিকিৎসা করা না হলে মূত্রনালীতে টান পড়ার কারণে মূত্রথলির মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এর কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন- প্রস্রাব আটকে যাওয়া (প্রস্রাব করতে অক্ষমতা), প্রস্রাব ঝরতে থাকা, প্রস্রাবের পথে প্রদাহ বা সংক্রমণ, রিফ্লাক্স (যখন প্রস্রাব কিডনিতে ফিরে যায়), এবং কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়া সহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার বা প্রস্রাবের নালী সঙ্কুচিত হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কারণ হলো:
- প্রদাহ: অতিরিক্ত মদ্যপান, উত্তেজক ও অতিরিক্ত গরম মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে মূত্রপাথর (Bladder) প্রদাহ ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়ে মূত্রনালীর ইরিটেশন এবং প্রদাহ ভাব সৃষ্টি হয়।
- (masturbation) হস্তমৈথুন: অত্যধিক (masturbation) হস্তমৈথুন এর ফলে স্ট্রিকচার হতে পারে।
- হাইপারথার্মিয়া: অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বা গরমে এই জাতীয় স্ট্রিকচার সৃষ্টি হতে পারে।
- যৌন সংক্রমণ: ক্লামাইডিয়ার মতো যৌন সংক্রমণ, গনোরিয়া, সিফিলিস প্রভৃতি রোগে মূত্রনালীর মধ্যে ক্ষত হলে স্ট্রিকচার সৃষ্টি হতে পারে।
- (Injury)আঘাত: যেকোনো দুর্ঘটনায়, তলপেটে আঘাত লেগে বা অন্যান্য আঘাতজনিত কারণে প্রস্রাবের রাস্তা চিকন হয়ে যেতে পারে।
- উত্তেজক ঔষধাদি: এই রোগের জন্য কোন উত্তেজক ঔষধাদি পিচকারী দ্বারা মূত্রনালীর মধ্যে প্রবেশ করালে অনেক সময় স্ট্রিকচার হতে পারে। অনেক সময় এই ট্রিকচার মূত্রনালীর একাধিক অংশে সৃষ্টি হতে পারে।
- ব্যালানাইটিস জেরোটিকা অবলিটারেনস বা বিএক্সও (লাইচেন স্ক্লোরোসিস) মূত্রনালী ও পুরুষাঙ্গের জন্মগত অস্বাভাবিকতা।
- অর্গানিক: অর্গানিক যে কোন প্রকারেই ট্রিকচার হোক না কেন তা অতি বেদনা ও যন্ত্রণাদায়কহয়।
- মূত্রথলিতে সংক্রমণ (UTI): মূত্রথলিতে সংক্রমণ হলে প্রস্রাবের পথ ফুলে বা সরু হয়ে যেতে পারে।
- প্রস্টেটের বৃদ্ধি (পুরুষদের ক্ষেত্রে): প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হলে প্রস্রাবের পথ চাপা পড়ে যেতে পারে।
- পাথর বা স্টোন: মূত্রথলিতে বা প্রস্রাবের পথে পাথর থাকলে পথ সংকুচিত হয়ে যেতে পারে।
- ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার: ইউরেথ্রাতে কোনো ক্ষত বা জখম থাকলে প্রস্রাবের রাস্তা চিকন হয়ে যেতে পারে।
ইউরেথ্রা স্ট্রিকচারের প্যাথলজিক্যাল টেস্ট
প্রস্রাবের রাস্তা চিকন (ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার) প্যাথলজিক্যাল টেস্ট করার জন্য চিকিৎসকেরা বেশ কিছু পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে রয়েছে:
- ইউরোফ্লোমেট্রি টেস্ট (Uroflowmetry): এই পরীক্ষায় প্রস্রাবের প্রবাহের গতি নির্ণয় করা হয়। যদি মূত্রনালী সংকুচিত হয়, তাহলে প্রস্রাবের প্রবাহ কমে যায়।
- রেট্রোগ্রেড ইউরেথ্রোগ্রাম (Retrograde Urethrogram): এই পরীক্ষায় এক্স-রে এবং কনট্রাস্ট ডাই ব্যবহার করে মূত্রনালীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
- Cystoscope(সিস্টোস্কোপি): সরাসরি ইউরেথ্রা এবং ব্লাডার পরীক্ষা করতে একটি ছোট ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়।
ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার প্রতিরোধে কিছু সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা যেতে পারে:
- জলয়োজন: প্রস্রাব পাতলা রাখার জন্য এবং ইউটিআই-এর ঝুঁকি কমানোর জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা
- জ্বালাপোড়া প্রতিরোধ: ক্যাফিন এবং অ্যালকোহলসহ অন্যান্য বিরক্তিকর খাবারের গ্রহণ সীমিত করা
- নিরাপদ যৌন সম্পর্ক বজায় রাখা এবং যৌন সংক্রমণ এড়ানোর চেষ্টা করা
- দুর্ঘটনা ও আঘাত থেকে সাবধান থাকা
ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচারের জটিলতা
ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচারের চিকিৎসা না করালে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে, যেমন:
- প্রস্রাব আটকে যাওয়া
- মূত্রনালীতে আরেকটি পথতৈরি হওয়া
- মূত্রনালীতে পুঁজ হওয়া
- মূত্রনালীতে ফিস্টুলা হওয়া
- কিডনি বড় হওয়া
- প্রস্রাবে সংক্রমণ হওয়া
- প্রস্রাবের পথে পাথর হওয়া
- চাপের ফলে হার্নিয়া, হেমোরয়েড হওয়া বা মলদ্বার বেরিয়ে আসার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
উপসংহার
প্রস্রাবের রাস্তায় সঙ্কোচন বা চিকন হওয়া একটি শোচনীয় স্বাস্থ্য সমস্যা যা দীর্ঘমেয়াদি হলে আরও জটিল রোগের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই প্রস্রাবের সময় অস্বাভাবিক কিছু অনুভূত হলে গরম পানিতে গোসল এবং উষ্ণ সেক দেয়া, তরল পুষ্টিকর খাদ্য ও পানীয় পান করা প্রয়োজন। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
Resources:

Dr. Khatun invites you to join her in this journey with City Homeo. Your engagement and encouragement are crucial in advancing this endeavor. Together, we can strive towards a healthier community and a better tomorrow.





