সিফিলিস এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা – সিফিলিস রোগটা দেখতে খুব ছোট কিন্তু এই রোগটা এমন ভয়াবহ আকার ধারণ করে যে আগামী প্রজন্মকে এ থেকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই সিফিলি রোগ থেকে যদি মুক্ত না হন তাহলে বংশানুক্রমে দিনকে দিন এটা চলতেই থাকবে।
যেমন আপনার থেকে আপনার স্বামী বা আপনার স্বামীর থেকে আপনি বা আপনার থেকে আপনার সন্তান, এভাবে আক্রমণ শুরু হবে। তাই সিফিলিস রোগটা নির্মূল করা একান্ত দরকার। অতএব চলুন জেনে নেয়া যাক এই সিফিলিস রোগটা কি, এই রোগটি নির্মূলের জন্য আপনারা কি কি ঔষধ প্রয়োগ করবেন।
কেন হয় এবং সিফিলিস রোগের লক্ষণ সমূহ, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব, আমি আশা করি, আপনারা সবসময় আমার পাশে থাকবেন। চলুন আলোচনা শুরু করা যাক।আসুন জেনে নেই কি কি টপিক নিয়ে আলোচনা করব-
দেখবেন মহিলাদের গোপনাঙ্গে বা অনেকটা গোপনাঙ্গের ভিতরে এক প্রকার সাদা স্রাব হয়। এটা দীর্ঘদিন চলতে থাকে, সাদা স্রাব টা যদি ঘসে তুলে দেন, দেখবেন একপ্রকার ঘামাচির মত চর্মরোগ দেখা যাবে।
সেখানে ভয়ানক চুলকায় এবং চুলকাতে চুলকাতে ছিড়ে ফেলে, সেখানে ক্ষত সৃষ্টি করে ফেলে। যখন প্রস্রাব করতে যায়, প্রস্রাব যখন লাগে বা পানি লাগে এক প্রকার জ্বালা অনুভূত হয়। তা ভীষণ কষ্টদায়ক। এই অবস্থা কে আমরা বলি সিফিলিস ঘা।
সিফিলিস (Syphilis) একটি যৌনবাহিত রোগ (STD), যা সাধারণত ব্যাকটেরিয়া ট্রেপোনিমা প্যালিডাম (Treponema pallidum)এর মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। পুরুষদের মধ্যে সিফিলিসের লক্ষণগুলি সাধারণত সংক্রমণের পর্যায় অনুযায়ী ভিন্ন হয়।
সিফিলিসরোগেহোমিওপ্যাথিঔষধ
জিনগত যে চর্মরোগ বা সিফিলিস রোগ সে রোগটা যখন আগামী প্রজন্মে বা আপনার মধ্যে দেখা যায় বা পরবর্তী প্রজন্ম হিসেবে আপনার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তখনই রোগটাকে আমরা বলি সিফিলিস বা সিফিলিস ঘা। তাহলে এই চর্মরোগ বা সিফিলিস আপনারা কিভাবে মুক্ত হবেন।
এখানে আনুমানিক কয়েকটা ঔষধ নিয়ে আলোচনা করা হলো। আসলে একজন প্রকৃত হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার জানে রোগীকে কোন ঔষধটা দিতে হবে। রোগীকে এমনও দেখা গেছে আমি সিফিলিস রোগীকে, আর্নিকা ঔষধ দিয়ে প্রায় ৭০% ভালো করেছি। বাকিটুকু ধাতুগত ঔষধ দিয়ে সম্পূর্ণ ভালো হয়েছে।আসুন জেনে নেই সিফিলিস রোগে হোমিওপ্যাথি ঔষধগুলো কি কি?
Psorinum/ সোরিনাম
Mercurius Iodatus/ মার্কবিনআয়োড
Arsenicum album/আর্সেনিক
Lycopodium clavatum/ লাইকোপডিয়াম
Bellis Perennis/ বেলিসপেরেনিস
Calcarea floor/ ক্যালকেরিয়াফ্লোর
Pulsatilla/ পালসেটিলা
Arnica Montan/ আর্নিকা
Hydrastis/ হাইড্রাসটিস
Kali Bichromicum/ ক্যালিবাইক্রোমিকাম
Thuja orientalis/ থুজা
Nitric acid/ নাইট্রিকএসিড
Hepar Sulphuris/ হিপারসালফার
Lachesis / ল্যাকেসিস
Stillingia/ স্টিলিঞ্জিয়া
Phosphoric Acid/ ফসফরিকএসিড
Merc cor / মার্ককর
Penicillin/ পেনিসিলিন
Merc Sol/ মার্কসল
Aurum Metallicum/ অরামমেট
Viola tricolor/ ভায়োলা ট্রিকোলার
stillingia silvatica/ স্টিলিংজিয়া সিলভাটিকা
Phosphorus/ ফসফরাস
AnthrakoKali/ অ্যানথ্রাকোকালি
Sulphur
সালফার: ঔষধটি একটি এন্টিসোরিক ঔষধ।দেখা গেল কিছু দূর ভালো হয়ে আর কিছুতেই ভালো হচ্ছে না রোগটা। প্রস্রাব করতে গেলে ভীষণ প্রকৃতির জ্বালা থাকে, ঘামাচির মত চর্মরোগ তো থাকেই। গোসল করার পর ভীষণভাবে বৃদ্ধি পায় এই চুলকানি ও জ্বালাপোড়া। শারীরিক এবং মানসিকভাবে রোগী নোংরা প্রকৃতির।
Psorinum
সোরিনাম: সালফারের যখন কাজ না হয় এমন রোগটি যদি এই ভালো হয়ে আবার বার বার ফিরে আসে আর রোগী যদি সর্ব দিক থেকে নোংরা এবং শীতকাতর হয় গরমের দিনে মাথাটা ঢেকে রাখে তখন এই ঔষধটি আমরা সিফিলিস রোগে প্রয়োগ করতে পারি।
Mercurius Iodatus
মার্কবিনআয়োড: পুরাতন পুঁজ সঞ্চয়ী বাগী। কঠিন সিফিলিস ক্ষত। গন্ডমালা ধাতু গ্রস্ত ব্যক্তিদের পুরাতন সিফিলিস রোগ। ডিপথেরিয়া এবং ক্ষতযুক্ত গলা ব্যথায় বিশেষ উপকারী। চামড়ায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফাটাফাটা ফাটল দাগ, শক্ত গুটা, কঠিন এবং কিনারা গুলো ক্ষত যুক্ত।
সিফিলিস ক্ষত, বাগী, কঠিন সিফিলিস, টিউমার। গ্রন্থি ফুলে, গায়ে বিশেষত্ব মুখে তাম্র বর্ণের এক প্রকার উদ্ভিদ বের হয়। দেহ যখন প্রচুর শীর্ণ হয়ে পড়ে- এই ঔষধটি প্রয়োগ করতে হয়।
Thuja orientalis
থুজা: সাধারণত নাইট্রিক এসিডের পর এটি দেওয়া হয়। লিঙ্গে ক্ষত ও তা থেকে রক্ত স্রাব, ক্ষতগুলো গোলাকার, উন্নত: ও অপরিষ্কার, ক্ষতের চারিধারে লাল আঁচিলের মত ভাব। এর প্রধান কাজ চর্ম, রক্ত, পাকাশয় অন্ত্রপ্রদেশ, মূত্রগ্রন্থি এবং মস্তিষ্কের উপর।
শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী ও চর্মের উপর ডুমুরের মত মাংসপিণ্ড এবং শ্লেষ্মার্বুদ(Mucosal cancer)। ক্রনিক গনোরিয়া এবং টিকার কুফলে এর ব্যথা, লিঙ্গমনির শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীর প্রদাহ, অণ্ডকোষের পুরাতন স্ফীতি। বৃন্ত যুক্ত টিউমার। মাংসময় টিউমার। ডিম্বকোষ প্রদাহ, যোনি পথের প্রদাহ ও স্পর্শকাতরতার ভাব। যোনি স্থানে আঁচিলের মত মাংস বৃদ্ধি।
Nitric acid
নাইট্রিকএসিড: পারদ অপব্যবহারের পর চমৎকার হয় ফল দেয়। ক্ষতের কিনারা আঁকাবাঁকা, উন্নত, স্পর্শে অত্যধিক ব্যথাযুক্ত, ক্ষতের পরিসর বৃদ্ধি পাওয়া, প্রচুর রক্ত পড়া, ক্ষত কর স্রাব, নাসিকায় ক্ষত, বাগীতে পুঁজ হবার উপক্রম, মাথা ঘোরা, চর্মে কালো দাগ, চুল উঠা।
কাটা ফুটার মত খোঁচানোবোধ ব্যাথা থাকে, বিশেষ করে প্রস্রাব করার সময় এবং সাদা স্রাব যেখানে লাগে সেখানে ছিলে যায়। লিঙ্গত্বকে এবং লিঙ্গমুণ্ডে ক্ষতবৎ ব্যাথা ও জ্বালা। ক্ষতে অত্যন্ত জ্বালা এবং হুল ফোটানো ব্যাথা, দুর্গন্ধ যুক্ত স্রাব নির্গত হয়।
স্ত্রী যোনির বাইরে ক্ষত এবং ব্যথাযুক্ত। যোনির স্থানের চুল পড়ে যায়, জরায়ু হতে রক্ত স্রাব, ঋতু স্রাব নিয়মিত সময়ের পূর্বে, প্রচুর ও ঘোলা জলের ন্যায়। ক্ষত স্থান হতে অনায়াসে রক্তপাত ইত্যাদি লক্ষণে এটি উপযুক্ত।
সিফিলিস এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
Hepar Sulphuris
হিপারসালফার: পারদাদি অপব্যবহারের পর প্রতিষেধক রূপে এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ক্ষতের চারিদিকে উন্নত এবংতা হতে সহজে রক্ত পড়ে, অস্থিতে ব্যাথা, লিঙ্গের মধ্যে চুলকানি, লিঙ্গ হতে পুঁজ স্রাব। প্রাতে পীড়ার বৃদ্ধি।
পুঁজসঞ্চয় প্রবণতা, দুষ্ট নালী ক্ষতে পুঁজ জন্মে। ফোঁড়া, পুঁজ সঞ্চিত গ্রন্থিতে, অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ফোঁড়া পাকে এবং চারিদিকে ছড়াতে থাকে। রোগ প্রবণ চর্ম, সামান্য আঘাতেই পেকে উঠে। হাতে পায়ে গভীর ফাটল, ক্ষতে জ্বালা কর ব্যথা।
Lachesis
ল্যাকেসিস: পচনশীল ও গলিত ক্ষত, পারদের অপব্যবহার, গলা মধ্যে ক্ষত স্পর্শ করলে ব্যাথা, চোখের সাদা অংশে হরিদ্রাবর্ণ আভা, নাসিকার অগ্রভাগ লাল বর্ণ এবং তার উপরে মামড়ি যুক্ত ক্ষত।
স্ত্রীলোকদের অতিশয় কাম প্রবৃত্তি, রাত্রে এবং নিদ্রার পর লক্ষণ বৃদ্ধি। রক্ত বিষাক্ততা, ডিপথেরিয়া ও অন্যান্য ধীর গতি রোগ, সারা দেহটি বিষাক্ত হয়ে পড়ে। এই ঔষধটি হ্রাস বৃদ্ধি বিশেষ মূল্যবান। চর্ম উষ্ণ। ফোঁড়া, কার্বাংকল, ক্ষত, রক্ত দুষ্টি, শয্যাক্ষত।
Stillingia
স্টিলিঞ্জিয়া: সিফিলিস এর কারণে বাত, নাসিকার মধ্যে পচা ক্ষত, হাড়ের উপরের চামড়া জ্বালা। হাড়ের পুরাতন বাত, সিফিলিস ও গণ্ডমালা ধাতু জনিত রোগে এটি বিশেষ উপকারী।
যকৃতের ক্রিয়াহীনতা, তার সাথে জন্ডিস রোগ ও কোষ্ঠকাঠিন্য। ক্ষত, হাতে ও আঙ্গুলে পুরাতন উদ্ভেদ। পায়ে জ্বালা ও চুলকানি। বাতাস লাগলে বৃদ্ধি৷ টনসিলাইটিস সেকেন্ডারি সিফিলিসে অত্যন্ত কার্যকরী একটি ঔষধ।
Phosphoric Acid
ফসফরিকএসিড: ক্ষতটি অসম এবং রোগী দুর্বল প্রকৃতি যুক্ত হলে এবং সহজে আরোগ্য না হলে এটি প্রয়োগ করতে হয়। এররূপ ক্ষেত্রে অনেক সময় লাইকোপডিয়াম দ্বারা বিশেষ ফল পাওয়া যায়। এসিড সমূহের দুর্বলতা লক্ষণটিই বেশী পরিস্ফুট।
জ্বরের পর ফোঁড়া হবার প্রবণতা। ক্ষত, হাতে অত্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ। জ্বালাকর রক্ত বর্ণ উদ্ভেদ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিপীলিকা চলার ন্যায় বোধ। চুল পড়ে যায়। রাত্রে ও প্রাতে প্রচুর ঘাম ইত্যাদি লক্ষণ।
Arsenicum album
আর্সেনিক: পচনশীল ক্ষত, ক্ষত হতে রক্ত ও দুর্গন্ধ যুক্ত রস পড়ে, ক্ষতের বর্ণ কালো ও জ্বালাকর ইত্যাদি লক্ষণে উপযোগী। চুলকানি, জ্বালা যুক্ত চর্ম। শুষ্ক ও খসখসে আঁইশ যুক্ত চামড়া। ঠাণ্ডায় ও চুলকালে বৃদ্ধি। হাত পায়ে কম্পন ভাব, দুর্বলতা ও ভার বোধ।
গোড়ালিতে ক্ষত, চর্মে উদ্ভেদ ও পীড়কা। অস্থির ভাব, রাত্রিকালীন বৃদ্ধি, সামান্য পরিশ্রমেই অপসন্ন হয়ে পড়ে। রোগী অনবরত স্থান পরিবর্তন করে। রক্ত দৃষ্টি অবস্থা তার সাথে জীবনী শক্তি অত্যন্ত দুর্বল। মৃত্যু ভয় এবং গন গন জল পান।
Merc cor
মার্ককর: লিঙ্গ ও অণ্ডকোষ অত্যন্ত স্ফীত। সিফিলিস ক্ষত, ক্রমেই বৃদ্ধি হতে থাকে,গনোরিয়া, মূত্রপথ লাল ও স্ফীত, লিঙ্গমুণ্ড উষ্ণ ও ব্যথাযুক্ত। স্রাব সবুজাভ ও ঘন। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ক্ষতে চুলকানি, রক্তযুক্ত পুঁজ স্রাব, অত্যন্ত ব্যথা।
ক্ষতের মধ্যে সাদা সরের ন্যায় আবরণ, সিফিলিসসহ গনোরিয়া ও বাগী এবং নানা প্রকার চর্মরোগ লক্ষণে এটি উপযোগী।সামান্য হাওয়া লাগলেই শীত শীত ভাব। প্রচুর ঘাম ও প্রচুর পিপাসা।
Penicillin
পেনিসিলিন: ঔষধটি সিফিলিস জাতীয় ক্ষতে অব্যর্থ। হোমিওপ্যাথিক মতে প্রস্তুত পেনিসিলিন ব্যবহারে সিফিলিস ক্ষত কয়েক দিনের মধ্যেই পরিষ্কার হয় তবে। এর উচ্চ শক্তি ব্যবহার বারণ নয়।
Syphilinum
সিফিলিনাম: সিফিলিস বিষ হতে প্রস্তুত নোসোড ঔষধ। মুখ, নাক, চর্ম ও জনন ইন্দ্রিয়ে ক্ষত। একটার পর একটা ফোঁড়া উঠে। স্ত্রীযৌনাঙ্গের ভগৌষ্ঠের(vulva) উপর ক্ষত, প্রদর-স্রাব। পাতলা, পানির মতো পাতলা, ক্ষতকর তার সাথে ডিম্বাশয়ে তীক্ষ্ণ ছুরি বিদ্ধ খোঁচামারা ব্যথা।
চর্ম লালাভ বাদামী বর্ণ ফুসকুড়ি তৎসহ বিশ্রী গন্ধ, অত্যন্ত শীর্ণতা। সর্বদা হাত ধোয়ার প্রবৃত্তি, ক্ষত কিছুতেই আরোগ্য হয় না। মাংস পেশী গুটিয়ে শক্ত গোটায় পরিণত ইত্যাদি লক্ষণ। যদি দীর্ঘ দুই তিন বছর হয়ে যায় কিছুতেই না ছাড়তে চায়। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানার মতো চর্মরোগ।
তখন শারীরিক ও মানসিক দিক যদি সম্পূর্ণ সিফিলিনামের লক্ষণ থাকে। সিফিলিস পুরাতন অবস্থা, সিফিলিস জনিত চর্ম রোগে এবং জন্মগত সিফিলিস রোগে এটি অত্যন্ত উপকারী ঔষধ।
Merc Sol
মার্কসল: প্রথমাবস্থায় এটি একটি উপযুক্ত ঔষধ। এই ঔষধে দুই সপ্তাহের মধ্যে রোগ লক্ষণ কমতে থাকে। পীড়ার দ্বিতীয় অবস্থায় পুঁজ উৎপন্ন হয়ে ক্রমশ চারিদিকে বৃদ্ধি, মুখ ও গলার ভিতর জ্বালা, ক্ষতের কিনারা কঠিন।
সাদা স্রাব টা মোটা থল থলে থাকে এবং প্রচুর চুলকায় যেখানে জমে থাকে। মধ্যভাগ কোমল ও হলদে লেপ যুক্ত, দুর্গন্ধ পুঁজ স্রাব, সহজে রক্ত পড়ে, মাঢ়ীতে ক্ষত, দাঁত ব্যথা ইত্যাদি লক্ষণ। মার্কারি বা পারদকে এই রোগের প্রধান ঔষধ বললেও অতিরিক্ত বলা হয় না।
রোগ যদি ভয়ংকর রূপ নেয় তবে মার্কবিন আয়োড প্রযোজ্য। যেকোন ক্ষেত্রেই এটি উপকারী। রোগীর সাথে লক্ষণ মিলিলে এটিই হবে স্পেসিফিক ঔষধ।
Aurum Metallicum
অরামমেট: পারদ ও সিফিলিস দোষযুক্ত ক্ষত এর ব্যবহার উপযোগী। গণ্ডমালা ধাতু এবং সিফিলিস দোষে স্বর্ণ প্রাচীন কাল হতেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অণ্ডকোষের স্ফীতি ও বৈদনা, অণ্ডকোষের পুরাতন কাঠিন্য, শিশুদের অণ্ডকোষ শুকিয়ে যায়, টেস্টিকুলার এট্রোপি রোগ।
সিফিলিস দ্বিতীয় অবস্থার ন্যায় অস্থিময়, ক্ষত গ্রস্ত অস্থিতে ব্যথা। খোলা হাওয়ায় উপশম এবং রাত্রে বৃদ্ধি। সিফিলিস জনিত অস্থিপীড়া বিশেষ করে নাকে ও তালুর অস্থিতে ক্ষত, হতে পচা দুর্গন্ধ এবং স্রাবও দুর্গন্ধ যুক্ত। আক্রান্ত স্থানের যন্ত্রণা রাত্রে বৃদ্ধি।
Viola tricolor
ভায়োলা ট্রিকোলার: লিঙ্গাগ্রের চর্ম স্ফীত, লিঙ্গমনিতে জ্বালা, চুলকানি চর্ম দল, অসহ্য চুলকানি মুখমণ্ডল ও মস্তকে ফুসকুড়ি, তাতে জ্বালা পোড়া, চুলকানি, রাত্রে বৃদ্ধি, পুরু মামড়ী পড়ে, তা ফেটে হলুদ বর্ণের চটচটে পুঁজ বের হয়।
মুখে চামড়ার মতো একজিমা, সাইকোসিস রোগ গ্রস্ত। মুখের তালুতে ও গল মধ্যে ক্ষত, সিফিলিস বশত স্বরভঙ্গ। বগলে স্তনে ও যোনি দ্বারে ফুসকুড়ি ইত্যাদি লক্ষণে এটি বিশেষ উপকারী।
stillingia silvatica
স্টিলিংজিয়া সিলভাটিকা: প্রস্রাব বর্ণহীন, প্রস্রাবে সাদা তলানি পরে, প্রস্রাব দুধযুক্ত এবং ঘন। সেকেন্ডারি সিফিলিসে অত্যন্ত কার্যকরী একটি ঔষধ।
সিফিলিসরোগেরলক্ষণ
সিফিলিস সংক্রামিত হলে দীর্ঘকাল বা আজীবন এর ক্ষতির ফল ভোগ করতে হয়। অতএব এই জাতীয় রোগে আক্রান্ত রোগীকে অতি সতর্কতার সঙ্গে চিকিৎসা করতে হয়। এই রোগজীবাণু সংক্রমণের মুহূর্ত হতে যতদিন পর্যন্ত ক্ষত প্রকাশ লাভ না করে ততদিন পর্যন্ত এটাকে ইনকিউবেশান ষ্টেজ বলে ।
অর্থাৎ সিফিলিস রোগের অপ্রকাশ অবস্থাকে incubation stage বলে। এই অবস্থায় স্থিতিকাল ২০ হতে ৯০ দিন পর্যন্ত হতে পারে। এই অবস্থার রোগীর দেহে কোন লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা যায় না। এই সুপ্ত অবস্থার পরে রোগের তিনটি অবস্থা ধীরে ধীরে প্রকাশ লাভ করে থাকে।
যথা – প্রাথমিক অবস্থা, গৌণ অবস্থা বা দ্বিতীয় অবস্থা এবং তৃতীয় অবস্থা। প্রাথমিক অবস্থায় স্থানটি খুব চুলকায়, ফাটা মত দেখায় পরে একটি কঠিন পুঁজহীন গোলাকার ক্ষতে পরিণত হয়। ক্ষতটির চারিধার উঁচু ও শক্ত থাকে, মধ্য ভাগ গভীর হয়।
দ্বিতীয় অবস্থায় ক্ষত উৎপন্ন হয়ে ২/৩ মাস পরে রোগীর জ্বর ভাব, দুর্বলতা, মাথা ব্যথা রক্তহীনতা, চর্মে বিভিন্ন রকমের ফুসকুড়ি প্রভৃতি প্রকাশ পায়।
তৃতীয় অবস্থায় যদি উপযুক্ত চিকিৎসা হয় তবে দ্বিতীয় অবস্থায় লক্ষণগুলো আর প্রকাশ লাভ করে না। নতুবা শরীর তন্তু রস রক্ত অস্থি, মাংস এবং আভ্যন্তরীণ যন্ত্র আক্রান্ত হয়।
এটি চারটি অবস্থায় দেখা যায়।
প্রাথমিক, গৌণ, সুপ্ত, এবং তৃতীয় অবস্থা। নিচে প্রতিটি অবস্থার লক্ষণ ব্যাখ্যা করা হলো:
১. প্রাথমিকঅবস্থা (Primary Stage):
সংক্রমণের ৩-৯ সপ্তাহের মধ্যে একটি ছোট, ব্যথাহীন ক্ষত (chancre) দেখা যায়। সাধারণত ক্ষতটি যৌনাঙ্গ, মলদ্বার বা মুখে হয়। এটি নিজে থেকেই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়, তবে এটি ছেড়ে যাওয়া মানেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছে ব্যাপারটা তা না।
২. গৌণঅবস্থা (Secondary Stage):
ক্ষত সেরে যাওয়ার পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ত্বকে ফুসকুড়ি (rash) দেখা দিতে পারে,এটা হাতের তালু এবং পায়ের তলায় হতে পারে। সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা, মাংসপেশির ব্যথা, ক্লান্তি এবং জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। মুখ বা যৌনাঙ্গে সাদা দাগ বা ঘা হতে পারে।
৩. সুপ্তঅবস্থা (Latent Stage):
এই অবস্থায় কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ থাকে না, তবে ব্যাকটেরিয়া শরীরে সক্রিয় থাকে। এটি কয়েক বছর স্থায়ী হতে পারে।
৪. তৃতীয়অবস্থা (Tertiary Stage):
চিকিৎসা না করা হলে, এটি হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক, স্নায়ু, এবং অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গে গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। লক্ষণগুলো হতে পারে মানসিক বিভ্রান্তি, প্যারালাইসিস, দৃষ্টি বা শ্রবণ শক্তি হ্রাস, এবং মারাত্মক অঙ্গহানি।
সিফিলিস এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
সিফিলিস রোগটিকেনহয়
আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে সঙ্গমে এই রোগ সৃষ্টি হয়। আক্রান্ত স্থানের প্লাবিত রসের সংক্রামক পর্দাথ্য রোগ আক্রান্ত ব্যক্তি হতে অন্যের শরীরে প্রবেশ করে।
সিফিলিস ফিরিঙ্গিরা এই রোগ এদেশে এনেছিল বলে এর নাম ফিরিঙ্গি রোগ। আমাদের দেশে এটাকে গর্মী রোগ বলে। ইংরেজিতে ভ্যানেরাল ডিজিজ বলে। সিফিলিস ক্ষতকে chancre বলে।
ক্ষতটি যদি কঠিন আকারে প্রকাশ পায় তাহলে এটা কঠিন ক্ষত বা hard chancre বলে। কমল হলে এটাকে কোমল ক্ষত বা soft chancre বলে। কঠিন ক্ষত বা hard chancre সর্বাঙ্গের রক্ত দূষণ ঘটে না।
বিভিন্ন ভাবে এটা ছড়িয়ে পড়ে স্বামী থেকে স্ত্রীর, স্ত্রীর থেকে স্বামী আবার মা থেকে শিশু, পূর্বপুরুষ হতে বাবা ,দাদা এভাবে বংশানুক্রমে।
তাছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির লালা, মলমূত্র ও স্তন্য প্রভৃতির দ্বারা অন্য শরীর আক্রান্ত হতে পারে। পিতা মাতার থাকলে তা হতে সন্তানদের এই রোগ হতে পারে। এটাকে বংশগত সিফিলিস বলে। অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তির জামা কাপড় পরলেও এ রোগ হতে পারে।
আক্রান্ত রোগীর কোন ইনজেকশন যদি সুস্থ মানুষ এর শরীরে ব্যবহার হয় তাহলেও হতে পারে, আবার চুম্বনের মাধ্যমে লালা থেকেও হতে পারে।
তাছাড়া এমনও হতে পারে কোন সিফিলিসের রোগী যদি কোন জায়গায় প্রস্রাব করে তার উপরে যদি কোন সুস্থ মানুষ প্রস্তাব করে ,সেখানে প্রশ্রাব থেকে যে একটা গ্যাস হয়, সে গ্যাসটা লেগেও সিফিলিস আক্রান্ত হতে পারে।
পুরুষদের সাধারণত পেনিসে বা লিঙ্গমুন্ডে, মূত্রদ্বারে বা লিঙ্গে এবং স্ত্রী লোকের যোনিতে, মূত্রনালীতে, জরায়ুর গ্রীবায় এই রোগ হতে দেখা যায়। শিশুদের চোখে, মুখের ভিতরে।
যেখানে শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী সেখানেই রোগ হতে দেখা যায়। এমনকি শরীরে চামড়াতেও, চামড়াতে হলে চুলকানি থাকে না। তামাটে বা বাদামি বর্ণের দাগ দেখা যায়।
সিফিলিসটেস্টকিভাবেকরব
সিফিলিস (Syphilis) শনাক্ত করার জন্য বিভিন্ন ধরণের টেস্ট করা হয়। সাধারণত রক্তের নমুনা নিয়ে এই রোগ নির্ণয় করা হয়। নিচে সিফিলিস এর অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিছু টেস্ট নিয়ে আলোচনা করা হলো:
স্ক্রিনিংটেস্ট
VDRL (Venereal Disease Research Laboratory) এটি একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা যা সিফিলিসে আক্রান্ত হলে শরীরে অ্যান্টিবডি উপস্থিতি শনাক্ত করার জন্য দরকার হয়।
RPR (Rapid Plasma Reagin) এটি VDRL সিফিলিসের একটি টেস্ট, এই টেস্টে দ্রুত রেজাল্ট পাওয়া যায়।
নিশ্চিতকরণটেস্ট
FTA-ABS (Fluorescent Treponemal Antibody Absorption Test)সিফিলিসের উপস্থিতি নির্দিষ্ট করতে এটি একটি বিশ্বাসযোগ্য পদ্ধতি।
TPPA (Treponema Pallidum Particle Agglutination Test)সিফিলিস ব্যাকটেরিয়ার অ্যান্টিবডি নির্ণয় করতে এটি করা হয়।
ডার্কফিল্ডমাইক্রোস্কপি সিফিলিসের আলসার বা ক্ষত থেকে নমুনা নিয়ে টেস্ট করা হয়। এটি সরাসরি ব্যাকটেরিয়া দেখা যায়।
PCR (Polymerase Chain Reaction) এই টেস্ট ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিফিলিস শনাক্ত করে। এটি অত্যন্ত নির্ভুল এবং সাফল্যপূর্ণ পদ্ধতি।
সিফিলিস প্রতিরোধ
এ থেকে বাঁচার উপায় হল মেলামেশার পরে জায়গাটাকে সুন্দর করে পানি দিয়ে, সাবান দিয়ে ধৌত করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া, প্রয়োজনে লবণ গরম কুসুম গরম পানি অথবা ক্যালেন্ডুলা (Calendula officinalis)ব্যবহার করা।
ক্যালাট্রপিস(Calatropis),ক্যালেন্ডুলা (Calendula officinalis আর যদি কখনো আক্রান্ত হয়ে পড়েন তখন উপরোক্ত ঔষধ গুলো দিয়ে দিনে ২-৩ বার ধুয়ে নেওয়ার করার চেষ্টা করবেন।
এই রোগটা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে ক্রনিক রোগে রূপ নেয় এবং রোগী এমন অবস্থায় পাগল হয়ে যেতে পারে যখন এই রোগটা অপচিকিৎসায় সাপ্রেস করা হয়।
উপসংহার
আমি আশা করি ব্লগটি পড়ে ‘সিফিলিস এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা’ সম্বন্ধে ভাল ধারণা লাভ করেছেন। আমি আসলে চেষ্টা করেছি সহজে আপনাদেরকে বুঝাতে যে, সিফিলিস ভয়ঙ্কর রোগ হলেও নির্দিষ্ট সময়ে সঠিক চিকিৎসা হোমিওপ্যাথিতে করলে সুস্থ হবে ইনশাল্লাহ।
আমার এই ব্লগ যদি আপনাদের কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানান অথবা যে টপিক সম্পর্কে জানতে চান অনুগ্রহপূর্বক আমাকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন,সোশ্যাল মিডিয়াতে অথবা আমার পেজে। আমি চেষ্টা করব আপনাদের মনের মত করে উত্তর দেওয়ার জন্য। নিয়মিত আরো বিভিন্ন বিষয়ে আর্টিকেলগুলো পেতে হলে অবশ্যই আমার ওয়েবসাইটে ভিজিট করবেন। ধৈর্য ধরে এতক্ষণ আমার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
Dr. Khatun invites you to join her in this journey with City Homeo. Your engagement and encouragement are crucial in advancing this endeavor. Together, we can strive towards a healthier community and a better tomorrow.